মৌনী অমাবস্যার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল? শুধুই কি দুর্ঘটনা ছিল নাকি ছিল এর পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র?
ষড়যন্ত্র নাকি বিপর্যয়! সেদিন ঠিক কী হয়েছিল মহাকুম্ভ চত্বরে? গত ২৯ জানুয়ারি ঘটা পদপিষ্টের ঘটনায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ। আর সত্য সন্ধানী হতেই যড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে তারা। এমনটাই গোপন সূত্রে খবর।
উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) মহা কুম্ভে সঙ্গমের কাছে ঘটে যাওয়া পদদলিতের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে, যাতে ৩০ জন ভক্ত নিহত হন এবং ৬০ জন আহত হন। পুলিশ সন্দেহ করছে যে, এটি ইচ্ছাকৃত ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। কিন্তু এরকম মারাত্মক ষড়যন্ত্র কে বা কারা করে থাকতে পারেন? তারই সন্ধান চালাচ্ছে গোয়েন্দা বিভাগ।

গত বুধবার মৌনী অমাবস্যা অমৃত স্নানের সময় ঘটে যায় ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা। যাতে প্রাণ হারান ৩০ জন নিরীহ ভক্ত। যদিও সেই সংখ্যা নিয়েও শুরু হয়েছে একাধিক বিতর্ক। এর মধ্যে পুলিশের বিশেষ টিম ঘটনার তদন্তে নেমেছে। পদদলিতের পর পুলিশের সন্দেহ হয় যে এটি শুধু দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রও হতে পারে। তাই তদন্তে নেমে হাজার হাজার মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ১৬,০০০ নম্বর যেগুলো ঘটনার রাতে সক্রিয় ছিল, কিন্তু পরে বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। Face Recognition প্রযুক্তির সাহায্যে সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থলের ছোট ব্যবসায়ী ও বিক্রেতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, একদল যুবককে খোঁজা হচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে ভক্তদের ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা এই প্রসঙ্গে জানান, "আমরা ষড়যন্ত্রের কোণ থেকেও তদন্ত করছি। কিছু প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন যে, কিছু যুবক ভিড়ের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল"।
আপাতত, এই ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি আগামী দিনগুলিতে যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তাও নজরে রাখছে প্রশাসন। কেননা, সোমবার বসন্ত পঞ্চমীর তৃতীয় অমৃত স্নানের সময় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। তদন্তের গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ নিশ্চিত করতে চায় যে, মহা কুম্ভের পরবর্তী আয়োজনগুলো যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সম্পন্ন হয়।












Click it and Unblock the Notifications