মধ্যপ্রদেশে ক্ষমতা দখল নিশ্চিত হতেই নতুন প্রশ্ন, বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কে? সিন্ধিয়ার কথায় নতুন জল্পনা
মধ্যপ্রদেশে কমলনাথের সূত্রপাত ঘটে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার কগ্রেস ত্যাগের মাধ্যমেই। এবার বিজেপির হাতের মুঠোয় ক্ষমতা চলে আসতেই প্রশ্ন উঠেছে। তবে কী মুখ্যমন্ত্রিত্ব পেতে চলেছেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। যদিও স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতিতে রাজ্যপালের কাছে বিজেপির সরকার গঠনের দাবি জানাতে যাওয়ার কথা শিবরাজ সিং চৌহান।

বিজেপির পথ আরও মসৃণ করে দেন কমলনাথ
ফ্লোর টেস্টের কয়েক ঘণ্টা আগেই হার স্বীকার করে নিয়ে বিজেপির পথ আরও মসৃণ করে দিয়েছিলেন কমলনাথ। ফ্লোর টেস্টে হার নিশঅচিত জেনে আগেভাগেই রাজ্যপালের কাছে গিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন কমলনাথ। আর এর সাথেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে ১৫ মাসের বিরতির পর ফের মধ্যপ্রদেশে ক্ষমতা দখলে আসতে চলেছে শিবরাজ সিং চৌহানের কাছে।

সিন্ধিয়া দল ছাড়তেই তাঁর অনুগামীরা দল ছাড়েন
এর আগে সিন্ধিয়া দল ছাড়তেই তাঁর অনুগামী হিসাবে পরিচিত ২২ বিধায়ক ইস্তফা দিয়েছিলেন। তবে সেই সব ইস্তফা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে টালবাহানা দেখা গিয়েছিল। তবে ২২ জনের মধ্যে ৬ জন বিধায়কের ইস্তফা গ্রহণ করেছিলেন অধ্যক্ষ। বাকি ছিলেন ১৬। অবশ্য সুপ্রিম নির্দেশের চাপে সেই বাকি বিধায়কদের ইস্তফাও গ্রহণ করেন অধ্যক্ষ। আর এরপরই কংগ্রেসের সরকারের পতন নিশ্চিত হয়ে যায়।

কী বললেন সিন্ধিয়া?
এদিকে কমলনাথের পদত্যাগের পরই মুখ খোলেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তিনি এদিন বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে মধ্যপ্রদেশে আমরা এক শক্তিশালী সরকার গড়ব। আমরা জনসেবায় নিয়োজিত থাকবে। আমি কোনও পোস্ট বা পদাধিকারের পিছনে যাই না। আমি বিগত ২০ বছর ধরে তাই করে আসছি। দলই সিদ্ধান্ত নেবে যে সরকারের মুখ্যমন্ত্রী কে হবে।' এই শেষ বাক্যটাই ইঙ্গিতবহ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের নিয়ে বিজেপি-কংগ্রেস টানাপোড়েন
বিজেপির পথে যে তিনি পা বাড়িয়ে দিয়েছেন তা স্পষ্ট হয়ে যায় হোলির দিন সকালেই। মঙ্গলবার সকাল সকাল প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে যান প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধ্যা। সিন্ধিয়া যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মোদীর বাসভবনে ঢোকেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। জল্পনা ছিল আগেই। তবে এই ছবি সামনে আসতেই আর সব সন্দেহ চলে যায়। এর পরপরই কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেন সিন্ধিয়া ঘনিষ্ঠ ১৯ জন বিধায়ক। পরে ইস্তফা দেন আরও বেশ কয়েকজন। মোট ২২ জন বিধায়ক কংগ্রেস ছেড়ে দেন। এদের সকলেরই পরবর্তী গন্তব্য বিজেপি বলে মনে করা হচ্ছে।

কমলনাথের পতনের সূত্রপাত
জানা যায় হোলির কয়েকদিন আগে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন জ্যোতিরাদিত্য। সেখানে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। সেখানেই নাকি শিবরাজ সিং চৌহান মধ্যপ্রদেশের এই অস্থির অবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবগ করেছিলেন। যার পর জ্যোতিরাদিত্যর বিজেপিমুখী হওয়ার রাস্তা আরও প্রসরিত হয়। পাশাপাশি কমলনাথের দিনও ঘনিয়ে আসতে থাকে।












Click it and Unblock the Notifications