Delhi Service Bill: দিল্লি পরিষেবা বিল কী? কীভাবে তা দেশের রাজধানীর শাসনকে প্রভাবিত করবে?
Delhi Service Bill: লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও পাশ হয়ে গেল দিল্লি সার্ভিস বিল। অভিযোগ উঠলেও, রাজ্যসভায় অনুমোদনের পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছেন, এই বিল সুপ্রিম কোর্টের আদেশকে লঙ্ঘন করছে না। তবে বলাই যায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধের কারণে এই বিল লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাশ করানো হল।
সোমবার ৭ অগাস্ট দিল্লি সার্ভিস বিল লোকসভার পরে তা রাজ্যসভায় পাশ করানো হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এতে স্বাক্ষর করলেই তা আইনে পরিণত হবে। রাজ্যসভায় বিল পাশের পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বিল নিয়ে যেসব প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তার সবই রাজনৈতিক, যার সাংবিধানিক কোনও ভিত্তি নেই।

দিল্লির পরিষেবা নিয়ে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব অনেক দিনের গত ১১ মে সুপ্রিম কোর্টের রায় যায় দিল্লির সরকারের পক্ষে। রায়ে আইনশৃঙ্খলা, জমি ও পুলিশকে বাদ দিয়ে বাকি সব পরিষেবার ওপরে দিল্লির সরকারকে নিয়ন্ত্রণ দিয়েছিল। এরপর ১৯ মে কেন্দ্রীয় সরকার অর্ডিন্যান্স জারি করে পোস্টিং, সতর্কতা ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলির ক্ষমতা দিল্লির উপ রাজ্যপালের হাতে তুলে দেয়।
ভারত সরকার এবং দিল্লির ন্যাশনাল ক্যাপিটাল টেরিটরির সরকারি আদেশে বলা হয়, জাতীয় রাজধানী হিসেবে দিল্লির বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে প্রশাসনের পরিকল্পনা আইনের মাধ্যমে করতে হবে। স্থানীয় ও জাতীয় উভয় গণতান্ত্রিক স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখার ঝুঁকি রয়েছে। যা যৌথ ও সম্মিলিত দায়িত্বের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্খাকে প্রতিফলিত করবে।
সেখানে আরও বলা হয়, বদলি পোস্টিং, সতর্কতা এবং আনুষঙ্গিক বিষয়গুলি নিয়ে দিল্লির উপ রাজ্যপালের কাছে সুপারিশ করতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী নেতৃত্বে একটি স্থায়ী কমিটি তৈরি করা হবে। তবে দিল্লির শাসক আপের তরফ থেকে আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা এবং রাজধানী শহরের আমলাতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আপ বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে।

দিল্লি পরিষেবা বিল কী?
দিল্লি পরিষেবা বিলে বলা হয়েছে জাতীয় রাজধানীর আধিকারিকদের তদন্ত ও সাসপেনশনের ভার কেন্দ্রের ওপরে থাকবে। দিল্লির উপ রাজ্যপালকে বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর নিজস্ব বিবেচনায় ক্ষমতা প্রয়োদ করার ক্ষমতা বিলে দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ক্যাপিটাল সিভিল সার্ভিসেস অথরিটি গঠন। যা দিল্লির মুখ্যসচিব, দিল্লির প্রিন্সিপাল হোম সেক্রেটারি ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করবে।
কেন বিরোধী নেতারা এর বিরুদ্ধে?
দিল্লি পরিষেবা বিল নিয়ে বিরোধীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর বলেছেন, এই বিলের মাধ্যমে সাংবিধানিক ক্ষমতার স্পষ্ট বিপর্যয় ঘটেছে। তিনি আরও বলেছেন দেশে এখন জবরদস্তিমূলক ফেডারেলিজম চলছে। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেছেন বিলটি একটি নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, যা অসংবিধানিক।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এই বিল নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, বিজেপি সর্বদা দিল্লিকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ২০১৪ সালে মোদী নিজেই বলেছিলেন তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে দিল্লিকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেবেন। কিন্তু আজ দিল্লিবাসীর পিছনে ছুরি মারা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications