রাহুল গান্ধীর সাংসদ পদ খারিজ! এরপর কী করতে পারেন কংগ্রেস নেতা
মোদী-পদবী নিয়ে মানহানির মামলায় সুরতের আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন বৃহ্স্পতিবার। আর শুক্রবার লোকসভার সচিবালয় তার সাংসদ পদ খারিজ করে চিঠি দিয়েছে। আইনজীবীদের একাংশ বলছেন, ওয়ানাডের সাংসদ দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি অযোগ্য হয়ে গিয়েছিলেন।

দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অযোগ্য
বৃহস্পতিবার রাহুল দান্ধীর বিরুদ্ধে ২ বছরে জেলের সাজা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে, সেই সাদা ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। বেশ কয়েকজন আইন বিশেষজ্ঞ বলছেন, রাহুল গান্ধীকে দোষী সাব্যস্ত করার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নিজে থেকেই অযোগ্য হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে গিয়েছিলেন।

জনপ্রতিনিধিত্ব আইনেই রয়েছে শাস্তির বিধান
উল্লেখ করা প্রয়োজন, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৯৫১-এর ৮(৩) ধারায় বলা হয়েছে, কোনও সাংসদ যে মুহুর্তে কোনও অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ন্যূনতম ২ বছরের সাজা ঘএাষণা করা হয়, তখনই তিনি সাংসদ হিসেবে অযোগ্য হয়ে যান।

লোকসভার সচিবালয়ের চিঠি
সুরাত আদালতের আদেশের ভিত্তিতে, শুক্রবার লোকসভার সচিবালয় রাহুল গান্ধীকে অযোগ্য বলে ঘোষণা করেছে। এবং চিঠিতে বৃহস্পতিবারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ওয়ানাডকে সাংসদ শূন্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে। লোকসভার সচিবালয়ের দেওয়া চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন এখন যে কোনও দিন ওয়ানাডে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করতে পারে। লোকসভার সচিবালয়ের তরফে রাহুল গান্ধীকে দিল্লিতে তাঁর সরকারি বাংলো খালি করতে বলা হয়েছে।

আইনজীবীরা কী বলছেন
এব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করে বিজেপি। বিশিষ্ট আইনজীবী মহেশ জেঠমালানি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, আইনের পথেই রাহুল গান্ধীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহমত প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিবাল। তিনি বলেছেন, দুবছরের জেলের সাজা ঘোষণার সঙ্গেই রাহুল গান্ধী সাংসদ হিসেবে অযোগ্য হয়ে গিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আদালত সাজা স্থগিত করলেও তা যথেষ্ট হবে না। সাজার ওপরে স্থগিতাদেশ থাকলেই তিনি সাংসদ হিসেবে থাকতে পারবেন বলে জানিয়েছেন। আর এই নিম্ন আদালতের রায় যদি কোনও উচ্চ আদালত বাতিল না করে তাহলে রাহুল গান্ধী আদামী আট বছর কোনও নির্বাচনে লড়াই করতে পারবেন না।

এখন কী করতে পারেন রাহুল গান্ধী
রাহুল গান্ধী নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চ আদালতে যেতে পারেন। কংগ্রেস নেতারা লোকসভার সচিবালয়ের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন করেছে। তাঁরা বলছেন, শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতিই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণা করতে পারেন।
কংগ্রেসের সূত্র অনুসারে, তারা এই রায়কে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে চলেছে। সেখানে সাজা স্থগিত কিংবা আদেশ স্থগিত করার আবেদন গ্রহণ না করা হলে তারা বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করবেন।












Click it and Unblock the Notifications