বাজেট পেশের আগে কৃষিক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজন পরিকল্পনার, সেগুলি কী কী?
ভারতের কৃষি খাত অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা দেশের গ্রস ভ্যালু অ্যাডেডের (GVA) ১৮% অবদান রাখে এবং ৪৬% জনসংখ্যার কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে। তবে, বিশ্বব্যাপী কৃষি উৎপাদনে ১১% অংশীদারত্ব থাকলেও, ভারতের কৃষি পণ্য রপ্তানি মাত্র ২-৩%। ফলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হওয়া সত্ত্বেও কৃষকদের অবস্থা আজ এখনও খারাপ। এদেশে কৃষিকাজ এখনও কর্মক্ষেত্রের তালিকাতে অনেক নিচে রয়েছে। তাই কৃষিখাতকে শক্তিশালী করতে হবে। আর সেই জন্যেই প্রয়োজন একাধিক পরিকল্পনা।
কৃষি রপ্তানির চ্যালেঞ্জ ও বর্তমান অবস্থা
১) নন-বাসমতি চাল রপ্তানিতে বিধিনিষেধ ও অন্যান্য কঠোর নিয়মের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে কৃষি রপ্তানি ৫% হ্রাস পেয়েছে।
২) সরকার রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনা এবং কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্র শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
৩) কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করতে আরও সংস্কারের প্রয়োজন।

ছবি সৌজন্য- pexels
উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ-
১) কৃষকদের উন্নত কৃষি প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও ফসল ব্যবস্থাপনা শেখানো।
২) বিভিন্ন শস্যের জন্য আলাদা কর্মসূচি তৈরি করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো।
৩) উন্নত কৃষি পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি।
৪) জনসংখ্যা বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে উন্নত কৃষি পরিকল্পনা।
৫) ICAR ও অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ বিতরণ।
৬) সময় মতো উন্নত মানের বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
এছাড়া বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন। যেমন -
১) কৃষকদের সঠিক সময়ে কৃষি সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা।
২) ডিজিটাল কৃষির গুরুত্ব বোঝানো ও কৃষকদের আস্থাভাজন করে তোলা।
৩) ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফসলের মূল্য, আবহাওয়া, কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের তথ্য সমস্ত কিছুই কৃষকদের জানান সম্ভব।
ফসল-পরবর্তী প্রক্রিয়ার উন্নতির প্রয়োজন। যেমন -
উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থা: স্টোরেজ, গ্রেডিং ও কুলিং ইউনিট গড়ে তোলা, যাতে কৃষিপণ্যের অপচয় কমানো যায়।
গ্রামীণ পর্যায়ে মাইক্রো-কোল্ড স্টোরেজ: কৃষকদের তাদের ফসল সংরক্ষণে সহায়তা করা।
ভারতের কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে এবং আন্তর্জাতিক কৃষি বাজারে ভারতের অংশীদারত্ব বাড়াতে এই সংস্কার পদক্ষেপগুলি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। যেমন - কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদনশীলতা উন্নত, ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, কৃষকদের জন্য উন্নত প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও বাজার সুবিধা নিশ্চিত করা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি শক্তিশালী করা। আর তাতেই দেশও উন্নত হয়ে উঠবে। অন্তত বাজেট ২০২৫-এর আগে এমনই চাহিদা রাখছেন কৃষক থেকে সাধারণ মানুষ প্রত্যেকে।












Click it and Unblock the Notifications