দুর্বল মুসলিম নারী, কিশোরীদের কি আত্মঘাতী বোমা বানানোর চেষ্টা চলছিল? অপারেশন কাফির ঘিরে কী উঠে এল তদন্তে?
দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলির হাতে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর সন্ত্রাস চক্রের হদিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ড. শাহীনের নেতৃত্বে গোপনে তৈরি হচ্ছিল এক নরকযজ্ঞ দুর্বল ও অসহায় মুসলিম নারী ও কিশোরীদের মানব বোমা হিসেবে ব্যবহার করার ষড়যন্ত্র।
হোয়াটস অ্যাপের ডিলিটেড চ্যাটেই ধরা পড়ল মুজাহিদ জাঙ্গজু গোপন নকশা।
সূত্রের খবর, ড. শাহীন মুছে ফেলা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট পুনরুদ্ধার করে গোয়েন্দারা হাত করতেই ফাঁস হয়েছে পুরো অপারেশন। সেখানে বারবার উঠে এসেছে কোড নেম মুজাহিদ জাঙ্গজু, যা মূলত একাধিক মানববোমা হামলার ব্লু প্রিন্ট বলেই ধারণা তদন্তকারীদের।

বিচ্ছিন্ন নারী, অসহায় কিশোরী টার্গেটে দুর্বল মানসিকতার মুসলিম মহিলারা। তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ড. শাহীন নাকি বেছে বেছে টার্গেট করতেন।
পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন বা তালাকপ্রাপ্ত মুসলিম নারী, ১৪ থেকে ১৮ বছরের কিশোরীদের, যাদের সহজেই প্রভাবিত করা যায়।
এদেরই তিনি মিশন কাফির এর জন্য মানববোমা হিসেবে প্রস্তুত করতে চাইছিলেন। প্রশিক্ষণ দেওয়া, মানসিকভাবে প্রভাবিত করা সবটাই করতেন শাহীন নিজেই।
প্রতিটি টাকার সঙ্গে জুড়ে ছিল কোড বার্তা,ড. শাহীন, ড. আদিল, ড. আরিফ ও ড. পারভেজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে তদন্তকারীরা খুঁজে পেয়েছেন গত সাত বছরে ৪০ কোটিরও বেশি সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন।
এই লেনদেনের ধরন ছিল অত্যন্ত অদ্ভুত,বারবার জমা পড়ছে ১০০০০১ টাকা, ২০০০০১ টাকা অর্থাৎ বড় অঙ্কের সঙ্গে এক টাকা বাড়তি।
প্রতি মাসের ২৫ থেকে ২৮ তারিখে ঘন ঘন টাকা ঢোকে, আবার অল্প সময়ের মধ্যেই তুলেও নেওয়া হয়।
কিছু অ্যাকাউন্ট ২০২১ সালের পর নিষ্ক্রিয়, কিছু অ্যাকাউন্টে আবার সপ্তাহে বহুবার ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার লেনদেন।
একাধিক লেনদেনের সঙ্গে অতিরিক্ত এক টাকা যুক্ত থাকার ঘটনাকে তদন্তকারীরা দেখছেন গোপন বার্তা আদান প্রদানের কোড হিসেবে।
উত্তরপ্রদেশজুড়ে একাধিক স্লিপার সেল, নেতৃত্বে এইচওডি গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জেলায় ড. শাহীন তৈরি করেছিলেন একাধিক মাইক্রো সেল। প্রত্যেকটি দলে ছিল পাঁচজন সদস্য। দলের নেতা ব্যবহার করতেন এইচ ও ডি নামের কোড।
এক দল অপর দলের সম্পর্কে কিছুই জানত না, স্লিপার সেলের ধরনে পুরো নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন শাহীন।
ফাঁস হওয়া চ্যাটে মিলেছে পাকিস্তান ভিত্তিক জইশ ই মহম্মদের কিছু কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণও।
সংস্থাগুলি জানাচ্ছে, ভিডিওর মাধ্যমে বোমা বানানোর নির্দেশ, প্রশিক্ষণের ক্লিপ ও অপারেশনাল বার্তা, সবই লেনদেন হয়েছে অনলাইন মাধ্যমে।
তদন্তকারীদের মতে, দেশের ভেতরে মানববোমা গঠনের সবচেয়ে বড় চক্রান্ত,
সব মিলিয়ে তদন্তকারীদের ধারণা ড. শাহীনই ছিলেন এই বিপজ্জনক নেটওয়ার্কের মূল চালিকা শক্তি।
দুর্বল ও অসহায় মুসলিম নারী ও কিশোরীদের অসুরক্ষিত মানসিক অবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে দেশের অভ্যন্তরে মানববোমা হামলার প্রস্তুতি চলছিল।
ব্যাংক লেনদেনের গোপন চক্র, বহুস্তরীয় স্লিপার সেল, পাকিস্তান যোগ সব মিলিয়ে উঠে এসেছে দেশের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে জটিল ও ভয়ঙ্কর সন্ত্রাস ষড়যন্ত্রের ছবি।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন
তদন্ত চলছে আরও কতজন জড়িত, কতদূর বিস্তৃত এই নেটওয়ার্ক, তার উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারা।












Click it and Unblock the Notifications