ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের অভিমুখ বদল! উপকূলের ১২ জেলাকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার নির্দেশ
ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের অভিমুখ বদল! উপকূলের ১২ জেলাকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার নির্দেশ
দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ শক্তিবৃদ্ধি করে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এবার তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়ে ধেয়ে আসবে ভারতীয় উপকূলের দিকে। আবহাওয়া দফতর এই মর্মে সতর্কতা জারি করল। ওড়িশা সরকারের তরফেও সতর্ক করা হয়েছে ১২ জেলাকে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ওড়িশা-অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনাই প্রবল হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য তৈরি ওড়িশা
শুক্রবার ওড়িশার মুখ্যসচিব অসিত ত্রিপাঠি ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের বিষয়ে সতর্কতা জারি করে বলেন, যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য তৈরি থাকতে হবে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ১২টি জেলা কালেক্টরকে। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি বৈঠকও ডাকা হয়েছে। সেখানে আম্ফানের মোকাবিলায় আলোচনা হয়েছে।

উপকূলীয় জেলা কালেক্টররা আম্ফানের মোকাবিলায়
রাজ্যের সমস্ত উপকূলীয় জেলা কালেক্টরকে বিশেষত উত্তর ওড়িশার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের জন্য কী ব্যবস্থা নিতে হবে সে সম্পর্কে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জগৎসিংপুর, কেন্দ্রপাড়া, বালাসোর এবং ভদ্রকের জেলা কালেক্টরদের নির্দেশ দেন মুখ্যসচিব। মোট কথা, করোনার আবগেও ওড়িশা তৈরি হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায়।

ঘূর্ণিঝড় ওড়িশা-অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অভিমুখে
আইএমডির পক্ষ থেকে প্রদীপ জেনা জানিয়েছেন, ১৬ মে সন্ধ্যায় দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়ে ওড়িশা-অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে ধেয়ে যেতে পারে। ঝড়টি উত্তর ওড়িশায় আঘাত হানবে বলে প্রাথমিক ধারণা। এরপর পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হবে কিনা তা এখনও অনিশ্চিত।

ওড়িশা সরকার সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত
ওড়িশা সরকার সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে ১২ জেলায় পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। ওড়িশা দুর্যোগ র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা ওডিআরএফ, জাতীয় দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী বা এনডিআরএফ এবং ফায়ার সার্ভিস বা দমকলকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র খালি করার বার্তা
সেইসঙ্গে ওড়িশার সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলি করোনা পরিস্থিতিতে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। উপকূলীয় জেলাগুলির পর্যবেক্ষককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ওই ভবনগুলিকে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র হিসাবেই ব্যবহার করতে হবে। উপকূল থেকে তিন কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে অবস্থিত কোয়ারেন্টইন কেন্দ্রে থাকা মানুষদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হবে।

ওড়িশা উপকূলেই ঝড়ের অভিমুখ, পূর্বাভাস
ইসিএমডব্লুএই আগেই জানিয়েছিল ঘূর্ণিঝড় আম্ফান উত্তর অন্ধ্র-ওড়িশার উপকূলে সবথেকে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। এখন ওড়িশার উত্তর ঝড়ের মুখে দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে করছেন আবহবিদরা। সেই কারণেউ উত্তর ওড়িশার জেলাগুলিতে সতর্ক করা হয়েছে। আম্ফানের মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গেও দুর্যোগের আশঙ্কা
আবহবিদরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান যদি ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়ে, তা হলে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ঝড়-বৃষ্টির সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি ওড়িশার উপকূলে ধাক্কা খেয়ে পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশ অভিমুখে যেতে শুরু করলে সরাসরি ঘূর্ণিঝড়ের ঝাপটা সহ্য করতে হতে পারে। পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা সবথেকে বেশি বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।












Click it and Unblock the Notifications