Pahalgam attack: ভারত-পাক উত্তেজনা চরমে, নিয়ন্ত্রণ রেখায় যুদ্ধের আবহ, বাঙ্কার তৈরিতে ব্যস্ত বাসিন্দারা
Pahalgam attack: জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) বাসিন্দারা সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। উভয় পক্ষই নিজেদের সুরক্ষার জন্য বাঙ্কার এবং সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করছে।
২২শে এপ্রিল বৈসরনে পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলার পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছাকাছি বসবাসকারী কাশ্মীরীরা এবং অন্যান্য অঞ্চলের মানুষজন দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর দক্ষিণ কাশ্মীরে পর্যটকদের উপর এই হামলা ছিল সবচেয়ে বড় জঙ্গি আক্রমণ।

নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পাকিস্তানি সেনাদের দ্বারা লাগাতার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিনা উস্কানিতে গুলি চালানো হচ্ছে। এর আগে, ২০০৩ সালের নভেম্বরেও দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, কিন্তু সেই চুক্তিও বহুবার লঙ্ঘিত হয়েছে। বর্তমানে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করছে।
ভারতের দিকে, উরি সেক্টরের নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে চুরান্ডা গ্রামে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় স্কুলের শিক্ষক ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, শিশুরা স্বাভাবিকভাবে স্কুলে এলেও অভিভাবকদের মধ্যে ভয় বেশি। এই গ্রামটি এমন একটি স্থানে অবস্থিত, যেখানে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের সৈন্যদের উপস্থিতি দেখা যায়। গত কয়েক দশকে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এই গ্রামে অন্তত ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
চুরান্ডার ২৫ বছর বয়সী বাসিন্দা আব্দুল আজিজ জানান, ১৫০০ জন বাসিন্দার জন্য গ্রামে মাত্র ছয়টি বাঙ্কার রয়েছে। তিনি আরও বলেন, "উভয় পক্ষই একে অপরকে হুমকি দিচ্ছে। যদি সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ে, তাহলে আমরা কোথায় যাব? ভয় আমাদের তাড়া করছে, কারণ এই গ্রামটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।"
অন্যদিকে, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা সংলগ্ন চাকোঠি গ্রামে, যেকোনো প্রকার গোলাগুলির হাত থেকে বাঁচতে বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িতে সুরক্ষিত আশ্রয়স্থল তৈরি করছেন। কাশ্মীর ভ্রমণকারী রাওয়ালপিন্ডির বাসিন্দা ফয়জান আনায়াত জানান, গ্রামবাসীরা তাঁদের বাড়িতে বাঙ্কার তৈরি করেছে যাতে সংঘর্ষের সময় আশ্রয় নেওয়া যায়। ফয়জানের প্রতিবেশী, ৭৩ বছর বয়সী মহম্মদ নাজির, শুক্রবারের নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার আগে বাঙ্কার তৈরির কাজ থামিয়েছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর বাড়ির শিশুরা কাছেই ক্রিকেট খেলছিল। নাজির বলেন, "আমরা কোনো কিছুতেই ভীত নই। আমাদের প্রতিটি শিশুই প্রস্তুত।"
তবে, চাপা উদ্বেগ সেখানেও বিদ্যমান। পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফ্ফরাবাদে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা ১ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি ($৩.৫ মিলিয়ন) মূল্যের জরুরি তহবিল প্রস্তুত রেখেছেন এবং নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গ্রামগুলিতে পর্যাপ্ত খাদ্য, জল ও স্বাস্থ্যসামগ্রী পাঠানো হয়েছে।
পাকিস্তান রেড ক্রিসেন্টের কাশ্মীর শাখার প্রধান গুলজার ফাতিমা জানান, ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লির মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার সাথে সাথেই তাঁরা দ্রুত তাঁদের কর্মী ও প্রয়োজনীয় সরবরাহ মোতায়েন করতে শুরু করেছেন।
প্রসঙ্গত, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এই উত্তেজনা বৃদ্ধির মূল কারণ পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলা। এই সপ্তাহের শুরুতে, পাকিস্তান দাবি করে যে তাদের কাছে আগামী ২৪-৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ভারতীয় সামরিক হামলার "বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ" রয়েছে।
ইসলামাবাদের তথ্যমন্ত্রী আত্তাতুল্লাহ তারার এক্সে বলেন, "পাকিস্তানের কাছে বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য আছে যে ভারত পহেলগাঁওয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার ভিত্তিহীন অভিযোগের অজুহাতে আগামী ২৪-৩৬ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে চায়।" তিনি ভারতের "অযৌক্তিকতা এবং সংঘাতের বিপজ্জনক পথে হাঁটার" সিদ্ধান্তকে সতর্ক করে বলেন, এর পরিণতি সমগ্র অঞ্চল এবং তার বাইরেও ভয়াবহ হতে পারে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে তাঁদের পছন্দসই ধরণ, টার্গেট এবং সময় নির্ধারণের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এক বিরাট আঘাত হানা আমাদের জাতীয় সংকল্প।"
ইতিমধ্যেই পহেলগাঁওয়ের হামলার পর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করা, আটারি সীমান্তে সমন্বিত চেকপোস্ট বন্ধ করা, সমস্ত পাকিস্তানি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা এবং ভারতে অবস্থিত পাকিস্তানি হাইকমিশনের কর্মীদের সংখ্যা কমানো।
ভারতের প্রস্থানের নির্দেশের পর, গত সপ্তাহ ধরে বহু পাকিস্তানি নাগরিক আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে তাদের দেশে ফিরে গিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে, নিয়ন্ত্রণ রেখার উভয় পাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা এবং অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে।
-
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
ভবানীপুরে আজ শক্তি প্রদর্শনে বিজেপি, শুভেন্দুর মনোনয়নে সঙ্গী অমিত শাহ -
'খুব দ্রুত যুদ্ধ শেষ করব'! ইরান ইস্যুতে কড়া বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের, কী বললেন? -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
মালদহের অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল মমতা, সুতির সভা থেকে শান্তির বার্তা -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
বসন্তের শেষে বাড়ছে পারদ! গরমে কী নাজেহাল হবে শহরবাসী? কী জানাচ্ছে হাওয়া অফিস? জানুন -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ












Click it and Unblock the Notifications