Waqf Amendment Bill: পরিচ্ছন্নতা এনে সুবিচারের পথ প্রশস্ত করতে ওয়াকফের সংশোধনীর এটাই সঠিক সময়
ওয়াকফের ধারণাটি ভারতীয় প্রেক্ষাপটে একটি জটিল বিষয়। প্রায়শই এই বিষয়টি আইনি লড়াই, বিভ্রান্তি এবং বিতর্কের মাঝে আটকে পড়ে। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার সংস্কার নিয়ে উদ্যোগী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওয়াকফ ঘিরে বিতর্ক যেন এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইসলামি আইনের ভিত্তিতে তৈরি ওয়াকফ যে শুধু ভারতের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রগতিকে প্রভাবিত করেছে তা নয়, একইসঙ্গে জমির মালিকানা এবং দেখভাল নিয়েও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মোদী ৩.০ সময়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে দেশ। ওয়াকফ আইন নিয়ে প্রসারিত সংশোধনীগুলি তাই একটি ফ্ল্যাশ পয়েন্ট হয়ে উঠেছে। এবং ওয়াকফের সম্পত্তির পরিমাণ এবং তার অনৈতিক ব্যবহার নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ওয়াকফ কী, কীভাবে এটিকে কাজে লাগানো হচ্ছে এবং কেন বিজেপির প্রস্তাবিত সংস্কারগুলি কীভাবে ওয়াকফকে নতুন চেহারা দিতে পারে।
- ওয়াকফ কী?
ওয়াকফ বলতে ইসলামিক দাতব্যকে বোঝায়। যেখানে কোনও সম্পত্তিকে ধর্মীয় উদ্দেশ্যে দান বা দাতব্য করা হয়। একবার সেই সম্পত্তি ওয়াকফের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলে তা বিক্রি বা হস্তান্তর করা যায় না। এবং চিরকাল তা ওয়াকফের সম্পত্তি হিসেবেই থেকে যায়। এই দানের ধারণাটি মহৎ হলেও বাস্তবে তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে কারণ জমি নিয়ে চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনা এবং অবৈধ দাবির নানা অভিযোগ উঠেছে।

- হাজার হাজার সম্পত্তি কীভাবে ওয়াকফ নিজের বলে দাবি করতে পারে?
ওয়াকফের অধীনে যে পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে, সেই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। সারা ভারত জুড়ে হাজার হাজার সম্পত্তি- ব্যক্তিগত জমি থেকে শুরু করে শহুরে এলাকায় রিয়েল এস্টেট- এইসবই ওয়াকফের সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে। এবং দেখা গিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ নথিপত্র অথবা যাচাই ছাড়াই তা কবজা করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষের অভিজ্ঞতা হল- তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিও তাদের অজ্ঞাতসারেই ওয়াকফের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছে। যা নিয়ে পরে সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত আইনি লড়াই চলেছে। এমন দাবি বছরের পর বছর ধরে আরও বেড়েছে। এবং জমি দখলের জন্য এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ উঠেছে।
- কীভাবে ওয়াকফের জমির বাণিজ্যিক ব্যবহার করা হচ্ছে?
এই বিতর্কের অন্যতম একটি কেন্দ্রবিন্দু হল ওয়াকফের অধীনে থাকা জমির বাণিজ্যিক ব্যবহার। ওয়াকফের জমি সমাজ সেবামূলক কাজে ব্যবহারের কথা থাকলেও বিভিন্ন অসাধু উপায় অবলম্বন করে তা থেকে লাভের গুড় ঘরে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় দেখা গিয়েছে, ওয়াকফের জমি বাণিজ্যিক কারণে বেসরকারি হাতে চলে গিয়েছে। ফলে যা দাতব্য সম্পত্তি ছিল তা থেকে মোটা টাকা আয়ের পথ খোলা হয়েছে। ওয়াকফের এই বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে হিন্দু গোষ্ঠীর মধ্যে। যাদের দাবি, এই ধরনের ব্যবস্থা চলতে থাকলে ধর্মীয় ব্যবস্থার আড়ালে আদতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি জমা হতে থাকবে।

- ওয়াকফ সংশোধনী বিল: বিজেপির সংস্কার উদ্যোগ
কেন্দ্রের বিজেপি সরকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ওয়াকফ আইনে সংশোধনের মাধ্যমে এই বিষয়গুলিকে সমাধান করার জন্য উদ্যোগী হয়েছে। ওয়াকফ সংশোধনী বিলে আইনের ফাঁস আরও জোরদার করা হবে, স্বচ্ছতা থাকবে এবং ওয়াকফের সম্পত্তি যাতে অপব্যবহার না হয় তা নিশ্চিত করবে। ওয়াকফের জমিকে যাতে সঠিক কাজে ব্যবহার করা যায়, তা এই সংশোধনীর মূল ভাবনা। তবে এই সংশোধনী নিয়ে ব্যাপক বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে সরকার। বিশেষ করে বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠন এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। যাদের দাবি, এই সংশোধনী বিল এনে সরকার আসলে ধর্মীয় অধিকারে আঘাত হানতে চাইছে। যদিও বিলের সমর্থকেরা মনে করেন, ওয়াকফের সম্পত্তি ব্যক্তিগত কাজে লাগিয়ে তা থেকে মুনাফা লোটা বন্ধ করতে হলে এই বিলই শ্রেষ্ঠ অস্ত্র।
- ২০২৪ সংশোধনীর পরে কী বদল আসবে?
যে প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলি আনা হয়েছে, তা যদি পাস হয় তাহলে ওয়াকফের সম্পত্তি কীভাবে ব্যবহৃত এবং পরিচালিত হচ্ছে সেই নিয়মে এক বিরাট বদল আসবে। এর মধ্যে মুখ্য বিষয় হল ওয়াকফের যে দাবিগুলি থাকবে তা অবধারিতভাবে যাচাই করা হবে এবং নিশ্চিত করা হবে যে আইনসম্মত সম্পত্তিগুলিই শুধুমাত্র ওয়াকফের অধীনস্থ হবে। এর ফলে মুনাফার জন্য লিজ দেওয়া ওয়াকফের সম্পত্তি আটকানো যাবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার ওয়াকফ বোর্ডের যে স্বচ্ছতা বাড়াতে চাইছে যেখানে প্রায়শই দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
- কংগ্রেস এবং ফাঁকা জমি ওয়াকফের অধীন করা
দেশভাগের সময় যারা এদেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে গিয়েছিলেন তাদের ছেড়ে যাওয়া টাকা জমি ওয়াকফের অধীন করে দেওয়ায় কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে বারবার সমালোচনা হয়েছে। অভিযোগ, রাজনৈতিক সুবিধা পেতে সংখ্যালঘুদের তুষ্ট করে এই ধরনের কাজ কংগ্রেস বারবার করেছে এবং বৃহত্তর জনসংখ্যার অধিকারকে খর্ব করেছে। ক্ষমতায় থাকাকালীন কংগ্রেস ঐতিহাসিকভাবে ভোট রাজনীতির স্বার্থে বারবার জমি নিয়ে ছেলে খেলা করেছে যার ফলেই সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে দাবিদাওয়া উঠেছে।
- ওয়াকফে নেই মহিলা, বোরহা অথবা আগা খনি
ওয়াকফ নিয়ে আরও একটি বিতর্কের জায়গা হল- সম্পত্তি দেখভালে যে পরিচালন সমিতি রয়েছে তাতে মহিলা, বোরহা ও আগা খনিদের প্রতিনিধিত্ব করার অথবা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও ক্ষমতা নেই। ফলে যে সংস্থা জনস্বার্থে কাজ করে তাদের উদ্দেশ্য ও মানসিকতা নিয়েই তাই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। ফলে সংশোধনীর যে প্রয়োজন রয়েছে তা বলা বাহুল্য।
- বিশেষ উল্লেখ: সরকারের কাছে ইমেলের বন্যা
দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে হিন্দু গোষ্ঠী ওয়াকফের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়ে ব্যাপক সাড়া দিয়েছে। লক্ষ লক্ষ ইমেল সরকারকে সমর্থন হিসাবে পাঠানো হয়েছে। যাতে সরকার ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে এগোতে পারে। এই ইমেলগুলিই প্রমাণ যে ওয়াকফ বোর্ডে স্বচ্ছতা ও পরিচ্ছন্নতা প্রয়োজন।
পরিশেষে বলা যেতে পারে, আইনি জটিলতার বাইরে গিয়ে ভারতের মতো দেশে ওয়াকফ বোর্ড সংক্রান্ত বিতর্ক এক অন্য বিষয়। মোদী সরকারের ওয়াকফ সংশোধনী বিল আদতে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের অসৎ ব্যবহারকে কমিয়ে জনস্বার্থে স্বচ্ছতা আনার এক অনন্য প্রয়াস। এই বিলের বিরোধিতা যেমন আসবে, তেমন সংশোধনীও নিঃসন্দেহে আবশ্যক। স্বচ্ছ প্রশাসন চালানোর বিজেপির যে প্রয়াস এবং সংষ্কারের ভাবনা- যা আদতে ভারতের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐক্যকে রক্ষা করে সর্বধর্ম সুবিচারের পথ প্রশস্ত করবে - তাকে নিঃসন্দেহে সকলে সমর্থন করবে।
-
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত












Click it and Unblock the Notifications