Waqf (Amendment) Act: শোষণের দিন শেষ, ন্যায় প্রতিষ্ঠাতেই ওয়াকফ আইন; বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত বিজেপির
Waqf (Amendment) Act: সংসদের দুই কক্ষে পাসের পর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সিলমোহরে আইনে পরিণত হয়েছে ওয়াকফ সংশোধনী বিল। যদিও ওয়াকফ আইন নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে অবিজেপি রাজ্যগুলির কয়েকটিতে। তার মধ্যে যেমন রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, তেমন তামিলনাড়ুও রয়েছে। সেসবের নেপথ্যে যে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে, তা সন্দেহাতীত। ইন্ডি জোটের সমস্ত শরিক দল তথা কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকে, সিপিআইএম, আরজেডি, জেএমএম ও আপের প্ররোচনাতেই প্রতিবাদের নামে হিংসা চলছে।
ধর্মের নামে সম্পত্তি বেদখল রুখতে ও দুর্নীতি আটকাতেই ওয়াকফ আইনের মতো ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একথা বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু এক্ষেত্রে, বিরোধীরা যা দাবি করছে, তা একেবারেই মিলছে না। এই আইন কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে টার্গেট করে বানানো নয়। বরং এর ফলে জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে সম্পত্তিগুলির সঠিক ব্যবহার হবে ও স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।

ধর্মীয় বা সেবার কাজে ব্যবহারের জন্য মুসলিমদের দান করা স্থাবর ও অস্থাবর ব্যক্তিগত সম্পত্তিকে ওয়াকফ বলা হয়। বহু দশক ধরে ওই সম্পত্তিগুলির উপর কোনও নজরদারি হয়নি। যার ফলে তাতে ব্যাপক বেনিয়ম হয়েছে ও সম্পত্তিগুলির অপব্যবহার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্তব্ধ থাকার পর অবশেষে সেই সম্পত্তি সংস্কারের জন্য ও বেনিয়ম দূর করতে ওয়াকফ বোর্ডগুলির সুষ্ঠু পরিচালনায় বিল এনেছে মোদী সরকার। সাম্প্রতিক অতীতে পাস হওয়া সবচেয়ে প্রগতিশীল এই আইনকে বিতর্কিত বলছেন বিরোধীরা। তার কারণ এর ফলে তোষণ নয়, বরং সাধারণ মানুষের উপকার হবে।
একচেটিয়া আধিপত্য ভাঙন
দীর্ঘদিন ধরে, ওয়াকফ বোর্ডের পরিচালনা কার্যত রাখঢাক করে হয়েছে। যেকোনও জমিকেই কোনও আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করে দেওয়া হত। ওয়াকফ বোর্ডগুলিতে এতদিন সেই ক্ষমতা দিয়ে এসেছে ওয়াকফ আইনের ৪০ নম্বর ধারা। তবে বিজেপি সরকার এসে ওয়াকফ আইনে সেই ৪০ নম্বর ধারাটি সরিয়ে দিয়েছে। যার জেরে জমির অপব্য়বহার তো বটেই, ধর্মের নাম করে জমি বেদখলও করা যাবে না।
ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণ
ওয়াকফ বোর্ডের কুক্ষিগত ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণ ঘটনা হয়েছে ওয়াকফ সংশোধনী বিলে। আগের আইন অনুযায়ী ওয়াকফ বোর্ডগুলির হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল যার প্রায়শই অপব্যবহার হত। যার জেরে বারবার দুর্নীতির অভিযোগও উঠে এসেছে। ৪০ নম্বর ধারা তুলে দিয়ে ওয়াকফ আইনে এখন থেকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছতা আনা হয়েছে।
ভোটব্যাঙ্ক নয়, স্বচ্ছতাই উদ্দেশ্য
ওয়াকফ সম্পত্তির ডিজিটাইজেশন ও আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে এই ওয়াকফ সংশোধনী বিল। মুসলিম সম্প্রদায়েরই গরিব ও অনগ্রসর শ্রেণির লোকেরা যাতে উপকৃত হন, তারই সুবন্দোবস্ত করবে ওয়াকফ সংশোধনী আইন। পরিবারতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক ভাবে কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণীর মধ্যে ক্ষমতা কুক্ষিগত না রেখে বঞ্চিতদের লাভবান করাই বিলের উদ্দেশ্য।
ভাঙন নয়, ঐক্যে সায়
ওয়াকফ সংশোধনী আইনে অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল রাজ্য ওয়াকফ বোর্ড ও কেন্দ্রীয় ওয়াকফ পর্ষদে অমুসলিমদের সদস্য হিসেবে রাখা। নিন্দুকদের দাবি, এর ফলে মুসলিম সম্প্রদায়ের কর্তৃত্বে ছেদ পড়বে। কবে বিজেপির দাবি, এক্ষেত্রে ঐক্য বাড়বে। ওয়াকফ বোর্ডে দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে থাকা মুসলিমরা (যেমন বোহরা, আঘাখানি) কোনও ঠাঁই পাননি। ওয়াকফ সংশোধনী আইনের জেরে এবার থেকে তাদের কথাও শুনতে হবে বোর্ডকে। মহিলাদেরও সদস্য হিসেবে রাখায় লিঙ্গবৈষম্য প্রতিষ্ঠা হবে।
ভারতের জমি রক্ষা
ওয়াকফ সম্পত্তির নাম করে এতদিন সরকারি সম্পত্তিতেও অপব্যবহার চলেছে। ওয়াকফ সংশোধনী আইনে সেই সমস্ত জমি পুনরুদ্ধারের কথা বলা হয়েছে। এর ফলে জনগণের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া যাবে না। রাজনৈতিক প্রভাব দূরে সরিয়ে জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে সংশোধিত আইনে। আদিবাসী সম্প্রদায়দের জমিরও সুরক্ষা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ওই সমস্ত জমিতে বেআইনিভাবে ওয়াকফদের অধিকার হঠিয়ে আধিবাসীদের অধিকার সুনিশ্চিত করা হবে।
ধর্মীয় আক্রমণ নয়, ওয়াকফ আইনের খোলনলচে বদল
আর তাই বলাই বাহুল্য, ওয়াকফ সংশোধনী আইন কোনওভাবেই মুসলিম বিরোধী আইন নয়। এই আইন ন্যায়বিচারের ও স্বচ্ছতার আইন। নিঃসন্দেহে এই আইন প্রগতিশীল। ওয়াকফ সম্পত্তির ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে ডেটাবেস তৈরি করা হবে। এর ফলে সম্পত্তিগুলির উপর আরও ভালো করে নজর রাখা যাবে। স্রেফ তাই নয়, ওয়াকফ সম্পত্তির অডিটেও সুবিধা হবে। তথ্যের দুনিয়ায় ডিজিটাল ট্র্যাক রেকর্ড রাখা আশু প্রয়োজনীয়।
কাতার, তুরষ্কের মতো দেশগুলিতে ইতিমধ্যেই মান্ধাতা ওয়াকফ রীতি বদলে আধুনিক সরকারি মডেলের ধাঁচে গড়ে তোলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তর থেকে সেই আইডিয়া নিয়ে ভারতেও প্রগতিশীল ওয়াকফ সংশোধনী আইন গড়ে তোলা হয়েছে ও একইসঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতিকেও প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে তাতে। ভারতের ওয়াকফ সম্পত্তির মালিকানা নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আইন। বিজেপি সরকারের সবকা সাথ সবকা বিকাশের লক্ষ্যও এই আইনে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলা হয়েছে।
প্রতিবাদ ও সমালোচনা চলতেই থাকবে, তবে ওয়াকফ সংশোধনী আইনে শুধুমাত্র মুসলিম সম্প্রদায়ই নয়, উপকৃত হবেন আপামর ভারতীয় জনতা। সমসাময়িক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় সরকারি বিভিন্ন উদ্য়োগের রূপায়ণ হওয়া প্রয়োজন। ওয়াকফ সংশোধনী আইনে তেমনই কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আর তাই সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ের পথে সমাজকে নিয়ে যেতেই এই আইন এনেছে বিজেপি।












Click it and Unblock the Notifications