স্বাধীনতা দিবসে উস্কানিমূলক স্লোগানকে কেন্দ্র করে বচসা ইন্দোরে, আহত একই আবাসনের দু’জন
স্বাধীনতা দিবসে উস্কানিমূলক স্লোগানকে কেন্দ্র করে বচসা ইন্দোরে, আহত একই আবাসনের দু’জন
স্বাধীনতা দিবসে উস্কানিমূলক স্লোগানকে কেন্দ্র হিংসা ছড়ালো মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে। আবাসন চত্ত্বরেই বাসিন্দাদের মধ্যে বচসা ও মারধরের ঘটনা ঘটল। দু’জন ব্যক্তি, উভয়ই ইন্দোরের একই আবাসনের বাসিন্দা, রবিবার স্বাধীনতা দিবসের দিন স্ট্রীট ফাইট শুরু হয়ে যায় এবং উভয় পক্ষের দু’জন আহত হন। জানা গিয়েছে, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৫ অগাস্টের দিন মুসলিম বিরোধী উস্কানিমূলক স্লোগানকে কেন্দ্র করে এই ঝামেলার সূত্রপাত। প্রসঙ্গত, আবাসন চত্ত্বরেই এই স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।

আবাসন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা এই অনুষ্ঠান থামাতে সফল হন এবং উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ জানিয়েছ যে আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাটি ঘটেছে ইন্দোরের তেজালি নগরের কাবেরি আবাসনে। পুলিশ জানিয়েছে, এই আবাসনে ভারতের ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে পতাকা–উত্তোলনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান চলাকালীন অংশগ্রহনকারীরা আচমকাই বিতর্কিত স্লোগান দিতে শুরু করেন। এর কিছুক্ষণ পরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন স্থানীয় কয়েকজন মুসলমান বাসিন্দা। পাল্টা হিন্দু সংগঠনটিরও আরো সদস্য সেখানে আসেন এবং জোরে জোরে উস্কানিমূলক স্লোগান দিতে শুরু করেন। এই স্লোগানের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলেন মুসলিম সদস্যরা এবং এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যে জোরদার ঝামেলার সৃষ্টি হয়। এই ঝামেলা খুব শীঘ্রই মারপিটে পরিণত হয়। দুই পক্ষই একে–অপরের দিকে পাথর ছুঁড়তে শুরু করে।
এরপর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরও লোকজনকে জড়ো করে পরিস্থিতি আরও জটিল করার চেষ্টা করে তবে বড়সড় ঘটনা ঘটার আগেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসপি আশুতোষ বাগরি বলেন, 'আমাদের কাছে একাধিক ভিডিও ক্লিপিং জমা পড়েছে যা আমরা খতিয়ে দেখছি। আমরা তদন্তের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি এবং নিরপেক্ষ পদক্ষেপ নেব।’ তবে এসপি জানিয়েছেন যে এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে এই ঘটনার খবর পেয়ে বজরং দলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন এবং ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেন। প্রসঙ্গত, এই আবাসনে আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল বাসিন্দারা বসবাস করেন, উভয় হিন্দু–মুসলিম বাসিন্দাদেরই বাস এখানে। শহরের রাওজি বাজার এবং এর আশেপাশের এলাকায় তাঁদের দখলকৃত জায়গা থেকে অপসারণের পর এই আবাসনে তাঁদের পুনর্বাসন দেওয়া হয়।












Click it and Unblock the Notifications