ফাঁসি আটকানোর শেষ চেষ্টা, সুপ্রিমকোর্টে কিউরেটিভ পিটিশন দাখিল নির্ভয়া কাণ্ডে দোষী বিনয়ের
২০১২ সালের দিল্লি গণধর্ষণকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত বিনয় কুমার আজ দিল্লি হাইকোর্টের ফাঁসির পরোয়ানার বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে কিউরেটিভ পিটিশন দাখিল করল। এর আগে দিল্লির আদালত জানিয়ে দিয়েছিল যে ২২ জানুয়ারি সকাল সাতটায় চার দোষীরই একসঙ্গে ফাঁসি কার্যকর করা হবে। এই রায়ের বিরুদ্ধে দোষীদের আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যে ১৪ দিন সময়ও দেন বিচারক।

সুপ্রিমকোর্টে যাওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন দোষীদের আইনজীবী
২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে দিল্লি গণধর্ষণে মৃত নির্যাতিতার মা-বাবার আবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করে বিচারক সতীশ কুমার জানিয়ে দেন ২২ জানুয়ারি নির্ভয়াকাণ্ডে দোষীদের ফাঁসি হবে। এই রায়ের পর দোষীদের আইনজীবী বলেন, 'আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টে আবেদন জানাব।'

একের পর এক আবেদন
ফাঁসির দিনক্ষণ এগিয়ে আসতেই মৃত্যুভয় গ্রাস করতে শুরু করে নির্ভয়াকাণ্ডের দোষীদের। একের পর এক আবেদন করতে থাকে তারা। কখনও দিল্লির লেফট্যানেন্ট গভর্নর তো কখনও হাইকোর্ট তো কখনও সুপ্রিমকোর্ট। এরই মাঝে পিছিয়ে যেতে থাকে তাদের ফাঁসি।

দাবি খারিজ কের আদালত
অক্ষয় কুমারের পর পবন গুপ্তা নামক আরও এক সাজাপ্রাপ্ত নিজেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিল। তার আবেদনে বলা ছিল যে ২০১২ সালে সে যখন তার আরও পাঁচ সঙ্গীর সঙ্গে প্যারমেডিক্যালের ছাত্রীকে ধর্ষণ করে, তখন সে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল। যদিও নির্ভয়ার ওই দোষীর দাবি গ্রাহ্য করেনি হাইকোর্ট এবং তার আবেদনও খারিজ করে দেওয়া হয়।

তৈরি হচ্ছে তিহার জেল
এদিকে জানা গিয়েছে, তিহারের জেল নম্বর ৩ এ সম্পন্ন করা হবে ৪ দোষীর ফাঁসির সাজা। সেখানেই ৪ জন দোষীকে একসঙ্গে ফাঁসিকে সাজা দেওয়া হবে , বলে জানিয়েছে তিহারের সূত্র। জানা গিয়েছে, জেলে ফাঁসির ফ্রেম ও দড়ির সঙ্গে আনা হয়েছে জেসিবি। যার দ্বারা মনে করা হচ্ছে ফাঁসির প্রক্রিয়া খুব শিগগিরিই সম্পন্ন হবে। অন্যদিকে, তিহারের সুড়ঙ্গ নিয়েও কাজ চলছে। প্রসঙ্গত, এই সুড়ঙ্গ দিয়েই মৃতদেহ ফাঁসির পর তোলা হয়।

সাত বছর পর বিচারের ক্ষণ এগিয়ে আসছে
২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাজধানী দিল্লির সড়কে একটি বাসের মধ্যে নারকীয় গণধর্ষণ চালানো হয় এক তরুণীর উপর। বাসে বছর তেইশের নির্ভয়াকে গণধর্ষণ, ভয়াবহ মারধর এবং যৌন অত্যাচার করে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে গিয়েছিল ছ'জন। এরপর বহুদিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন। মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ার পরে অবশেষে সেই বছরই ২৮শে ডিসেম্বর মৃত্যু হয় নির্ভয়ার। আর গোটা দেশ তাঁকে 'নির্ভয়া ' নামের পরিচিতি দেয়। সেই নির্ভয়াকাণ্ডের ৭ বছর কেটে গিয়েছে। অভিযুক্ত ওই ছয়জন কে যৌন নিপীড়ন ও হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন নাবালক, এবং অন্য একজন তিহার জেলেই আত্মহত্যা করেন।












Click it and Unblock the Notifications