সাতচল্লিশে নয়, ৪২-এই স্বাধীন হয়েছিল এই দেশের গ্রাম, জেনে নিন অজানা গৌরবের ইতিহাস

শিবমোগা জেলার শিকারিপুর তালুকের একটি গ্রাম এসুরু, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। আসলে এসুরু ছিল প্রথম গ্রাম যা দেশের পূর্ণ স্বাধীনতার আগেই নিজেদের স্বাধীন বলে ঘোষনা করেছিল।

কী বলছে গ্রামের বাসিন্দারা ?

কী বলছে গ্রামের বাসিন্দারা ?

গ্রামের বাসিন্দা সতীশ কুমার বলেন, "এসুরুর প্রত্যেক বাসিন্দাই মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের। দুর্ভাগ্যবশত, এখানকার অধিকাংশ যুবক তাদের পূর্বপুরুষদের তাৎপর্য এবং আত্মত্যাগ সম্পর্কে অবগত নয়।"
তিনি বলেছেন, "দেশ ৭৫তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করতে চলেছে। এ এক গর্বের সময়। কিন্তু এই গ্রাম এবং এখানকার মানুষ আগেই স্বাধীনতার ৮০ তম বছরে পালন করে ফেলেছে। এই উপলক্ষে গ্রামবাসীরা ৮০ ফুট দীর্ঘ তেরঙ্গা মিছিল বের করেছিল। এখনই সময় এসেছে এই গ্রাম এবং তার লড়াইকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়া।"

একসময় এখানকার মানুষের মধ্যে লড়াকু মনোভাব ছিল, এখন তা খুব কমই দেখা যায়। এমনটাই বলছেন এসুরুর বাসিন্দা এবং এক মুক্তিযোদ্ধার বংশধর নারায়ণ কুমার৷ গ্রামের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে আমাদের তরুণদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে। ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে কিছু লড়াইয়ের মনোভাব রয়েছে এবং তারা চায় গ্রামটি জাতীয় স্তরে স্বীকৃত হোক," তিনি যোগ করেন।

কত সালে এসেছিল স্বাধীনতা ?

কত সালে এসেছিল স্বাধীনতা ?

১৯৪২ সালে, এসুরুর বাসিন্দারা ভূমি রাজস্ব দিতে অস্বীকার করেছিল এবং তাদের নিজস্ব সরকার চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। গ্রামের স্কুলের কাছে একটি বোর্ড লাগানো হয়েছিল, যাতে লেখা ছিল, "এসুরুর একটি স্বাধীন সরকার আছে। স্বাধীন সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও কর্মকর্তা গ্রামে প্রবেশ করতে পারবে না।"


"গ্রামবাসীরা তহসিলদার এবং সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) কে হত্যা করে যখন তারা গ্রামে রাজস্ব আদায় করতে প্রবেশ করেছিল। এর ফলে গ্রামে ব্যাপক হিংসার ঘটনা ঘটেছিল।", এমনটাই জানিয়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ইতিহাসের অধ্যাপক ডি এস সোমশেখর।

দুই সন্তান জয়ানা এবং মাল্লাপ্পাইয়াকে 'স্বাধীন' সরকারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং এসআই করা হয়। তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই শিশুদের সরকার প্রধান হিসেবে বেছে নেয় কারণ তারা বিশ্বাস করেছিল যে ব্রিটিশরা তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে না।

কীভাবে এসেছিল স্বাধীনতা ?

কীভাবে এসেছিল স্বাধীনতা ?

২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৪২ তারিখে একজন তহসিলদার এবং একজন এসআইয়ের নেতৃত্বে কর্মকর্তাদের একটি দল গ্রামে প্রবেশ করে। রাজস্ব ইস্যুতে কর্মকর্তা ও গ্রামবাসীর মধ্যে একটি তর্ক শুরু হয়। মুহূর্তের উত্তাপে নিহত হয় তহসিলদার ও এসআই।

অত্যাচারের ইতিহাস

অত্যাচারের ইতিহাস


এর পরে, সরকারী অফিসাররা, ৫০০ পুলিশ কর্মী সহ, পুরো গ্রামটি লুটপাট করে। যারা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিল তাদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়। আইনি প্রক্রিয়ার পরে, পাঁচ গ্রামবাসী - কে ফাঁসিতে দেওয়া হয়। ১৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং বাকি গ্রামবাসীদের স্বল্প মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এসুরুর বাসিন্দারা বিশ্বাস করেন কেন্দ্রের উচিত গ্রামটিকে জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি দেওয়া এবং এটিকে একটি স্মৃতিস্তম্ভে রূপান্তর করা।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+