ত্রিপুরায় আশানুরূপ জয় না এলেও বিরোধী হিসেবে শক্তি বাড়াল তৃণমূল
ত্রিপুরায় আশানুরূপ জয় না এলেও বিরোধী হিসেবে শক্তি বাড়াল তৃণমূল
ত্রিপুরার পুরোভোটে নিরঙ্কুশ সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। আগরতলা, সোনামুড়া, ধর্মনগর সহ একাধিক পৌরসভায় খখড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে বিরোধীরা। তবে এবারের পুরভোটে মুখ থুবড়ে পড়লেও বিরোধী হিসেবে তৃণমূল নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে।

বিজেপির ৩ বছের কিছু বেশি সময় ত্রিপুরা শাসনের আগে প্রায় ২৫ বছর ধরে ত্রিপুরার বাগডোর সামলেছে মানিক সরকারে সিপিআইএম৷ এমনকি এবারের পুরভোট ঘোষণা হওয়ার আগে পর্যন্ত ত্রিপুরার পৌরসভাগুলিতে দখল ছিল সিপিএম-এরই৷ কিন্তু এবারে যেন উলট পুরান খোদ আগরতলাতে ৫১টি আসনের সবকটিতে জয়লাভ করেছে বিজেপি। কিন্তু এই ৫১টির বেশিরভাগ আসনে বিজেপির পরে দ্বিতীয় ভোটা পাওয়া দল হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি৷ মাত্র এক দেড় মাসের প্রচেষ্টায় এ যে তৃণমূলের সমর্থকদের আত্মবিশ্বাস যোগাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে শুধু আগরতলায় নয় একই সঙ্গে আম্বাসা সহ বেশ কয়েকটি পৌরসভায় দ্বিতীয় স্থানে থেকে বিজেপিকে টক্কর দিয়েছে তৃণমূল৷ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞেদের মতে এর ফলে ২০২৩ এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হবে তৃণমূলের। এবারের পুরভোটের এই রায় প্রশান্ত কিশোরকে ঘুঁটি সাজানোর অঙ্ক দেবে বলেই মনে করছেন অনেকে।
হিসেব বলছে, গোটা রাজ্যে মাত্র একটি আসন জিততে পেরেছে তৃণমূল। অম্বাসা পৌরসভার একটি আসন জিতেছে তারা। গোটা রাজ্যে বিজেপি সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে সেই পৌরসভাতেই। সেখানের ১৫টি আসনের ১২টিতে জিতেছে বিপ্লব শিবির৷ বাকি তিনটির মধ্যে একটি তৃণমূল ও আরেকটি সিপিআইএম জিতেছে।
তবে শুকনো পরিসংখ্যান দেখলে হয়ত ধারণা স্পষ্ট হবে না। নিজেদের সর্বভারতীয় দল বলে দাবি করলেও এতদিন তৃণমূল রাজনীতি করেছে পশ্চিমবঙ্গেই। ২০১৬ সালে দ্বিতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও বাইরের রাজ্যে দাপাদাপি করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন তাঁকে আত্মবিশ্বাসের ফানুসে চড়িয়েছে৷ তারপর থেকেই ত্রিপুরা, গোয়া এমনকি উত্তরপ্রদেশে পৌঁছেছে তৃণমূল। বাংলার বাইরে তারা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তার প্রথম পরীক্ষা ছিল ত্রিপুরার পুরভোট। সেই পরীক্ষায় ডাহা ফেল করলেও তৃণমূলের লড়াই একেবারেই বৃথা যায়নি!
দেখা যাচ্ছে ত্রিপুরার মোট ৩৩৪টি সিটে ভোটের লড়াই হয়েছিল। তার মধ্যে বিজেপি জিতেছে ৩২৯টিতে তৃণমূল একটিতে জয় পেয়েছে। এই ক'মাস ত্রিপুরার মাটিতে রাজনীতি করে একটি আসনে সাফল্যেই নৈতিক জয় দেখতে পারেন এ রাজ্যের শাসকদলের নেতা-কর্মীরা। তাছাড়া আম্বাসার হিসেবে চোখ রাখা গেলে বোঝা যাচ্ছে, যে একটি সিটে জিতেছে তৃণমূল। সেটি ছাড়াও আরও পাঁচটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। সেই পাঁচটি আসনে মাত্র ৯, ৪০,৩৬,৬০, ৬৭ ভোটে হেরেছে তৃণমূল। তাই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশের মতে, প্রধান বিরোধী দল না হলেও বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূল নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে












Click it and Unblock the Notifications