ত্রিপুরায় টিকাকরণ পরিসংখ্যানে ভুল, সরকারকে সঠিক তথ্য পেশ করার নির্দেশ হাইকোর্টের
ত্রিপুরায় টিকাকরণ পরিসংখ্যানে ভুল
সরকারের দাবি ছিল ৪৫ বছরের উর্ধ্বে জনগোষ্ঠী ও ৮০ শতাংশের বেশি যোগ্য জনসংখ্যা কোভিড–১৯ টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছে। তবে রাজ্য সরকারের এই দাবিকে ভুল বলে জানিয়েছে ত্রিপুরা হাইকোর্ট এবং স্পষ্ট করে সমস্ত বিষয়টি জানানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছে। প্রসঙ্গত, রাজ্যের মহামারি প্রস্তুতি নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছিল হাইকোর্টে। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নেতৃত্বে থাকা মুখ্য বিচারপতি অখিল কুরেসি এবং বিচারপতি শুভাশিস তলপাত্র শুক্রবারই ত্রিপুরার জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের ডিরেক্টর ডাঃ সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়ালকে নির্দেশ দিয়েছেন টিকাকরণের সঠিক তথ্য পেশ করতে। প্রসঙ্গত, এক সপ্তাহ আগে সংবাদমাধ্যমকে এই পরিসংখ্যান দিয়েছিলেন তিনি।

সরকারের হলফনামা অনুযায়ী
সরকারের পেশ করা হলফনামা অনুযায়ী, রাজ্যে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা ২৬.৮৬ লক্ষ যোগ্য নাগরিক ও ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা ১২.৩৬ লক্ষ মানুষ রয়েছেন। হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছে, 'মিশন ডিরেক্টরের এই দাবি অনুযায়ী মোট ভ্যাকসিন ব্যবহৃত হয়েছে ২৪,২৬,৮০৩, যার মধ্যে ৫,৬৬,৪৫৮ টি দ্বিতীয় ডোজ রয়েছে। মোট ১৮,৬০,৩৪৫ জনের টিকাকরণ হয়ে গিয়েছে। সম্ভবত তিনি এই ৮০ শতাংশ টিকাকরণের কভারেজে পৌঁছানোর জন্য মোট টিকাকরণের ডোজ বলে দিয়েছিলেন, তিনি মনে হয় ভুলে গিয়েছিলেন যে একই ব্যক্তিকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়।'

মিশন ডিরেক্টরের ত্রুটি
আদালতের পক্ষ থেকে এও লক্ষ্য করা গিয়েছে যে ৪৫ বছরের বেশি বয়সের নাগরিকদের ১৪,৩৬,৫৯৫ ডোজ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৫,৬৬,৪৫৮ জন নাগরিক। এর অর্থ হল ৯ লক্ষ মানুষ প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন, যা কোনও মতেই যোগ্য ১২.৩৬ লক্ষ জনসংখ্যার ৯৮ শতাংশে পৌঁছাচ্ছে না। জয়সওয়াল কোনও ত্রুটি করেছিল কিনা বা সংবাদমাধ্যম তাঁকে ভুল বুঝেছিল কিনা তা আদালতকে স্পষ্ট করে জানাতে বলেছে।

রাজ্য সরকারের লক্ষ্য
স্বাস্থ্য বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে ৪৫ ঊর্ধ্ব নাগরিকদের টিকাকরণ করানোর রাজ্য সরকারের লক্ষ্য ১০ লক্ষের নীচে রয়েছে, তা ১২ লক্ষ কখনই নয়। তিনি এও বলেছেন, 'আদালত ও আমাদের দফতরের মধ্যে এ বিষয় নিয়ে কোনও ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। ৪৫ ঊর্ধ্ব নাগরিকদের টিকাকরণের ক্ষেত্রে আমরা ৯৮ শতাংশে অবিচল রয়েছি। আমরা শীঘ্রই হলফনামা পেশ করব।' তিনি এও স্বীকার করেছেন যে সামগ্রিক টিকাকরণ সেই সময় যেটি প্রকাশ করা হয়েছিল তা সত্যই ভুল ছিল।

টিকাকরণের হার
সূত্রের খবর, 'সেই সময় টিকাকরণের হার ছিল ৭০-৭৫ শতাংশ, যখন ৮০ শতাংশ দাবি করা হয়, তবে ১৮ বছরের উর্ধ্বে নাগরিকদের এখন টিকাকরণের হার ৮০ শতাংশ হয়ে গিয়েছে, কিন্তু যখন রিপোর্ট প্রকাশ করা হয় সেই সময় ছিল না।' এছাড়াও হাইকোর্ট রাজ্যকে সুপারিশ করা সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ সরবরাহের জন্য পর্যাপ্ত শট সংগ্রহ করতে বলেছে।












Click it and Unblock the Notifications