UCC in Uttarakhand: উত্তরাখণ্ডে লাগু হবে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’, বিয়ে থেকে লিভ-ইন, এক আইনে গাঁথা কোন কোন বিষয়?
UCC in Uttarakhand: আসন্ন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেই উত্তরাখণ্ডে লাগু হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code)। দেশের মধ্যে প্রথম উত্তরাখণ্ডেই চালু হতে চলেছে এই আইন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী (Pushkar Singh Dhami) ঘোষণা করে জানান সেকথা।
ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষকে বিয়ে, বিবাহ বিচ্ছেদ, জমি-সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অভিন্ন আইনের (Uniform Law) আওতায় আনা হবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিধানসভায় বিল পাস হলেও এখনও কার্যকর হয়নি বিতর্কিত এই আইন।

তবে নতুন বছরের শুরুতে তা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী। যা একাধারে সাহসী পদক্ষেপ তো বটেই, পাশাপাশি দূরদৃষ্টির পরিচয় দিলেন ধামী। নিঃসন্দেহে জটিল ও স্পর্শকাতর এই ইস্যুতে একধাপ এগিয়ে বলিষ্ঠ নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্যের কাছেও সুশাসনের উদাহরণ তৈরি করে দিলেন পুষ্কর সিং ধামী।
মূলত কোন কোন ক্ষেত্রে কী অভিন্ন আইন প্রচলন করতে চলেছে উত্তরাখণ্ড সরকার? নিচে রইল বিস্তারিত
বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত সংস্কার:
- জাতি নির্বিশেষে বহুবিবাহ বন্ধের ঘোষণা করা হয়েছে।
- পাশাপাশি বেআইনি মতে বিবাহবিচ্ছেদ করলে তা এবার থেকে অপরাধযোগ্য হবে।
- ট্রিপল তালাক, খুলা, জিহার ইত্যাদি নিয়মে বিবাহবিচ্ছেদ আইনি বৈধতা পাবে না।
- আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিবাহতে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
বাধ্যতামূলক বিয়ের রেজিস্ট্রেশন:
- বিবাহিত দম্পতি তাদের বিয়ের রেজিস্ট্রি না করলে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হবে।
- লিভ-ইন সম্পর্কের রেজিস্ট্রি না থাকলে কারাবাস পর্যন্ত হতে পারে।
- প্রতারণা ও বহুবিবাহ রুখতে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন রেকর্ড জনগণের নাগালে রাখতে হবে। যদিও ভিন্ন ধর্মে বা ভিন্ন জাতির মধ্যে বিয়ের ক্ষেত্রে উদ্বেগ থাকছে।
সন্তানের উপর অধিকার ও অভিভাবকত্ব:
- আইনি মতে সন্তানের অভিভাবক থাকবেন তার বাবা। তবে মায়ের হেফাজতেই থাকবে সন্তান।
- ৫ বছরের নিচে শিশুর উপর অধিকার স্বাভাবিকভাবেই মায়ের কাছে থাকবে।
- অনাথ অথবা লিভ-ইন রিলেশনশিপে সন্তানের জন্ম হলে তাদেরও বৈধ হিসেবেই ধরা হবে। বাকিদের মতোই উত্তরসূরীর অধিকার পাবে তারা।
- সন্তান দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে হিন্দু দত্তক ও রক্ষণাবেক্ষণ আইন ও জুভেনাইল জাস্টিস আইন বহাল থাকবে। তবে হিন্দুদের দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়নি ইউসিসিতে। যদিও এই ক্ষেত্রে সংস্কার আনার সুযোগ ছিল সরকারের।
পার্সোনাল ল ও রীতি রেওয়াজ:
- শর্তারোপ করে পুনর্বিবাহের রেওয়াজ খারিজ করা হবে। স্থানীয় রীতি যেমন পঞ্চায়েচ ডিভোর্স অপরাধযোগ্য বলে ধরা হবে।
- বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় খোরপোষ সংক্রান্ত আইনও অভিন্ন থাকবে।
অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মাধ্যমে একাধিক স্থানীয় রীতি রেওয়াজকে অপরাধযোগ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। যার জেরে সংখ্যালঘুদের উপর তা অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন ভাবাবেগের উপরও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রভাব ফেলতে পারে আশঙ্কা সমালোচকদের। আবার সন্তানদের প্রাথমিক অভিভাবক হিসেবেই বাবাকে স্থান দেওয়ায় অনেকেই লিঙ্গ বৈষম্যের অভিযোগ তুলছেন।
ধর্মীয় পার্সোনাল ল গুলিকে এক ছাতার তলায় এনে একটিই অভিন্ন আইন বানানোর পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে ইউসিসিতে। হিন্দু বিবাহ আইন, শরিয়ত আইন, খ্রিষ্টান বিবাহ আইন উঠে একটিই অভিন্ন চালু হবে উত্তরাখণ্ডে।
বৈষম্য দূর করে সকলকে সুবিচার দেওয়ার লক্ষ্যেই তাৎপর্যপূর্ণ এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। তবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে সরকারকেও সতর্ক থাকতে হবে। যাতে করে কোনও সম্প্রদায় না সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে ভারতের সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমূল পরিবর্তন আসতে পারে উত্তরাখণ্ড থেকেই।












Click it and Unblock the Notifications