অযোধ্যার পরে আরও এক দাবি পূর্ণ হতে চলেছে! উত্তরখণ্ড বিধানসভায় UCC বিল পেশ নিয়ে আর কী প্রতিক্রিয়া BJP-র
Uttarakhand UCC: উত্তরাখণ্ড বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। এরপরেই বিধানসভার কার্যবিবরণী স্থগিত করে দেওয়া হয়। মধ্যাহ্ন ভোজনের পরে সেই কার্যক্রম আবার শুরু হবে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আইন পাস করাতে ৫-৮ ফেব্রুয়ারি বিধানসভার চার দিনের অধিবেশন ডাকা হয়েছে।
বিরোধী দলনেতা যশপাল আর্য এব্যাপারে সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন বিলের কপি অসম্পূর্ণ। এব্যাপারে সরকার প্রশ্ন এড়ানে চায় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। অন্যদিকে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াত বলেছেন, রাজ্য সরকার যদি শাসক শ্রেণির জন্য অন্য সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যে হস্তক্ষেপ করতে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনে, তাহলে শত্রুতা করা হবে না কি?

উত্তরাখণ্ড বিধানসভায় উত্থাপিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল নিয়ে উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা কেশবপ্রসাদ মৌর্য বলেছেন, এটিকে স্বাগত জানাচ্ছেন তাঁরা। বিজেপির তিনটি প্রধান দাবির ছিল অযোধ্যায় রাম মন্দির, ধারা ৩৭০ বিলোপ এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়ন করা। এব্যাপারে তিনি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামিকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
এর আগে রবিবার দেরাদুনে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে পুস্কর সিং ধামির সভাপতিত্বে হওয়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিলটি পাশ করানো হয়। তার আগে অবশ্য সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি পাহাড়ি ওই রাজ্যের জন্য ইউনিফর্ম সিভিল কোড বিলের খসড়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করে।
উত্তরখণ্ডের অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিলের লক্ষ্য ধর্ম নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য অভিন্ন বিবাহ, বিবাহ বিচ্ছেন, জমি, সম্পত্তি, উত্তরাধিকার আইনের জন্য একটি আইনি কাঠামো প্রদান করবে। বিধানসভায় পাশ হলে, উত্তরাখণ্ড স্বাধীনতার পরে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি গ্রহণে দেশের প্রথম রাজ্য হয়ে উঠবে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, খসড়া বিলের প্রধান সুপারিশগুলির মধ্যে রয়েছে, বহু বিবাহ এবং বাল্য বিবাহের ওপরে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা, সব ধর্মের মেয়েদের জন্য একটি সাধারণ বিবাহযোগ্য বয়স এবং বিবাহ বিচ্ছেদের অনুরূপ ভিত্তি ও পদ্ধতি প্রয়োগ করা।
বিষয়টি নিয়ে উত্তরাখণ্ডের রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় সংগঠনগুলি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মুসলিম সার্ভিস অর্গানাইজেশন ইউনিফর্ম সিভিল কোডের বিরোধিতা করে একটি বিবৃতি জারি করে বলেছে, এটি ধর্মীয় বৈশিষ্টের পরিপন্থী। মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, একটি ধর্মের জন্য নির্দিষ্ট আইনগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। রাজ্যের প্রধান ইমাম অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করতে সব ধর্মের আইনি বিশেষজ়্দের অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য সরকারের সমালোচনা করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications