'শিয়রে শমন' ওমিক্রন, আগামী মার্চ পর্যন্ত 'কোভিড-আক্রান্ত রাজ্য' ঘোষিত উত্তরপ্রদেশ
'শিয়রে শমন' ওমিক্রন, আগামী মার্চ পর্যন্ত 'কোভিড-আক্রান্ত রাজ্য' ঘোষিত উত্তরপ্রদেশ
বিশ্ব জুড়ে চলছে ওমিক্রন আতঙ্ক। আর তাতে বিন্দুমাত্র পিছিয়ে নেই আমাদের দেশও। ইতিমধ্যেই ভারতে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে ভারতে ৭০০ অতিক্রম করেছে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা। কিন্তু তার পরেও দেখা গিয়েছে অসচেতনতার ছবি। ক্রিসমাসে জনজোয়ার দেখে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে আর কয়েক ঘণ্টা পরেই আসছে ৩১ ইভ আর নতুন বর্ষ বরণ। সেক্ষেত্রে যাতে বড়দিনের পুনরাবৃত্তি না হয় তাতে সচেষ্ট প্রশাসন। আর এরই মধ্যে নিজেদের 'কোভিড-আক্রান্ত রাজ্য' বলে ঘোষণা করল উত্তরপ্রদেশ।

কোভিড-আক্রান্ত যোগী রাজ্য
ওই রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব অমিত মোহন প্রসাদ জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশ জনস্বাস্থ্য ও মহামারী নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২০-এর ৩ নম্বর ধারার অধীনে সমগ্র রাজ্যকে কোভিড-আক্রান্ত হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই নির্দেশিকা আগামী ৩১ মার্চ ২০২২ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, বা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বজায় থাকবে।

একাধিক নির্দেশিকা উত্তরপ্রদেশে
ইতিমধ্যে দিন কয়েক আগেই রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। করোনা বিধি নিয়ে উত্তরপ্রদেশে জাড়ি করা হয়েছে কড়া নির্দেশিকা। জনসাধারণের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে মাস্ক। যাঁরা ব্যবসা করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও মাস্ক পরা জরুরি। সবাই নির্দেশ পালন করছে কিনা তা নিশ্চিত করতে নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। নাইট কার্ফুর পাশাপাশি, বিয়েবাড়ি এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে ২০০-র বেশি অতিথি সমাবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উত্তরপ্রদেশে নাইট কার্ফু
যে মাত্রায় ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ উত্তরপ্রদেশ সরকার। ২৫ ডিসেম্বর থেকেই সেখানে চালু হয়েছে নাইট কার্ফু। রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত চালু রয়েছে নাইট কার্ফু। রাত ৯টার পর একসঙ্গে রাস্তায়একাধিক লোকের জমায়েতেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এ ছাড়াও একগুচ্ছ সতর্কতা বিধি জারি করেছে যোগী সরকার।

দেশে করোনা গ্রাফ
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৯ হাজার ১৯৫ জন। গত ২০ দিন পর দেশের দৈনিক সংক্রমণ ফের ৯ হাজার ছাড়াল। এদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে এখনও পর্যন্ত ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৮১ জন। এর মধ্যে ২৩৮ জনই দিল্লিতে। মহারাষ্ট্রে ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়েছেন ১৬৭ জন। এই দুই রাজ্যে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা সবথেকে বেশি। ওমিক্রন কাটিয়ে সুস্থ্য হয়েছেন ২৪১ জন। কিন্তু মাত্র কয়েকদিনের মাথাতেই ওমিক্রনের এই বাড়বাড়ন্তে মোটেই খুশি নন বিশেষজ্ঞ মহল।
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications