ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে ভারতের উপর নির্ভরশীল বাইডেনের আমেরিকা!
ভারতে এসে পরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, জাতীয় প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন লয়েড অস্টিন। এবং এরপরই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভারতের গুরুত্ব প্রসঙ্গে মুখ খোলেন অস্টিন। এবং অস্টিনের বক্তব্যে বাইডেন প্রশাসনের ভারতের উপর নির্ভশীলতা ফুটে উঠেছে স্পষ্ট ভাবে।

ভারত-মার্কিন বন্ধুত্বের গুরুত্ব
এদিন রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর অস্টিন বলেন, 'ইন্দো-প্যাসিফিকে আমরা সবাই একটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। সম মানসিকতার দেশের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমেই এই চ্যালেঞ্জকে প্রতিহত করা সম্ভব। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যন্য ভারত খুবই গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেভাবে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে তাতে ইন্দো প্যাসিফিকে শান্তি বজায় রাখতে ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।'

সামরিক সম্পর্ক বাড়ানোয় আরও বেশি গুরুত্ব
ভারত ও আমেরিকা তাদের সামরিক সম্পর্ক বাড়ানোয় আরও বেশি গুরুত্ব দেবে৷ যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানালেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং৷ আজ ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জেনারেল লয়েড অস্টিন দু'দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন৷ সেখানেই এই যোথ বিবৃতি দেওয়া হয়েছে৷ তবে, শুধুই সামরিক সম্পর্কই নয়, দুই দেশের একাধিক দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে৷

চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন ভারত-আমেরিকা
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও বৃহত্তর পর্যায়ে সহযোগিতা, তথ্য আদানপ্রদান এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক পণ্য সহযোগিতা নিয়ে ওই বিবৃতে উল্লেখ করা হয়েছে৷ সেখানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, 'আমরা দু'তরফের সামরিক সম্পর্ক আরও বৃহত্তর ক্ষেত্রে বাড়ানোয় গুরুত্ব দিচ্ছি৷ তিনি আরও জানিয়েছেন, দুই দেশের প্রতিরক্ষা স্তরের এই আলোচনা খুবই ইতিবাচক এবং ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজনাথ৷ পাশাপাশি ভারত ও আমেরিকা বিশ্বব্যাপী কৌশলগত অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে সম্পূর্ণভাবে বদ্ধপরিকর৷ একই সঙ্গে ভারতের নয়া বিদেশি বিনিয়োগনীতি অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্পকে ভারতে স্বাগত জানিয়েছেন রাজনাথ সিং৷

সামরিক পণ্য আদানপ্রদান
প্রতিরক্ষা ছাড়াও দুই দেশ একাধিক দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনা করেছে৷ যেখানে ভারত ও আমেরিকা ভারত মহাসাগর এবং আফ্রিকা কমান্ডে দুই দেশের সেনার সহযোগিতা বাড়ানোয় সহমত পোষণ করেছেন রাজনাথ এবং লয়েড৷ পাশাপাশি সামরিক পণ্য আদানপ্রদানেও ভারত ও আমেরিকা একে অপরকে সহযোগিতা করবে বলে স্থির করা হয়েছে আজকের বৈঠকে৷

ভারত-রাশিয়া বন্ধুত্ব নিয়ে অস্বস্তিতে আমেরিকা
এদিকে অস্টিনের ভারত সফর আরও একটি কারণে খুব তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ কয়েকদিন আগেই রাশিয়া থেকে এস-৪০০ মিসাইল সিস্টেম কেনা নিয়ে ভারতকে বার্তা দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন। এই আবহে ভারত-মার্কিন সামরিক এবং প্রতিরক্ষা সমঝোতা বৃদ্ধিই লয়েডের সফরের মূল লক্ষ্য। যদিও রাশিয়া থেকে ভারতের এস-৪০০ কেনা নিয়ে অস্টিন-রাজনাথের কোনও কথা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।












Click it and Unblock the Notifications