জ্যোতিরাদিত্যকে আক্রমণ করে ক্ষমা চাইলেন কল্যাণ, তোলপাড় সংসদ! সাসপেনশন দাবি মহিলা সাংসদদের
Kalyan Banerjee: কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তোলপাড় সংসদ। দফায় দফায় মুলতুবি হলো লোকসভার অধিবেশন।
বিজেপির মহিলা সাংসদরা দাবি জানালেন, চলতি অধিবেশন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের এই সাংসদকে সাসপেন্ড করার। মন্তব্যের জেরে কল্যাণ ক্ষমা চাইলেও তাতে কাজ হয়নি।

লোকসভায় আজ আলোচনা চলছিল বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে সংশোধন আনার বিষয়ে। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলতে উঠে স্বাভাবিকভাবেই নিশানা করেন কেন্দ্রীয় সরকারকে। কল্যাণ অভিযোগ করেন করোনাকালে কেন্দ্রীয় সরকারের অসহযোগিতার বিষয়ে।
কল্যাণের বক্তব্যের বিরোধিতা করেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। তিনি দাবি করেন, সব রাজ্যকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাহায্য করেছেন। তাতেই ওই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গিয়েছে। তবে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন পৌঁছনোর ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল বলেও জানান রাই।
নিত্যানন্দ রাইকে সমর্থন করতে এগিয়ে আসেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পদক্ষেপের জন্যই করোনাকালে ভারত বিশ্ববন্ধুতে পরিণত হয়েছে। অনেক দেশকেই করোনা পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করেছে ভারত।
সেই সময়ই কল্যাণ জ্যোতিরাদিত্যকে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। সেই বক্তব্য রেকর্ডে যাবে না বলে জানিয়ে দেন স্পিকার ওম বিড়লা। যদিও কল্যাণের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে শাসক ও বিরোধী সাংসদদের বাদানুবাদে অধিবেশন মুলতুবি রাখা হয়।
ফের অধিবেশন বসলে কল্যাণ জ্যোতিরাদিত্যর কাছে ক্ষমা চান। এরপর জ্যোতিরাদিত্য বলেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় উঠে দাঁড়িয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। আমরা সকলেই এখানে আসি সংবিধানের নামে শপথ নিয়ে দেশের বিকাশের লক্ষ্যে। সকলেরই আত্মসম্মানও রয়েছে।
সিন্ধিয়ার কথায়, জীবনে আত্মসম্মানের প্রশ্নে সমঝোতা করা কারও উচিত নয়। আমাদের নীতি, আমাদের মতামতকে আক্রমণ করা যেতেই পারে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হলে তার পাল্টার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু আমি তা গ্রহণ করছি না। কেন না আমার সঙ্গে তিনি দেশের নারীদেরও অসম্মান করেছেন।
এরপর ফের ক্ষমা চান কল্যাণ। কিন্তু ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে প্রতিবাদ চলতেই থাকে। সেই সময় স্পিকারের চেয়ারে ছিলেন এ রাজা। তিনি বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি করে দেন। ফের সংসদের অধিবেশন বসলে বলতে ওঠেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ। কিন্তু ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে প্রতিবাদ চলতে থাকায় দিনের মতো অধিবেশন মুলতুবি করা হয়।
জানা গিয়েছে, বিজেপির মহিলা সাংসদরা এদিন দেখা করেছেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর সঙ্গে। কল্যাণের নামে তাঁরা অভিযোগ করেছেন। জ্যোতিরাদিত্যকে এদিন কল্যাণ যা বলেছেন তাতে চলতি শীতকালীন অধিবেশন থেকেই তৃণমূলের শ্রীরামপুরের সাংসদকে সাসপেন্ড করার দাবি জানিয়েছেন বিজেপির মহিলা সাংসদরা।












Click it and Unblock the Notifications