উত্তর প্রদেশ নির্বাচনে ব্যর্থ! 'মিনি লোকসভা' নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোর কোথায়, উঠছে কৌশল নিয়ে প্রশ্ন
উত্তর প্রদেশ (Uttar Pradesh) -সহ ৫ রাজ্যের নির্বাচন হতে চলেছে। প্রথম দফার নির্বাচন ১০ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু গত বছর সাত-আট ধরে যে নাম ভারতীয় রাজনীতির ময়দানে যুক্ত হয়েছে সেই প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor) সাড়া নেই বললে
উত্তর প্রদেশ (Uttar Pradesh) -সহ ৫ রাজ্যের নির্বাচন হতে চলেছে। প্রথম দফার নির্বাচন ১০ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু গত বছর সাত-আট ধরে যে নাম ভারতীয় রাজনীতির ময়দানে যুক্ত হয়েছে সেই প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor) সাড়া নেই বললেই চলে। কিন্তু কেন এই অবস্থান প্রশান্ত কিশোরের।

২০১৪ সাল থেকে রেকর্ড
২০১৪ সালের আগে প্রশান্ত কিশোরকে তেমন কেউ চিনতেন না। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসেন। তারপর থেকেই প্রশান্ত কিশোরের নাম সামনে আসে। এরপর অবশ্য বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে নীতীশ কুমারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর। তবে তার সঙ্গেও পরে সম্পর্কের অবনতি হয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশান্ত কিশোরের সব থেকে বড় সাফল্য পশ্চিমবঙ্গে। ২০১৯-এ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে আসন হারানোর পরে প্রশান্ত কিশোর তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত হন। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রশান্ত কিশোর বলেই দিয়েছিলেন তিন অঙ্কে পৌঁছতে পারবে না বিজেপি। হয়েছিলও তাই। তবে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন সমাপ্ত হওয়ার পরে তিনি জানিয়েছিলেন তিনি আর নির্বাচনী কৌশলী হিসেবে কাজ করবেন না। মধ্যে অবশ্য শোনা গিয়েছিল, তিনি তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভায় যাবেন। আবার তিনি কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন বলেও শোনা গিয়েছিল। যদিও তার কোনওটিই হয়নি।

মধ্যে উত্তর প্রদেশের নির্বাচনে ব্যর্থ
২০১৭-র উত্তর প্রদেশ নির্বাচনে ব্যর্থ হয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর। সেই সময় তিনি কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশলী হিসেবে কাজ করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে সফল হওয়ার পরে তৃণমূল ত্রিপুরা ও গোয়ায় তাঁর সংস্থা আইপ্যাকের সাহায্য নেয়। এরমধ্যে অবশ্য প্রশান্ত কিশোর এমন মত প্রকাশ করেছেন, যা কোনও সময় বিজেপির পক্ষে কিংবা বিজেপির বিপক্ষে গিয়েছে। উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনকে সাধারণভাবে মিনি লোকসভা নির্বাচন বলা হয়ে থাকে। কেননা সেখানকার বিধানসভা আসনের সংখ্যা দেশের মধ্যে সব থেকে বেশি।

বর্তমানে আলোচনা থেকে দূরে
বিধানসভা ভোটের আগেও পশ্চিমবঙ্গে বিরোধীরা অভিযোগ করেছিলেন দল ভাঙাতে মদত দিচ্ছে প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা। বাম কিংবা কংগ্রেসের অনেক নেতাই অভিযোগ করেছিলেন, আইপ্যাকের নাম করে তাঁদের কাছে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশের রাজনীতিতে যেসব দল সংগঠনের ওপরে বিশ্বাসী, তারা বলছেন প্রশান্ত কিশোর এমন একটা পদ্ধতিতে কাজ করেন, যেখানে রাজনীতিতে কর্পোরেটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন প্রশান্ত কিশোর। যে কোনও দলের মৌলিক গঠনকেই প্রশান্ত কিশোর ধ্বংস করে গিয়ে মেরুকরণের কৌশলের ওপরে নির্ভরতা বাড়াচ্ছে প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা।

প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে অসন্তোষ
পশ্চিমবঙ্গে ভোটে সাফল্যের পরে একটা সময়ে শোনা গিয়েছিল, প্রশান্ত কিশোর কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় হয়। পরে কংগ্রেস সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, প্রশান্ত কিশোর কংগ্রেসকেই নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব তা বুঝতে পেরে প্রশান্ত কিশোরের যোগদান বিরত রাখে। পরবর্তী সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে বিভিন্ন ছোট দলের সঙ্গে তাঁর আলোচনায় সামনে আসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে পুরভোটে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরেই প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা।












Click it and Unblock the Notifications