'আব্বাজান' বিতর্কের মধ্যেই ফের এক বিতর্ক, মহিষ-ষাঁড়ের সঙ্গে মহিলাদেরও একই বন্ধনীতে ফেললেন যোগী
'আব্বাজান' বিতর্কের মধ্যেই ফের এক বিতর্ক, মহিষ-ষাঁড়ের সঙ্গে মহিলাদেরও একই বন্ধনীতে ফেললেন যোগী
সামনের বছরেই নির্বাচন। তার আগে উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বিরোধীদের জবাব দিতে নেমেছেন উত্তর প্রদেশের (uttar pradesh) মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (yogi adityanath)। এরই মধ্যে গণ্ডগোল। উত্তর প্রদেশের উন্নয়নে কলকাতার উড়ালপুলের বিতর্ক কাটতে না কাটতেই এবার মুখ্যমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে মহিষ (buffalo) এবং ষাঁড়দের (bull)সঙ্গে রাজ্যের মহিলাদের (women) তুলনা করে বিতর্ক তৈরি করলেন।

দলীয় কর্মীদের কর্মশালায় মুখ্যমন্ত্রী
রাজ্যের কোনও যুবক-যুবতী বাইরে কোথাও থাকেন, বাড়ির মহিলারা জিজ্ঞাসা করেন, তাঁরা সুরক্ষিত আছেন তো? মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, আগে রাজ্যের কন্যা কিংবা বোনেরা সুরক্ষিত ছিলেন না। এখন তাঁরা সুরক্ষিত বলেই পাল্টা প্রশ্ন করেন। লখনৌতে বিজেপি সদর দফতরে দলের কর্মীদের কর্মশালায় যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যের পরিস্থিতির পরিবর্তন
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ব উত্তর প্রদেশ নয়, পশ্চিম উত্তর প্রদেশে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি আলাদা। তাঁরা কি পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন না, প্রশ্ন করেন যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেন, মহিষা, ষাঁড় কিংবা কোনও মহিলাকে কি জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে? এটা কি পরিবর্তন নয়? তিনি প্রশ্ন করেন, উত্তর প্রদেশের পরিচয় কী ছিল? যদি কোনও গর্ত থাকত, তা ছিল উত্তর প্রদেশে। অন্ধকারাচ্ছন্ন কিছু থাকলেই তা ছিল উত্তর প্রদেশে। কোনও সভ্য মানুষ রাতে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে ভয় পেতেন। কিন্তু এখন এসব হয় না, দাবি করেছেন যোগী আদিত্যনাথ।

'আব্বাজান' বিতর্ক
আগেকার সমাজবাদী সরকারের 'আব্বাজান' বিতর্ক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি এর আগে বলেছিলেন ২০১৭ সালের আগে শুধুমাত্র যারা 'আব্বাজান' বলত তারাই রাজ্যের ভর্তুকি যুক্ত খাবার পেতো। তখন যারা 'আব্বাজান' বলত, তারাই রেশন হজম করত বলে মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর কুশীনগরের রেশন নেপাল আর বাংলাদেশে চলে যেত বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। এখন যদি কেউ গরিব মানুষের রেশন হজম করতে যায়, তাহলে তার স্থান জেল, রবিবার কুশীনগরে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রবল সমালোচনা করেছিলেন বিরোধীরা।

আগেও বিতর্কিত মন্তব্য
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আগেও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। ধর্মনিরপেক্ষতার বিরোধিতা করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। অযোধ্যা রিসার্চ সেন্টারের অনুষ্ঠানে গিয়ে যোগী বলেছিলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা বিশ্বের দরবারে ভারতের সংস্কৃতির জন্য বড় সংকট। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছিলেন, যাঁরা নিজেদের স্বার্থের জন্য মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন, দেশের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করছেন, তাঁরা ফল পাবেনই।
২০১৭ সালের উত্তর প্রদেশে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিল বিজেপি এবং মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। আগামী বছরেই নির্বাচন হতে যাচ্ছে উত্তর প্রদেশে।












Click it and Unblock the Notifications