গম কেনার চূড়ান্ত দাম বেঁধে দিল যোগী সরকার! কৃষকদের কথা ভেবে বড় সিদ্ধান্ত
উত্তরপ্রদেশ জুড়ে উন্নয়নের বিপ্লব চলছে। রাস্তা থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান সবেতেই উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলছে। এই অবস্থায় কৃষকদের স্বার্থে বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
কৃষিক্ষেত্রে যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটেছে উত্তরপ্রদেশ জুড়ে। বিশেষ করে কৃষকদের উন্নয়নের কথা ভেবে ইতিমধ্যে একাধিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যোগী সরকার। আর এর মধ্যে গম সংগ্রহের ক্ষেত্রে বেঁধে দেওয়া হল দাম। আগামী ২০২৩-২৪ সালের গম সংগ্রহের জন্য যোগী আদিত্যনাথ সরকার নয়া দাম ঘোষণা করেছে।
আর তা ঘোষণা অনুযায়ী ২১২৫ টাকা প্রতি কুইন্টাল রেটে আগামী ১লা এপ্রিল থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত গম সরকার কিনবে। যেখানে গত বছর ২০১৫ টাকা প্রতি কুন্টাল রেটে গম কিনেছিল সরকার।
এই বছর কৃষকদের পরিস্থিতির কথা ভেবে গম কেনার দাম ১১০ টাকা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, লাভ যাতে সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছয় সেই কারনে একাধিক সিদ্ধান্তও যোগী সরকার নিয়েছে বলেই খবর।

টাকা সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে
সরকারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, গম কেনার টাকা সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। তবে যে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার যুক্ত রয়েছে সেখানেই এই টাকা পড়বে বলে জানিয়েছেন ওই আধিকারিক। তবে সরকারি ক্ষেত্রে কৃষক যে গম বিক্রি করতে চান তা জানাতে যে কোনও জনসুবিধা কেন্দ্রে কৃষকদের যাওয়ার কথা বলা হয়েছে কিংবা খাদ্য বিভাগের পোর্টালে গিয়েও রেজিস্ট্রেশন কৃষকরা করতে পারেন বলে জানানো হয়েছে যোগী সরকারের তরফে। এর মাঝখানে যাতে কৃষকদের কোনও তৃতীয় ব্যক্তির পাল্লায় না পড়তে হয় সেজন্যেই যুগান্তকারী ব্যবস্থা উত্তরপ্রদেশ সরকারের।

আধার কার্ড খুবই প্রয়োজন
তবে কৃষকদের রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে আধার সংখ্যা এবং আধার কার্ডে থাকা নামই রেজিস্ট্রেশনে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একদিকে কৃষকদের স্বার্থ অন্যদিকে জালিয়াতি ঠেকাতেই এমন কড়াকড়ি ব্যবস্থা বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট সক্রিয় থাকাটাও জরুরি। আর সেজন্যে ব্যাঙ্কের অন্তত তিন মাসের লেনদেন থাকতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে কৃষকদের আধার কার্ড থাকাটা বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয়েছে।

গম বিক্রি করার ক্ষেত্রে ওটিপি আসবে।
ওই সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, গম বিক্রি করার ক্ষেত্রে ওটিপি আসবে। আর এর মাধ্যমেই রেজিস্ট্রেশন হবে। এজন্যে কৃষকদের মোবাইল নম্বর যাতে চালু থাকে সেই কথাও জানানো হয়েছে। তবে গম বিক্রির ক্ষেত্রে হিসাব এবং ওজন সমস্ত কিছুই মেশিনের দারা করা হচ্ছে। তবে গম বিক্রি হয়ে গেলে অটোমেটেড মেশিন থেকে বেরিয়ে আসা নথি কৃষকরা যাতে নেয় তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ওই আধিকারিক এই প্রসঙ্গে আরও জানিয়েছেন, যে সমস্ত কৃষকরা ২০২২-২৩ সালে ধান কেনার জন্যে ইতিমধ্যে রেজিস্ট্রেশন করে ফেলেছেন তাঁদের নতুন করে গম কেনার জন্যে রেজিস্ট্রেশন করার প্রয়োজন নেই বলে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে সরকারের তরফে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। একটি নম্বরও দেওয়া হয়েছে। সেখানে ফোন করে কৃষকরা নানা প্রশ্নের উত্তর সহজেই জেনে নিতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।

কৃষকদের উন্নয়নের কথা জানিয়েছেন যোগী
বলে রাখা প্রয়োজন, গত কয়েকদিন আগেই উত্তরপ্রদেশে কীভাবে কৃষক এবং কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটছে সেই সংক্রান্ত তথ্য দেন যোগী। বলেন, কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের হার বেড়েছে অনেকটাই। ৬.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে একধাক্কায় হয়েছে ১৮.২ শতাংশ। নরেন্দ্র মোদী ২০১৮ সাল থেকে 'প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান' দিতে শুরু করেছে। আর সেই যোজনাতে উত্তরপ্রদেশের ২.৬০ কোটি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে মোট ৫১ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন যোগী আদিত্যনাথ। যা কৃষকদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications