উত্তর প্রদেশের বিধানসভা ভোটের জন্য বিজেপির অলআউট প্রস্তুতি, জোটসঙ্গী নতুন ৭ টি দল
উত্তর প্রদেশের বিধানসভা ভোটের জন্য বিজেপির অলআউট প্রস্তুতি, জোটসঙ্গী নতুন ৭ টি দল
২০২৪-এর লোকসভা (loksabha) নির্বাচনের আগে উত্তর প্রদেশের (Uttar Pradesh) বিধানসভা (Assembly) নির্বাচন বিজেপির (BJP) কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই নির্বাচনে বেশি আসন দখলে রাখতে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। মুম্বই থেকে পূর্ব উত্তর প্রদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনে আসা ব্যক্তিই হোন কিংবা ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশে তিন আসনে প্রার্থী জমানত খুইয়ে যাওয়া দলের সঙ্গে বিজেপি নির্বাচনী সমঝোতা করেছে। সব মিলিয়ে সাতটি দলের সঙ্গে জোট করেছে বিজেপি। যারা উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী।
বিজেপির পুরনো সহযোগী ওপি রজভরের সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টি সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট করার কথা ঘোষণা পরে বিজেপি তাদের দৃষ্টি ঘুরিয়েছে রাজ্যের আরও ছোট দলের দিকে।

হিয়েদারি মোর্চার সঙ্গে জোট
হিসেদারি মোর্চার অধীনে রয়েছে এই সাতটি দল। মোর্চার কনভেনর কেয়ত রামধানী বলেছেন উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে তারা অন্তত ১৫ টি আসন আশা করছেন। তিনি বলেছেন, রাজ্যের বিভিন্ন জাতের সমর্থন রয়েছে তাদের পিছনে। তারা দেখেছে বিজেপি যাদবদের বাদ দিয়ে ওবিসি এবং দলিতদের প্রাধান্য দিতে চায়। সেই কারণে তারা জোট করেছে। তাদের মোর্চাকে বড় মঞ্চ দেওয়ায় রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বকে তিনি ধন্যবাদও জানিয়েছেন। একনজরে সাতটি দলের পরিচিতি--

ভারতীয় মানব সমাজ পার্টি
দলের প্রতিষ্ঠা ২০১৭ সালে। দলের প্রধান হলেন কেয়াত রামধানি বিন্দ। বিন্দ ওবিসি সম্প্রদায় ভুক্ত। মূলত নিশাদরাই এর মধ্যে পড়েন। পূর্ব উত্তর প্রদেশের ১০ জেলা বিশেষ করে প্রয়াগরাজ, জুনপুর, বারানসী, মির্জাপুর, শোনভদ্র, গাজিপুরে এঁদের ভোটের পরিমাণ প্রায় ৬ শতাংশের মতো। এঁরা আগে বিএসপি এবং এসপিকে ভোট দিতেন। কেয়াত রামধানি বিন্দ নিজেকে মুম্বই ফেরত বলে দাবি করে বলেছেন, তিনি পূর্ব উত্তর প্রদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন করতে চান। এর আগে তিনি ভাগীদারি সংকল্প মোর্চার মধ্যে ছিলেন।

শোসিত সমাজ পার্টি
প্রধান হলেন বাবুলাল রাজভর। দলের প্রতিষ্ঠা ২০২০ সালে। সমাজের দুর্বল অংশ, বিশেষ করে রাজভরদের প্রাধান্য দিয়ে থাকে। তবে বাবুলাল রাজভর দলকে শুধু রাজভরদের মধ্যেই নয়, সবার মধ্যেই নিয়ে যেতে চান। আগে তিনি ওপি রাজভরের সঙ্গে ছিলেন। বাবুলালের দাবি অনুযায়ী, রাজভররা পূর্ব উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় ১৪ থেকে ২২ শতাংশের মতো রয়েছেন।

ভারতীয় সুহেলদেব জনতা পার্টি
দলের নেতা ভিম রাজভর। দলের প্রতিষ্ঠা হয়েছে ২০২০ সালে। বালিয়া জেলার রাজভরদের জন্য এই দল। এর আগে তিনি ওপি রাজভরের সঙ্গেই ছিলেন।

ভারতীয় সমতা সমাজ পার্টি
প্রধান হলেন মহেন্দ্র প্রজাপতি। দলের প্রতিষ্ঠা ২০০৮ সালে। মূলত ওবিসি ভুক্ত প্রজাপতিদের জন্যই এই দল। নিজ সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য আর্থিক সুস্থিতি আনতে চায় তারা। নেতার দাবি অনুযায়ী, সারা রাজ্যে তাদের সম্প্রদায় মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশের মতো। এঁরা মূলত কুমোরের কাজ করেন। আগে এসপিকে সমর্থন করলেও, বর্তমানে বড় অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন। এই সম্প্রদায়ের জন্যই কয়েকমাস আগে যোগী আদিত্যনাথের সরকার মাটি কালা বোর্ড তৈরি করেছেন। এই দল ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল, কিন্তু সবকটিতেই জমানত খুইয়েছে।

মানবহিত পার্টি
প্রধান কৃষ্ণগোপাল সিং কাশ্যপ। দলের প্রতিষ্ঠা ২০১৫ সালে। মূলত কাশ্যপদের জন্যই এই দল। এঁরে ১৯৯৮ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে বিএসপির সঙ্গে ছিলেন। দাবি অনুযায়ী, সারা রাজ্যে তাদের ভোট ৩ শতাংশের মতো হলেও ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে তারা কংগ্রেসকে সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের ব্যাপারে তারা নিশ্চুপ থাকায় হিসেদারি মোর্চার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

পৃথ্বীরাজ জনশক্তি পার্টি
প্রধান চন্দন সিং চৌহান। দলের প্রতিষ্ঠা ২০১৮ সালে। পূর্ব উত্তর প্রদেশের ওবিসি সম্প্রদায় ভুক্ত নোনিয়াদের লক্ষ্য করে এই দল। দলের দাবি অনুযায়ী, পূর্ব উত্তর প্রদেশের বারানসী, চান্দৌলি এবং মির্জাপুরে তাদের জনসংখ্যা ৩ শতাংশের মতো।

মুশাহার আন্দোলন মঞ্চ (গরিব পার্টি)
দলের প্রধান চন্দ্রমা বনবাসী। দলের প্রতিষ্ঠা ২০২০ সালে। মুশাহার আন্দোলন মঞ্চ নিজেদেরকে গরিব পার্টি নাম দিয়ে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেছে। মুশাহার দলিতদের জন্যই এই দল তৈরি করা হয়েছে। এরা সক্রিয় গাজিপুরে। এই দলের এক সদস্য জানিয়েছেন এই সম্প্রদায়ের মানুষের ইঁদুর ধরে জীবনযাপন করেন। পূর্ব উত্তর প্রদেশে এঁদের জনসংখ্যা প্রায় ১ শতাংশের মতো।












Click it and Unblock the Notifications