তিস্তাপারে পড়ে অরক্ষিত মর্টার-বিস্ফোরক, উদ্ধার না হওয়ায় ভয়ে মানুষজন

সেনাবাহিনীর অস্ত্রশস্ত্র গোলাবারুদ রীতিমতো দুশ্চিন্তায় ফেলেছে জলপাইগুড়ির তিস্তাপাড়ের বাসিন্দাদের। বিভিন্ন জায়গায় নদীর জলে ভেসে এসেছে সেনাবাহিনীর মর্টার সহ বহু বিস্ফোরক। প্রথমে মানুষজন সেগুলি উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পরে মানুষজন সেইসব আর ধরছেন না। তাই নদীর বিভিন্ন চড়ে ছড়িয়েছিটিয়ে থাকছে সেনাবাহিনীর গোলাবারুদ।

সিকিমের সেনাবাহিনীর ছাউনি তিস্তা ভাসিয়ে দিয়েছে। ১৫ জন সেনা জওয়ান এখনও নিখোঁজ। ৪৩ টির মধ্যে সামান্য কয়েকটি গাড়ি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু দুশ্চিন্তা ছড়িয়েছে সেনাবাহিনীর বিপুল পরিমাণ অস্ত্রভাণ্ডার। সেইসব জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে জলপাইগুড়ির বিভিন্ন এলাকায়।

Sikkim Flood

নদীর জলে মর্টার সেল সহ অন্যান্য বিস্ফোরক এসে জমা হয়েছে সমতলে। বাহিনীর জওয়ানরা সেইসব উদ্ধার করেননি। জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন অংশে সেইসব মর্টার, বিস্ফোরক ভেসে এসেছে। এদিকে সেগুলি ফেটে বড় বিস্ফোরণ হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।

পুলিশের দাবি সেনাবাহিনী ও বম্ব স্কোয়াড ছাড়া সেই যুদ্ধাস্ত্র, বিস্ফোরক সরানো সম্ভব নয়। এদিকে বম্ব স্কোয়ার্ড, সেনাবাহিনীকেও পাওয়া যাচ্ছে না। রবিবার থেকে বিভিন্ন জায়গায় সেইসব মর্টার বিস্ফোরক বারুদের বাক্স দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ গাছের পাতা, গাছের ডাল দিয়ে সেগুলিকে ঢেকে রাখছেন। কিন্তু আশঙ্কা কোনওমতেই কাটছে না।

সিকিমের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার হচ্ছে সেনাবাহিনীর মর্টার শেল। কিন্তু ঘটনার প্রায় সপ্তাহ পার হয়ে যাবার পরেও সেইসব উদ্ধার করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন তিস্তা পারের বিবেকানন্দ পল্লী এলাকায় বেশ কিছু মর্টার শেল পড়ে থাকায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা।

বাসিন্দাদের বক্তব্য, এলাকার কোথাও রাস্তায় পাশে, কোথায় চাষের জমিতে পাওয়া যাচ্ছে এইসব শেল। শুধু তাইই নয়, গত চার দিন ধরে একইভাবে বিস্ফোরক, গুলি পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত মারফত পুলিশকে জানান হয়েছে। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তিস্তার জলে কাঠ, আসবাব সহ অন্যান্য জিনিস ভেসে এসেছে। এছাড়াও সেনাবাহিনীর এইসব সরঞ্জাম ভেসে এসেছে। বাসিন্দারা প্রথমে সেইসব জল থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু মর্টার বিস্ফোরণে একজনের মৃত্যুর পর ভয় ধরেছে। অনেকে জল থেকে তুলে সেইসব নদীর পাড়েই রেখে দিয়েছেন।

খোলামেলা ভাবেই ওইসব বিস্ফোরক, সরঞ্জাম পড়ে থাকছে। কোনও বাচ্চা খেলার ছলে সেইসব ধরলে ভয়ানক ঘটনার আশঙ্কাও থাকছে। কেন সেইসব জিনিস উদ্ধার করা হচ্ছে না! তাই নিয়েও ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে বাসিন্দাদের মনে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বও এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+