পাঠ্যবই বিতর্কে নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ, পাঁচ দফা কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
শিক্ষাক্রমের বিতর্ক এবার পৌঁছোল দেশের শীর্ষ আদালতের দরজায়। বিচারব্যবস্থা সংক্রান্ত অধ্যায় ঘিরে আপত্তির জেরে অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বই নিয়ে কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে বেঞ্চ পাঁচ দফা নির্দেশ জারি করে স্পষ্ট জানিয়ে দিল এই সিদ্ধান্ত কেবল 'প্রত্যাহারে' সীমাবদ্ধ থাকবে না, বাস্তবে তা কার্যকর করতেই হবে।
আদালতের নির্দেশ, বিতর্কিত বইয়ের মুদ্রিত ও ডিজিটাল দুই ধরনের সব কপিই অবিলম্বে জনসাধারণের নাগালের বাইরে সরাতে হবে। বইয়ের দোকান, স্কুল কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সহ কোথাও যেন এটি আর উপলব্ধ না থাকে। এই কাজে কেন্দ্র ও রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে পদক্ষেপ নিতে হবে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং কে। দেরি হলে তা আদালত মেনে নেবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

আদালত জানিয়ে দিয়েছে, ইতিমধ্যেই স্কুলে পাঠানো কপিগুলি বাজেয়াপ্ত করার দায়িত্ব বর্তাবে এনসিইআরটি এর ডিরেক্টর দীনেশ প্রসাদ সাকলানির ওপর। তাঁকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, সমস্ত রাজ্যের শিক্ষা সচিবদেরও দুই সপ্তাহের মধ্যে নিজ নিজ বাস্তবায়ন রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, এই প্রত্যাহার কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবে প্রয়োগ নিশ্চিত করাই লক্ষ্য।
আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিতর্কিত বইয়ের কোনও সংস্করণ মুদ্রিত বা ডিজিটাল ভিত্তি করে পাঠদান করা যাবে না। কোথাও কপি থেকে গেলেও শিক্ষকরা তা ব্যবহার করতে পারবেন না। এতে করে পরোক্ষে বিষয়বস্তুর প্রচার বন্ধ রাখাই উদ্দেশ্য।
'অতিরিক্ত সতর্কতা' হিসেবে বইটির মুদ্রণ ও বিতরণে সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বই ছাপানো বা বিলি করার চেষ্টা হলে তা ইচ্ছাকৃত অবমাননা বলে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে কঠোর আইনি পরিণতির মুখে পড়তে হতে পারে সংশ্লিষ্টদের।
বিতর্কিত অধ্যায়টি কারা খসড়া করেছিলেন, জাতীয় পাঠ্যক্রম বোর্ডের কোন সদস্যরা যুক্ত ছিলেন তাদের নাম ও যোগ্যতার বিবরণ আদালতে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অধ্যায়টি নিয়ে যে বৈঠকে আলোচনা ও অনুমোদন হয়েছিল, সেই বৈঠকের মূল কার্যবিবরণীও পরবর্তী শুনানিতে পেশ করতে বলা হয়েছে।
এর পাশাপাশি স্কুল শিক্ষা দপ্তরের সচিব ও এনসিইআরটি এর ডিরেক্টরকে 'শোকজ' নোটিশ জারি করে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাদের বা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা আইনসহ অন্যান্য প্রযোজ্য ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
একটি স্কুল পাঠ্যবইকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে এত কঠোর ও সময়বদ্ধ নির্দেশ খুব কমই দেখা গেছে। পাঠ্যক্রম সংক্রান্ত বিতর্ক এখন আর কেবল নীতিগত মতভেদে সীমাবদ্ধ নেই, তা রূপ নিয়েছে জবাবদিহি, সময়সীমা ও সম্ভাব্য আদালত অবমাননার প্রশ্নে। শীর্ষ আদালতের এই হস্তক্ষেপে স্পষ্ট শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে দায়িত্ব ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে কোনও রকম শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না।












Click it and Unblock the Notifications