১ কোটি দিলে কুলদীপকে ছেড়ে দেব, উন্নাও কান্ডে ঘুষ চেয়ে ধৃত এই 'সিবিআই কর্তা'
বিজেপি নেতা ও সিবিআই কর্তা সেজে, উন্নাও গনধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত বিজেপি বিধায়কের স্ত্রীর কাছে, মামলা প্রত্যাহার করার প্রস্তাব দিয়ে ঘুষ চেয়ে গ্রেফতার ২
ফোনটা এসেছিল সঙ্গীতা সিং-এর কাছে। উন্নাও ধর্ষণ কাণ্ডে অভিযুক্ত বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেনগারের স্ত্রী। থাকেন লক্ষ্ণৌতে। অভিযোগ ফোনে বলা হয় ১ কোটি টাকা ঘুষ দিলেই তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে সব অভিযোগ তুলে নেওয়া হবে। কে ফোন করছেন? এক বিজেপি নেতা ও এক সিবিআই কর্তা। না, পরিচয়গুলো আসল নয়। বিজেপি নেতা ও সিবিআই কর্তা সেজে কিছু টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ধান্দায় ছিল লক্ষ্ণৌ-এরই বাসিন্দা অলোক ও বিজয়। ঘটনার তদন্তে নেমে, বৃহস্পতিবার তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। লক্ষ্ণৌ-এর এসএসপি দীপক কুমার একথা জানিয়েছেন। এদিকে আজই সিবিআই ঘটনায় কুলদীপের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্যি বলে নিশ্চিত করেছে।

সঙ্গীতা থাকেন লক্ষ্ণৌ-এর গান্ধীনগর এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে ৫ মে প্রথম ঘুষ চেয়ে ফোন আসে। ফোনের ওপার থেকে উত্তরপ্রদেশের এক প্রভাবশালী বিজেপি নেতার নাম করে ১ কোটি টাকা ঘুষ চাওয়া হয়। বলে হয় সিবিআই-এর এক কর্তাকে দিতে হবে। ১ কোটি দেওয়া সম্ভব নয় জানালে টাকার পরিমাণ নেমে আসে ৫০ লক্ষে। পরের দিন এই সিবিআই কর্তা রাজীব মিশ্রর পরিচয় দিয়ে আরেকটি ফোন আসে। সেও ঘুষের বিনিময়ে কুলদীপকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেয়। সঙ্গীতাকে বলা হয় ৭ মে লক্ষ্ণৌ-এর সিবিআই অফিসে আসতে।
সন্দেহ হওয়ায় সঙ্গীতা গাজীপুর থানায় জানান। ওই ফোন নম্বর দুটির সূত্র ধরে পুলিশ অলোক ও বিজয়ের সন্ধান পায়। অবশ্য এই ঘটনার পরদিনই উন্নাও গনধর্ষণ মামলায় চুড়ান্ত ফেসে গেল কুলদীপ। সিবিআই আজ স্পষ্ট জানিয়েছে গত বছরের ৪ জুন বিজেপি এমএলএ কুলদীপ সিং সেনগার তাঁর মাখি গ্রামের বাড়িতে ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। আর সেই সময় শশী সিং দরজার বাইরে পাহাব়ায় ছিল। এর আগে ধর্ষিতা ওই বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ আনলেও স্থানীয় পুলিশ তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে গিয়েছে। ২০১৭ সালের ২০ জুন প্রথম এই ঘটনার এফআইআর নেওয়া হয়। সেখানে এবং চার্জশিট গঠনের সময়ও কুলদীপ সিং-এর নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরে রাজনৈতিক চাপের মুখে উত্তরপ্রদেশ সরকার ঘটনাটির সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়।












Click it and Unblock the Notifications