ছড়ানো হচ্ছে ভুল তথ্য! করোনা রিপোর্ট নিয়ে সংবাদ সংস্থাকে তুলোধোনা কেন্দ্রের
করোনায় মৃত্যুর রিপোর্ট ভুল
চিনের উহান প্রদেশ থেকে গোটা বিশ্বে ধীরে ধীরে নিজেকে বিস্তার লাভ করেছে মারণরোগ করোনা। বর্তমানে সে মহীরুহের আকার ধারণ করেছে। এতদিন পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশে ছড়িয়েছে এই মারণ ভাইরাস। ২০২০ সাল থেকে একটানা দুই বছর করোনার করাল থাবাতে জর্জরিত থেকেছে পৃথিবী। আক্রান্তের সঙ্গে সঙ্গে এই মহামারীর জেরে গোটা বিশ্বের পাশাপাশি ভারতেও বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর তার সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়। কিন্তু কেন্দ্রের দেওয়া দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে তৈরি হল নয়া বচসা।

রিপোর্টে ভুল তথ্য
এই মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়েই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম তথ্য সামনে এসেছে। সম্প্রতি একটি জার্নালে সেরকমই তথ্য দেওয়া হয়েছে। দ্য ল্যানসেট নামক ওই জার্নালে বলা হয়েছে, সরকারি হিসেবে ভারতে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ সহকারি হিসেবে মৃত্যুর সংখ্যা কম দেখানো হয়েছে। ল্যানসেটের এই বক্তব্যকে নস্যাৎ করে দিয়েছে কেন্দ্র। পাশাপাশি কেন্দ্র দ্য ল্যানসেটের প্রতিবেদনটিকে প্রত্যাখ্যান করে তাকে "অনুমানমূলক এবং ভুল তথ্যপূর্ণ" বলে অভিহিত করেছে। প্রতিবেদনটি যারা তৈরি করেছেন, তারা নিজেরাই বেশ কয়েকটি ত্রুটি এবং অসঙ্গতির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানানো হয়েছে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে।

মৃত্যু সংখ্যা আটগুণ!
বিশ্বের প্রাচীনতম মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে করোনায় মৃত্যুর যে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে, আসল পরিসংখ্যান তার থেকে প্রায় আট গুণ বেশি ছিল। ভারতের জনসংখ্যা বিশাল। সেই হিসেবে ধরলে ভারত কোভিড মৃত্যুর হার বিশ্বে সর্বোচ্চ স্থানে নেই। কিন্তু ভারতের বিপুল জনসংখ্যার কারণে ২০২১ এর ৩১ ডিসেম্বর বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত মৃত্যুর প্রায় ২২.৩ শতাংশের জন্য ভারত দায়ী।

ল্যানসেটের রিপোর্ট
ল্যানসেটে বলা হয়েছে, গোটা বিশ্ব জুড়ে করোনায় মৃত্যুর পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে, তার থেকে তিনগুণ বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ এর ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ৫.৯৪ মিলিয়ন মানুষের করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। ল্যানসেটে বলা হয়েছে, এর হার অনেক টাই বেশি। সরকারি হিসাবে ভারতে কোভিড সংক্রমণে মৃতের পরিসংখ্যান যখন ৪ লক্ষ ৮৯ হাজার বলে দাবি করা হয়েছিল, সেই সময় আরো অনেক বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে জানিয়েছে ল্যানসেট।

স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বক্তব্য
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ল্যানসেট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। ভারতের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যম ও জনসংযোগ মাধ্যম গুলোতে প্রকাশিত হওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রকে পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, মহামারী পরিস্থিতিতে এই ধরনের সংবেদনশীল তথ্য সঠিকভাবে প্রকাশ করা উচিত। এই ধরনের অনুমানমূলক প্রতিবেদনের জেরে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি মানুষ বিভ্রান্তও হতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications