বিশ্বের জনসংখ্যা ৮০০ কোটি! জনবিস্ফোরণের কারণ নিয়ে ৮ মিথ খারিজ জাতিসঙ্ঘের
বিশ্বের জনসংখ্যা ইতিমধ্যে ৮০০ কোটি পেরিয়ে গিয়েছে। এই বিপুল জনবিস্ফোরণের কারণ কী, তা নিয়ে বাজারে যে ৮ মিথ রয়েছে, তা কার্যত খারিজ করে দিয়েছে জাতিসঙ্ঘ। বিশ্বের জনসংখ্যার বিপুল বৃদ্ধি নিয়ে সংবাদমাধ্যম যে সমস্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, তাতে আতঙ্কিত হচ্ছেন মানুষ।
সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে নানা বার্তা। কেউ বলছে বিশ্বে তিল ধারণের জায়গা নেই, কেউ বলছে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আবার কেউ লিখেছে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের দেখাশোনা করার কেউ নেই। এমন নানা উদ্বেগের কথা প্রতিবেদনে উঠে আসছে, কোথাও ইতিবাচক কোনো কথা নেই।

জাতিসঙ্ঘের সর্বশেষ স্টেট অফ ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিপোর্টে জনসংখ্যার বৃদ্ধি নিয়ে এবং বিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেওয়া হয়েছে। যেমন একটা মিথ চালু ছিল অনেক মানুষ জন্মগ্রহণ করছে, তাই বাড়ছে জনসংখ্যা। এর ফলে জলবায়ু বিপর্যয়, সম্পদ নিয়ে সীমাহীন সংঘাত, ক্রমবর্ধমান ক্ষুধা, মহামারী, অর্থনৈতিক বিপর্যয় তৈরি হবে।
কিন্তু সত্য হলো বিশ্বের জনসংখ্যা ৮ বিলিয়নে অর্থার ৮০০ কোটিতে পৌঁছানো মানুষের উন্নতির লক্ষণ। এর অর্থ হল আরও নবজাতক বেঁচে যাচ্ছে, আরও শিশু স্কুলে যাচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে এবং প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে উঠছে। মানুষ আজ ১৯৯০ সালের তুলনায় প্রায় ১০ বছর বেশি বেঁচে আছে। সেই কারণেই জনসংখ্যা বৃদ্ধি।
দ্বিতীয় মিথ হল পর্যাপ্ত সংখ্যক পুরুষ জন্মগ্রহণ করছে না। ১৯৫০-এর দশক থেকে বিশ্বব্যাপী নারী শিশুর সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি। বিশ্বের জনসংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ এমন জায়গায় বাস করে যেখানে প্রতিস্থাপনের হার কম। এটি একটি বিপদ সংকেত বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এর ফলে জাতি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা।
কিন্তু এই সম্ভাবনা খারিজ করে জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদনে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ব্যক্তিরা ক্রমবর্ধমানভাবে তাদের নিজস্ব প্রজনন বা জীবনের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হয়েছে। তাই প্রজনন হার কমছে। ফলে সামগ্রিকভাবে জনসংখ্যা হ্রাসের প্রয়োজন নেই। অনেক দেশ ১৯৭০ এর দশক থেকে জনসংখ্যার হার হ্রাস পেয়েছে।

মিথ তিন হল জনসংখ্যা সংক্রান্ত সমস্যা কিন্তু লিঙ্গ সমস্যা নয়। মানুষ বর্তমানে গভীরভাবে লিঙ্গ বৈষম্যের জগতে প্রবেশ করেছে। কোন শিশু জন্ম নিচ্ছে পুত্র না কন্যা, তা বিচার করছে। মানুষের প্রজনন একটি পছন্দ হওয়া উচিত, কিন্তু সর্বশেষ তথ্য আমাদের দেখায় যে, সেটি প্রায়শই হয় না।
প্রায় ৪৪ শতাংশ নারী শারীরিক স্বায়ত্তশাসন ব্যবহার করতে অক্ষম। যার অর্থ, তারা তাদের স্বাস্থ্যের যত্ন, গর্ভনিরোধক এবং যৌন মিলন করবেন কি না সে বিষয়ে তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে অক্ষম। গর্ভধারণের প্রায় অর্ধেকই অনিচ্ছাকৃত। প্রতি বছর প্রায় ৫ লক্ষ শিশুর জন্ম দেয় ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী তরুণীদের।
মিথ চার হল সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় গড় হার। প্রায়শই লক্ষ করা যায় যে, মহিলা প্রতি ২.১ শিশু হল প্রতিস্থাপনের উর্বর স্তর। তবে কিন্তু ২.১ প্রজনন হারের ফলে সর্বোচ্চ স্তরের মঙ্গল এবং সমৃদ্ধি হবে বলে বিশ্বাস করার কোন কারণ নেই বলে মনে করে জাতিসংঘ।

তারপর পঞ্চম মিথ হিসেবে বিশ্বাস করা হয়, উচ্চ প্রজনন হারের দেশগুলির মহিলারা জলবায়ু সংকটের জন্য দায়ী৷ প্রকৃতপক্ষে, তারা গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ে সবথেকে কম অবদান রেখেছে সৃষ্টিতে। এর প্রভাব থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে জাতি। আর ষষ্ঠ মিথ হল আমাদের জনসংখ্যার হার স্থিতিশীল করতে হবে।
কিন্তু প্রত্যেক মহিলার অনেকগুলি সন্তান নির্ধারণ করা উচিত নয়। ইতিহাস দেখিয়েছে যে, এই ধরনের চিন্তাভাবনা ক্ষতির কারণ হতে পারে। যেমন ইউজেনিক্স এবং গণহত্যা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আজ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু প্রজনন হারকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখিয়েছে।
সপ্তম মিথ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, আমাদের প্রজনন হারের উপর ফোকাস করতে হবে। কারণ আমাদের কাছে মহিলারা কী চায় তার ডেটা নেই। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, একজন মহিলার আকাঙ্ক্ষাগুলি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
অষ্টম মিথ হল অধিকার এবং পছন্দ তাত্ত্বিকভাবে মহান, কিন্তু বাস্তবে অসাধ্য। একজন মহিলার প্রজনন অধিকার দিতে গেলে কিছু ক্ষেত্রে বিপুল খরচ করতে হয়। গর্ভনিরোধক সমস্যা থেকে নিরাপদ ডেলিভারি এবং বন্ধ্যাত্বের যত্ন- সম্পূর্ণ পরিসরে স্বাস্থ্য-পরিষেবা প্রদানের জন্য কাজ করতে হবে। তা মানুষ এবং সমাজকে উন্নতি ও সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করবে।
-
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায়












Click it and Unblock the Notifications