Tripura Elections 2023: ত্রিপুরায় তৃণমূলের ভরসা 'ব্র্যান্ড মমতা'! রাজ্য জয়ের প্রচারে 'বাংলা' মডেল
রাজ্যের মানুষ রাজ্য শাসন করবে, ত্রিপুরায় বারে বারে বলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে ত্রিপুরায় ভাল ফল করতে তৃণমূলের ভরসা ব্র্যান্ড মমতা।
ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেস আগেও ছিল। তবে এবারে তাদের লড়াই বেশি আক্রমণাত্মক। ২০১৮-র শেষে পুরো দলই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিল। তবে ২০২১-এ বাংলা নির্বাচনে তৃতীয়বার জয়ের পরে তৃণমূল ফের ত্রিপুরায় তাদের যাত্রা নতুন করে শুরু করেছে। আর সেই যাত্রায় এবারের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী তারা।
ত্রিপুরায় দলের দায়িত্ব প্রাপ্ত রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব জানিয়েছেন, দলের পশ্চিমবঙ্গে শাসন মডেলই তাদের শক্তি। ব্র্যান্ড মমতার ভরসাতেই তারা লড়াই করছেন।
শাসকের বিরুদ্ধে হিংসার অভিযোগ
সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকার সুস্মিতা দেব বলেছেন, ত্রিপুরায় হত প্রায় দেড় বছর ধরে লড়াই করছেন। তবে তাদের এই যাত্রা প্রথমে সহজ ছিল না। শাসরদলের বিরুদ্ধে হিংসার অভিযোগ করে তিনি বলেছেন, ২০২২-এর জুন পর্যন্ত তারা অফিস খুলতে পারেননি। পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের মারধর থেকে ভয় দেখানো সবরকম কাজ করা হয়েছিল। দলের কর্মী সমর্থকরা পুরোপুরি ভোট না দিতে পারলেও তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর আরও দাবি, সেই সময় কোথাও বাম কিংবা কংগ্রেস ছিল না। তৃণমূলই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। রাজ্যের মানুষ সেই বাস্তবতা জানে। তিনি আরও বলেছেন, যদি ভোটাররা বুথে পৌঁছতে পারেন, তাহলে তৃণমূল তাঁদের আশীর্বাদ পাবে। দলীয় কর্মীগের উৎসাহেই তৃণমূল সেখানে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার ইস্তেহার প্রকাশ
ত্রিপুরায় তৃণমূল ৬০ টি মধ্যে প্রার্থী দিয়েছে মাত্র ২৮ টি আসনে। এই ২৮ টি আসনের জন্য তারা নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করবে ৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার।
কেন মাত্র ২৮ আসনে প্রার্থী
কেন তৃণমূল মাত্র ২৮ টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, এই প্রশ্নের উত্তরে সুম্মিতা দেব বলেছএন, তারা শুধু প্রার্থী দেওয়ার জন্য নয় যেখানে শক্তিশালী সংগঠন রয়েছে, সেইসব আসনে প্রার্থী গিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দলীয় কর্মীরা সব আসনেই লড়াই করতে চেয়েছিলন, কিন্তু অভ্যন্তরীণ আলোচনায় নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বেশি শক্তি থাকা এলাকাতেই তারা লড়াই করবেন। তিনি আরও বলেছেন, ২৮ সংখ্যাটাও ম্যাজিক নয়। যেখানে জেতার ভাল সুযোগ রয়েছে, সেখানেই তারা প্রার্থী দিয়েছেন।
কেন জোটে নয় তৃণমূল
ত্রিপুরা আসন সমঝোতা করেছে বাম ও কংগ্রেস। এই দুই দল জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তাদের লক্ষ্য হল বিজেপিকে হারানো। অন্যদিকে, তৃণমূলের লক্ষ্যও হল বিজেপিকে হারানো। এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে, সুস্মিতা দেব বাম-কংগ্রেসের আসন ভাগাভাগিতে বিভ্রান্তির অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, তিপ্রামোথা ৪২ টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে আবার বাম-কংগ্রেস জোটের সঙ্গে ট্যাকটিক্যাল যোগাযোগের কথা বলেছে। তিপ্রামোথা একদিকে যেমন সিপিআইএম-এর জিতেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রার্থী দেয়নি আবার তারা আগরতলা শহরেও প্রার্থী দেয়নি। দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, তৃণমূল কারও সঙ্গে কথা বলেনি। তবে তাদের দরজা খোলা রয়েছে।
বিজেপির সঙ্গে যোগসাজসের প্রসঙ্গ
ত্রিপুরায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেছেন, ত্রিপুরায় তৃণমূল লড়াই করছে বিজেপিকে সাহায্য করতে। অন্যদিকে তিপ্রামোথা বলেছে ত্রিপুরায় তৃণমূলের কোনও সম্ভাবনা নেই। এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে সুম্মিতা দেব বলেছেন, সময়ই বলে দেবে ত্রিপুরার নির্বাচনে লড়াইয়ে তৃণমূলের প্রয়োজনীয় শক্তি ছিল কিনা। তিনি বলেছেন, তৃণমূল অবিজেপি রাজ্য যায়নি। তবে গোয়া, অসম, মেঘালয়ের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, অন্য দলগুলি দুর্বল হওয়ায় বিজেপি রাজ্যগুলিতে শক্তিশালী হয়েছে।

মমতা বড় ব্র্যান্ড
সুষ্মিতা দেব বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরায় একটা বড় ব্র্যান্ড। তিনি বাংলায় কী ধরনের কাজ করেছেন, তা ত্রিপুরার মানুষ জানে। ত্রিপুরায় তৃণমূল পা রাখলে অনেক কিছুই বদলে যাবে। রাজ্যের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাধ্যমে সুশাসনের মডেল পৌঁছে দেবেন।












Click it and Unblock the Notifications