দু-ঘন্টায় শেষ রাজঘাটের ধরনা! সাংবাদিক বৈঠকে ধাক্কাধাক্কি, বাহিনী দিয়ে মহিলাদের ওপরে হামলার অভিযোগ অভিষেকের
দুই ঘন্টাতেই রাজঘাটে সত্যাগ্রহ আন্দোলন শেষ করতে বাধ্য হল তৃণমূল কংগ্রেস। যা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের মহিলা কর্মীদের ওপরে কোনও সময় সিআরপিএফ, কোনও সময় সিআইএসএফ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় গান্ধী জয়ন্তীর দিন ধর্না করতে না দেওয়ায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহকে নিশানা করেন। পুলিশের হামলায় রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু জুতো হারা হন বলেও জানিয়েছেন।

রাজঘাটে ধরনার জন্য পুলিশের তরফে কোনও অনুমতি না দেওয়া হলেও, তৃণমূলের সাংসদ, বিধায়ক ও মন্ত্রীরা সেখানে যান বেলা একটার সময়। গান্ধীজির সমাধি ক্ষেত্রে শ্রদ্ধা নিবেদনের পরে প্ল্যাকার্ড নিয়ে ধর্নায় বসেন। তিনের আশপাশে ধর্না শেষ করে উঠে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যরা।
বেরিয়ে আসার সময় সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন দলের কর্মসূচিতে আসা মহিলা কর্মীদের ওপরে হামলা চালিয়েছে সিআইএসএফ, সিআরপিএফ-সহ কেন্দ্রীয় বাহিনী। পাশাপাশি ধর্নায় বসার পরে প্রতি ১০ মিনিট অন্তর সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে তাঁদেরকে উঠে যেতে বলা হয়।
এদিনও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাঁকুড়ায় মাটির বাড়ি চাপা পড়ে তিনটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী গিরিরাজ সিংকে দায়ী করে তাঁর গ্রেফতার দাবি করেন। তিনি রাজঘাটে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে চ্যালেঞ্জও করেন।
রাজঘাটের বাইরেও সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশের কোনও অনুমতি ছিল না। পুলিশ তা তাড়াতাড়ি শেষ করতে বলে। একটা সময় সেখানে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় বলে অভিযোগ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন না শেষ করেই এলাকা ছাড়েন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর হামলার অভিযোগ করেন। তাঁকেও সেখান থেকে সরিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।
দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়, এই ধর্নায় পুলিশের কোনও অনুমতি ছিল না। ২ অক্টোবরের মতো বিশেষ দিনে ধর্নায় সাধারণ মানুষের গান্ধীজির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। তাই তারা কর্মসূচি তাড়াতাড়ি শেষ করতে বলেছে। মাইকে বারে বারে রাজঘাট খালি করতেও অনুরোধ করে দিল্লি পুলিশ। কথা না শোনায় পুলিশ এলাকা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের সরিয়ে দেয়। লাঠি উচিয়ে তাড়াও করে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
একটা সময়ে রাজ্যের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু জানান, পুলিশের তাড়ায় তাঁর জুতো খোয়া গিয়েছে এবং পুলিশ তাঁকে বুট দিয়ে পায়ের ওপরে চাপা দিয়েছে। পুলিশের তাড়ায় বেশ কয়েকজন জখন হয়েছেন বলে তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications