অবস্থান নিয়ে 'দ্বিচারিতা', মমতা-রাও 'বন্ধুত্ব' নিয়ে প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে
লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাব বাধা পাওয়ায় ক্ষুব্ধ তেলেগু দেশম পার্টি। বিষয়টি নিয়ে তারা দোষারোপ করেছে এআইএডিএমকে এবং টিআরএস-এর দিকে। টিআরএস প্রধানের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাব বাধা পাওয়ায় ক্ষুব্ধ তেলেগু দেশম পার্টি। বিষয়টি নিয়ে তারা দোষারোপ করেছে এআইএডিএমকে এবং টিআরএস-এর দিকে। সেই দিক থেকে টিআরএস প্রধানের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

একদিকে তৃতীয় ফ্রন্ট গঠনের জন্য যখন টিআরএস প্রধান যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাব আনতে বাধা দিচ্ছেন টিআরএস সাংসদরা। টিআরএস-এর এই বাধা দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে টিডিপি। অন্যদিকে, টিআরএস-এর দ্বৈত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহল।
সংসদে তৃণমূল বিজেপি বিরোধী অনাস্থায় সমর্থন জানালেও টিআরএস-এর এই অবস্থান নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু এনডিএ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করতেই রাজ্যে তাঁর বিরোধী জগন্মোহন রেড্ডি অনাস্থা প্রস্তাব আনার কথা ঘোষণা করেন। যদিও বিরোধী শিবিরের একাংশের আশঙ্কা , জগন্মোহনের প্রস্তাব আদতে মোদীর আনা ফাঁদ।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক মহলের মত, সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা যতটা ঘনিষ্ঠতা, রাহুলের সঙ্গে ততটা নয়। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে কংগ্রেসকেও হাতে রাখছেন, অন্যদিকে কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে তৃতীয় ফ্রন্টের আলোচনাতেও বিশেষ ভূমিকা নিচ্ছেন। সেই জন্যই হয়ত রাজ্যসভা নির্বাচনে অভিষেক মনু সিংভিকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করে কংগ্রেস ভাঙায় মদত দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দিল্লিতে কংগ্রেসের অভিবেশনের সময়েই অভিষেক মনু সিংভির সামনেই কংগ্রেস ভাঙানোয় তৃণমূলের উদ্যোগ সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গে এআইসিসির পর্যবেক্ষক সিপি যোশীকে জানান, প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরী এবং বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান। সেই সময় অভিষেক মনু সিংভি এবং গুলাম নবি আজাদ তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও ব্রায়েনের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চান। যদিও সেই সময় বিষয়টি নিয়ে ডেরেক মুখ খোলেননি বলেই জানা গিয়েছে।
গত দুদশকে একাধিকবার কখনও বিজেপির সঙ্গে, তো কখনও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে লড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৯-এর নির্বাচনে তিনি কংগ্রেসের পাশেই থাকেন কিনা, সেটাই এখন প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
লোকসভায় এআইএডিএমকে-র সাংসদ রয়েছেন ৩৭ জন। অন্যদিকে টিআরএস-এর সাংসদ সংখ্যা ১১ জন।












Click it and Unblock the Notifications