ত্রিপুরা দখলে তৃণমূলের ক্ষমতা দেখানো শুরু, ফোনেই বাজিমাত
ত্রিপুরা দখলে তৃণমূলের ক্ষমতা দেখানো শুরু, ফোনেই বাজিমাত
২০১৮ থেকে ত্রিপুরায় (tripura) ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি (bjp)। গত মাস দুয়েক ধরে সেখানে তৎপরতা বেড়েছে তৃণমূলের (trinamool congress)। পশ্চিমবঙ্গের কোনও না কোনও নেতা কিংবা সাংগঠনিক নেতা সবসময়ই সেখানে হাজির থাকছেন। যদিও বিজেপি সর্বশক্তি দিয়ে তৃণমূলকে রোখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

নরমে-গরমে চেষ্টা
উত্তর-পূর্বে ছোট রাজ্যগুলির মধ্যে অন্যতম ত্রিপুরা। বাঙালি অধ্যুষিত হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বড় টান রয়েছে। জনসংখ্যা ৩৭ লক্ষের মতো। যা কলকাতার নিরিখে অনেকটাই কম। সেখানেই সুবিধা বলে মনে করছে তৃণমূল। পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটানো তৃণমূল মনে করছে ত্রিপুরায় ক্ষমতা দখল তাদের পক্ষে পশ্চিমবঙ্গের থেকেও সহজ।
সূত্রের খবর অনুযায়ী বিভিন্ন কর্মসূচি রূপায়ণে ত্রিপুরায় গিয়ে প্রশাসনের কাছে ধাক্কা খাওয়া তৃণমূল এবার পাল্টা ব্যবস্থা নিতেও শুরু করেছে। রাজ্যের এমন অনেক প্রভাবশালী নেতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী এমন কী সাংবাদিকদের কারও কারও বাড়ি কিংবা সম্পত্তি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। কারও কারও ব্যবসা রয়েছে এই বাংলায়। খোঁজ খবর করে তালিকা তৈরি করে এবার তাঁদেরকেই টার্গেট করেছে তৃণমূল। সূত্রের আরও খবর কাউকে কাউকে ইতিমধ্যে ফোন করে সতর্ক করা হয়েছে। কাউকে কাউকে নাকি তৃণমূলের দফতরেও তলব করা হয়েছে।

প্রতিপত্তি বাড়াচ্ছে তৃণমূল
ত্রিপুরায় বিরোধী নেতাদের ওপরে প্রতিপত্তি বাড়াতে চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ত্রিপুরায় প্রভাবশালী এক নেতার নার্সিংহোম ছিল উত্তর ২৪ পরগনায়। যা তৃণমূলের হুমকির জেরে ইতিমধ্যেই বন্ধ। আর ওই নেতাও নাকি বিষয়টি নিয়ে কোনও কথাই বলছেন না। কেউ কেউ বলছেন সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন ওই নেতা। সময় বুঝে যে কোনও মুহূর্তে তিনি তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন।

তৃণমূলের হুঁশিয়ারি
জুলাই মাসে ত্রিপুরায় যায় আইপ্যাকের টিম। ২৩ জন সদস্যকে হোটেলেই বন্দি করে রাখা হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে নেতামন্ত্রীরা যান। পরে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর কনভয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করে তৃণমূল। এরপরে আমবাসায় ছাত্র-যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য, জয়া দত্ত, সুদীপ রাহাদের ওপরে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। তাঁদের জেল থেকে ছাড়াতে ত্রিপুরায় যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর থেকে সেখানে কোনও সময় পশ্চিমবঙ্গের কোনও মন্ত্রী কিংবা তৃণমূলের কোনও পদাধিকারী সেখানে রয়েছেন সবসময়। পাশাপাশি তৃণমূলের তরফ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে দেওয়া হয়েছে, ত্রিপুরায় তাদের নেতা-কর্মীদের ওপরে হামলা হলে, তা বদলা নেওয়া হবে বাংলায়।

সামনেই বড় দলবদলের সম্ভাবনা
ত্রিপুরায় এখন মাঝে মধ্যেই ছোটখাটো দলবদলের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে তৃণমূলের তরফে দাবি আগামীতে বড় যোগদানের অপেক্ষায় রয়েছে তারা। তা সে শাসকদলই হোক কিংবা বিরোধী কংগ্রেস কিংবা সিপিএম, সবদলের নেতাদের সঙ্গেই তাদের কথা চলছে। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নিজে ত্রিপুরার এক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত বড় কোনও নাম সামনে আসেনি। কেননা প্রদেশ কংগ্রেসের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পীযূষ বিশ্বাসের পদত্যাগের পর তিনি তা ফিরিয়ে নেওয়ার আপাতত কোনও নাম জল্পনার মধ্যে নেই। আগামী মাসে ত্রিপুরায় যাচ্ছেন এই রাজ্যের অভিনেতা থেকে সাংসদ হওয়া দেব। সেখানে তাঁকে প্রচারে নামানো হবে বলে জানা গিয়েছে।

হাল ছাড়তে নারাজ বিজেপি
বর্তমান পরিস্থিতিতে হাল ছাড়তে নারাজ বিজেপি। কেননা তাদের হাতে রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তৃণমূলের মোকাবিলায় তারা তৈরি বলেই জানিয়েছে ত্রিপুরার বিজেপি নেতৃত্ব। তারা বলছে ভোট ২০২৩-এর শুরুতে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে ভিশন ডকুমেন্টে তারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণ করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। পাশাপাশি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রাখার চেষ্টা হরা হবে। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা ভাতার পরিমাণও বাড়ানো হবে। ফলে সব মিনিয়ে ত্রিপুরাকে বঞ্চনার যে অভিযোগ তৃণমূল করছে, তা অনেকাংশেই মোকাবিলা করা যাবে। সেই কারণে ত্রিপুরায় তৃণমূলের কর্মসূচি নিয়ে মাথা ঘামাতেই নারাজ বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। পাল্টা তারা সাফ জানিয়েছে, তৃণমূলের কোনও হুমকিতেই তারা ভীত নয়।












Click it and Unblock the Notifications