বাড়তে পারে ট্রেনভাড়া, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির অপেক্ষায় রেলমন্ত্রক

দৈনিক ৩০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে, এই যুক্তিতে কিছুদিন আগে রেলওয়ে বোর্ড যাত্রীভাড়া ও পণ্যমাশুল বৃদ্ধির সুপারিশ করে। খতিয়ে দেখে তাতে নীতিগতভাবে সম্মতি দেন রেলমন্ত্রী। তিনি চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে ফাইল পাঠিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে।
রেল সূত্রে খবর, ক্ষতি মোকাবিলায় রেলমন্ত্রী সদানন্দ গৌড়াকে ভাড়া বাড়াতে পরামর্শ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। এই মর্মে তাঁদের বৈঠকও হয়েছে। ভাড়া বাড়িয়ে যেটুকু লোকসান পূরণ করা যাবে, তার পর বাকিটা পূরণে অনুদান দেবেন অরুণ জেটলি। তবে রেলের সব শ্রেণীতে ভাড়া বাড়ানো নিয়ে সতর্কভাবে পা ফেলার পক্ষপাতী নরেন্দ্র মোদী। তিনি চাইছেন এসি ফার্স্ট ক্লাস, এসি টু-টিয়ার এবং এসি থ্রি-টিয়ারে ভাড়া বাড়ুক। কিন্তু স্লিপার ক্লাস এবং সাধারণ শ্রেণীতে ভাড়া বাড়ানোর পক্ষপাতী নন প্রধানমন্ত্রী। তাতে গরিব মানুষের ওপর অহেতুক চাপ বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। অসমর্থিত সূত্রের খবর, যাত্রীভাড়া ১০ শতাংশ হারে এবং পণ্যমাশুল ৫-৬ শতাংশ হারে বাড়তে পারে।
প্রসঙ্গত, ১৬ মে অর্থাৎ লোকসভা ভোটের গণনার দিন রেলের যাত্রীভাড়া ও মাশুল বাড়ানোর বিজ্ঞপ্তি জারি করে রেলমন্ত্রক। ওই বিজ্ঞপ্তিতে যাত্রীভাড়া ১৬ শতাংশ এবং পণ্যমাশুল ৬ শতাংশ হারে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ইউপিএ সরকারের এই পদক্ষেপ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। বিজেপি-র তরফে অভিযোগ করা হয়, তাদের অস্বস্তিতে ফেলতে এই কাণ্ড ঘটনা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহৃত হয়।
আসলে ভাড়া না বাড়ায় নতুন প্রকল্পে তেমনভাবে টাকা খরচ করতে পারছে না রেল। ২০১৩-১৪ সালে মোট আয়ের ৯০ শতাংশই খরচ হয়ে যায় অপারেটিং রেশিও বাবদ। অর্থাৎ কর্মীদের বেতন, জ্বালানি তেল, ঠিকাদারদের পাওনা ইত্যাদি মেটাতে ৯০ শতাংশ টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। আয় বাড়লে এই অপারেটিং রেশিও-র অনুপাত অন্তত ৮৫ শতাংশ নেমে আসবে বলে মনে করছে রেল। তাতে বেশি টাকা নতুন নতুন প্রকল্পে খরচ করা সম্ভব হবে। রেলওয়ে বোর্ডের আশা, জুলাই মাসে বাজেটেই ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করবে কেন্দ্রীয় সরকার।












Click it and Unblock the Notifications