আম্বানি বোমাতঙ্ক কাণ্ডের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরানো হল শীর্ষ পুলিশ কর্তা সচিন বেজকে
আম্বানি বোমাতঙ্ক কাণ্ডের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরানো হল শীর্ষ পুলিশ কর্তা সচিন বেজকে
মুকেশ আম্বানি বোমাতঙ্ক কাণ্ডে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ ইনস্পেক্টর সচিন বেজকে বদলি করে দিল মহারাষ্ট্র সরকার। এর আগে বিমলা হিরেন তাঁর স্বামী মনসুখ হিরেনের খুনের সঙ্গে সচিন বেজের যুক্ত থাকার অভিযোগ করেছিলেন। মনসুখ হিরেনের চুরি যাওয়া স্করপিও গাড়িটিতে বিস্ফোরক ভরে আম্বানির বাড়ির সামনে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাখা হয়।

সরানো হল সচিন বেজকে
মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অনিল দেশমুখ বুধবার রাজ্যের বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বলেন, 'পুলিশ অফিসার সচিন বেজকে তাঁর ক্রাইম ব্রাঞ্চের বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল যতদিন না তদন্ত সম্পূর্ণ হচ্ছে। বিরোধীদের দাবির কারণে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই মৃত্যুর সঙ্গে যদি বেজের যোগ থাকে তবে আমরা তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করব।' এখানে উল্লেখ্য, আম্বানির বাড়ির সামনে বিস্ফোরক ভর্তি এসইউভি গাড়ি উদ্ধারের তদন্তকারী অফিসার ছিলেন বেজ। তবে কোনও অজ্ঞাত কারণবশত তাঁকে তদন্তের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছে।

বিমলা হিরেনের অভিযোগ
মঙ্গলবার চুরি যাওয়া স্করপিও গাড়ির মৃত মালিক মনসুখ হিরেনের স্ত্রী বিমলা হিরেন এটিএসের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন যে বেজ ওই গাড়িটি ব্যবহার করছিলেন। তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবহাররে জন্য গত বছরের নভেম্বর থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওই গাড়িটি সচিন বেজের কাছেই ছিল। বিমলা হিরেন তাঁর মারাঠি বয়ানে পুলিশকে জানিয়েছেন যে তাঁর তীব্র সন্দেহ রয়েছে বেজের ওপরই যে সেই তাঁর স্বামীকে খুন করেছে। বিমলা হিরেন এও দাবি করেন যে বেজ তাঁর স্বামীকে এই মামলায় নিজে থেকে গ্রেফতার হয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল এবং তাঁকে কিছুদিনের মধ্যে জামিন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়। মনসুখ হিরেনের স্ত্রীয়ের বয়ানের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ৫ মার্চ মনসুখের দেহ উদ্ধার হয় কালওয়া খাঁড়ি থেকে।

বিরোধীদের দাবি
মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফড়নবীশ মঙ্গলবার বিধানসভায় হিরেনের মৃত্যুর জন্য ১০২ ধারার অধীনে বেজের গ্রেফতারি দাবি করেন। তিনি বলেন, 'সচিন বেজের শাস্তি হওয়া উচিত। আপনারা তাঁকে প্রমাণ লোপাটের সুযোগ করে দিচ্ছেন। তার কারণ তিনি যেহেতু নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের (শিবসেনাকে উল্লেখ করে) তাই তাঁকে সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে।'

পুলিশ অফিসার সচিন বেজ
সচিন বেজ মুম্বই পুলিশের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট। ২০০৩ সালে ২৭ বছরের এক ব্যক্তি খাজা ইউনুসের পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হওয়ার কারণে সচিন বেজকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল, প্রায় ১৬ বছর পর ২০২০ সালের জুনে তিনি পুনরায় পুলিশে যোগ দেন এবং খুব দ্রুত মুম্বই পুলিশের হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তকারি অফিসার হিসাবে বিবেচিত হন। পুলিশ বাহিনীতে ঢোকার একদিনের মাথায় বেজ মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চে যোগ দেন এবং ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের দায়িত্ব পান। তিনি ভুয়ো সোশ্যা মিডিয়া অনুগামীর মামলার তদন্ত করছিলেন যেখানে জনপ্রিয় র্যাপার বাদশাকে সমন পাঠানো হয়েছিল। এছাড়াও টিআরপি কাণ্ড এবং অর্ণব গোস্বামীকে গ্রেপ্তারের জন্য তিনি রায়গড় পুলিশের নেতৃত্বে ছিলেন। মুম্বইয়ে রাতে হুকা পার্লার মামলায় তল্লাশি অভিযানের নেতৃত্বেও তাঁর নাম উঠে এসেছে।












Click it and Unblock the Notifications