তৃণমূল কংগ্রেস পাবে ২৩-২৯ আসন, এনডিএ ২৩৪-২৪৬! দাবি সমীক্ষায়

জি নিউজ কর্তৃক প্রকাশিত একটি খবরে বলা হয়েছে, নরেন্দ্র মোদী তথা বিজেপি-র পক্ষে হাওয়া এখন দারুণভাবে অনুকূল। ২০০২ সালের গোধরা দাঙ্গার কথা বলে কংগ্রেস, বামেরা মানুষকে প্রভাবিত করতে পারছে না। অন্যদিকে গুজরাত মডেলের উন্নয়নের কথা প্রচারে দারুণ সফল নরেন্দ্র মোদী। তাই দেশের বিকাশের স্বার্থে তাঁকেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চায় মানুষ। একটা আশ্চর্যের ব্যাপার হল, যে যে রাজ্যে বিজেপি সরকার রয়েছে, সেখানে কিন্তু প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হাওয়া নেই। যেমন, গুজরাত, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়। এই সব জায়গায় মানুষ রাজ্য সরকারের কাজে খুশি। তার জেরেই লোকসভা ভোটে ভালো ফল করতে চলেছে বিজেপি। বোঝা যাচ্ছে, রাজ্যওয়াড়ি ইস্যু এই সব রাজ্যে লোকসভা ভোটের গতিবিধি নির্ধারণ করবে।
অন্যদিকে, কংগ্রেস, জেডি-ইউ বা সমাজবাদী দল শাসিত রাজ্যগুলিতে উল্টো ছবি। এখানে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলির বিরুদ্ধে মানুষ এতই খাপ্পা যে, বিজেপি-কে মানুষ সমর্থন করবে বলে দাবি করা হয়েছে ওই সমীক্ষায়। যেমন, মহারাষ্ট্র, বিহার বা উত্তরপ্রদেশ। এই তিন রাজ্যে লোকসভা আসন হল যথাক্রমে ৪৮, ৪০ এবং ৮০টি। বিজেপি তথা এনডিএ তিন রাজ্যেই অর্ধেকের বেশি আসন পাবে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিজেপি আড়াইশো আসনের কাছাকাছি পৌঁছে গেলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে বাকি থাকছে ২২টি আসন। দলীয় সূত্রের খবর, ভোটের পরে এমন অনেক দলই তাদের সঙ্গে হাত মেলাবে, যারা এখন সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক হারানোর ভয়ে নরেন্দ্র মোদীকে সমর্থন করতে রাজি নয়। ভোট মিটে গেলে এই দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন রাজনাথ সিং, সুষমা স্বরাজরা। ফলে সরকার গড়তে প্রয়োজনীয় সমর্থন জুটে যাবে বলে প্রত্যয়ী বিজেপি নেতৃত্ব।
সমীক্ষায় প্রকাশ, কংগ্রেস ৯৪-১০৬টি আসন পাবে। আর ইউপিএ পাবে ১১১-১২৩টি আসন। দক্ষিণ ভারতে কংগ্রেস বরং তুলনামূলক ভালো ফল করবে। তবে, গোটা দক্ষিণ ভারত নয়, শুধু কর্নাটক আর কেরলে ভালো ফল করবে কংগ্রেস। দক্ষিণী রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশে তাদের অবস্থা শোচনীয় হবে। কারণ তেলেঙ্গানা তৈরি করে সীমান্ধ্র অঞ্চলে এখন তারা ব্রাত্য হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, তেলেঙ্গানা অঞ্চলে টিআরএস (তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি)-এর সঙ্গে জোট হয়নি তাদের। ফলে, গোটা অন্ধ্রে ৪২টি আসনের মধ্যে তারা একটিও পাবে কি না, সন্দেহ!
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস আসন বাড়াবে বলে দাবি করা হয়েছে ওই সমীক্ষায়। সিপিএম যতই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করুক, মানুষ তা শুনতে রাজি নয়। ২৩-২৯টি আসন তারা পাবে বলে দাবি। যদি সেটাই হয়, তা হলে কেন্দ্রে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেস নির্ণায়ক হয়ে উঠবে। আর বামফ্রন্ট ১৪-২০টি আসন পাবে বলে দাবি করা হয়েছে। বাংলায়ও কংগ্রেসের জন্য শোচনীয় ফলাফল অপেক্ষা করে রয়েছে।
জি নিউজে প্রকাশিত এই সংবাদটিতে বলা হয়েছে, গ্রামীণ ভারতে গত জানুয়ারি মাসে বিজেপি-র যা জনপ্রিয়তা ছিল, মার্চে তা ১০ শতাংশ বেড়েছে। ভোট শুরু হতে আর দুই দিন বাকি। তার পর তা চলবে আরও দেড় মাস ধরে। এই সময়সীমায় নিশ্চিতভাবেই শক্তি আরও বাড়িয়ে নেবে বিজেপি।












Click it and Unblock the Notifications