বিপ্লব সরকারের পতনে পিকের নয়া কৌশল, ত্রিপুরা সফরের রোস্টার ফরমুলা, মেপে মেপে পা ফেলছেন মমতা
বিপ্লব সরকারের পতনে পিকের নয়া কৌশল, ত্রিপুরা সফরের রোস্টার ফরমুলা, মেপে মেপে পা ফেলছেন মমতা
বাংলার খেলা দিয়ে ত্রিপুরা জয় হবে না। ত্রিপুরা জয় করতে হলে অন্য খেলায় হাত পাকাতে হবে তৃণমূল কংগ্রেসকে। খেলা হবে কিন্তু নতুন কায়দায়। এই কৌশল নিয়েই ত্রিপুরা দখলের লক্ষ্যে পা ফেলতে শুরু করে দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেপথ্যে অবশ্যই রয়েছে তৃণমূল ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের কূট কৌশল। শুধু অভিষেককে দিয়ে হবে না, তবে ত্রিপুরার থমকে থাকা রাজনৈতিক মহলে অভিষেকের সফর যে নাড়িয়ে দিয়েছে বিপ্লব দেব সরকারকে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

ত্রিপুরা সফরে অভিষেক
ত্রিপুরা জয়ের টার্গেট নিয়ে প্রথম পা রেখেখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। টানটান উত্তেজনায় হয়েছে তাণর সফর। অভিষেক অগরতলায় পৌঁছনোর আগে থেকেই উত্তাল হয়ে উঠেছিল শহর। তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা ছিঁড়ে ফেলা থেকে শুরু করে জয়া দত্ত, দেবাংশুদের উপর হামলা চালানো একাধিক কীর্তি করেছে ত্রিপুরা বিজেপি। অভিষেক আগরতলায় পা রাখতেই যাকে বলে একেবারে কোমর বেঁধে রাস্তায় তৈরি হয়ে নেমেছিলেন বিজেপি কর্মীরা। অভিেষকের কনভয়ে বাঁশ দিয়ে আঘাত করা থেকে শুরু করে ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে পুজো দেওয়ার সময় গো ব্যাক স্লোগান দেওয়া সবই ঘটেছে। এমকী বহিরাগত শব্দেও অভিষেকে বিদ্ধ করা হয়েছে। এই সব কর্মকাণ্ডে বিপ্লব দেব এক প্রকার বুঝিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসকে সহজ ভাবে নেননি তিনি। বেশ ভালই চাপে রেছেন তিনি।

ত্রিপুরায় রোড শো করবেন অভিষেক
প্রথম বার আগরতলা থেকে ঘুরে এসেই যেন জমি পেতে শুরু করেছেন অভিষেক। বিজেপির প্রবল বিরোধিতার মাঝেই রীতিমতো হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি সাংবাদিক বৈঠকে। অভিষেক বিপ্লব দেবকে রীতিমতো হুঙ্কার দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে এসেছেন আজ থেকে ৩ বছর পর এই ত্রিপুরাতেই তৃণমূল ক্ষমতায় আসবে। অভিেষকের এই হুঙ্কারের পরেই সেপ্টেম্বর মাসে তাঁর রোড শোয়ের পরিকল্পনা করে ফেলেছে দল। একেবারে সুপরিকল্পিত ভাবেই এগোতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। তার ব্যাকআপ প্ল্যানও তৈরি। অভিষেকের রোড শোয়ের লোক না হলে প্ল্যান বি কাজ করবে ত্রিপুরায়। সেক্ষেত্রে ময়নাদে নামবেন মমতা নিজে। সেপ্টেম্বর মাসেই ত্রিপুরায় জনসভা করতে পারেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। মমতা ত্রিপুরায় পা রাখলে যে অন্যভাবে খেলা শুরু করবে তৃণমূল কংগ্রেস তাতে কোনও সন্দেব নেই। সেক্ষেত্রে কাজে লাগানো হবে মুকুল রায়কে।

ত্রিপুরা সফরে একের পর এক নেতা
শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন ত্রিপুরায় তৃণমূলের ঘাঁটি শক্ত করতে এখন প্রায় ডেলিপ্যাসেঞ্জারি করবেন বঙ্গের তৃণমূল নেতারা। কারা ত্রিপুরায় যাবেন তাদের একটা তালিকা ইতিমধ্যেই তৈপি করে ফেলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো। ইতিমধ্যেই ২০২৩-র বিধানসভা ভোটকে টার্গেট করে ত্রিপুরায় ঘুঁটি সাজাতে শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানকার ছাত্রসংগঠন সক্রিয় হয়ে উঠেছে।প্রথমে যুবদের ময়দানে নামিয়ে বিজেপিকে দুর্বল করার ছক কষেছে তৃণমূল। এদিকে আবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বলে গিয়েছেন প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর তিনি ত্রিপুরায় আসবেন। অভিষেকের পরেই কুণাল ঘোষকে পাঠানো হচ্ছে ত্রিপুরায় এমনই খবর পাওয়া গিয়েছে। তারপরেই সেখানে যাওয়ার কথা সমীর চক্রবর্তী। ধাপে ধাপে একে একে সব নেতাদের নিয়েই ছক সাজাচ্ছে মমতা।

নেপথ্যে পিকের রণকৌশল
একুশের ভোটের আগে বঙ্গে এই একই ভাবে দিল্লির বিজেপি নেতারা আনাগোনা শুরু করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা সকলেই প্রায় প্রতিমাসে আসতেন কলকাতায়। ভোট যত এগিয়ে এসেছিল তত তাঁদের আনাগোনা বেড়েছিল। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই মোদী-শাহ-নাড্ডা কলকাতায় আসতেন তিনি। সেই কৌশলেই কী এবার ত্রিপুরাতেও এগোচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস এই নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। পিকের রণকৌশলেই এগোচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস এমনই মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ত্রিপুরায় পিকের টিমের ২৩ জনের সদস্যকে ত্রিপুরায় আটক করেিছল ত্রিপুরা সরকার। তাঁদের বিরুদ্ধে করোনা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়েছিল। পিকের টিমের সদস্যদের ছাড়াতে শেষে ময়দানে নামেন তৃণমূল কংগ্রেস সদস্যরা। ডেরেক ওব্রায়েন, ব্রাত্য বসুরা গিয়েছিলেন আগরতলায়। তাঁদের সাংবাদিক বৈঠকের আগে পুলিশ হোটেলে তল্লাশি চালায় বলেও অভিযোগ।












Click it and Unblock the Notifications