তৃণমূলের যুব সভানেত্রী সায়নী ঘোষ গ্রেফতার, তুলকালাম পরিস্থিতি ত্রিপুরায়
তৃণমূলের যুব সভানেত্রী সায়নী ঘোষকে গ্রেফতার করল ত্রিপুরা পুলিশ। তৃণমূলের যুব সভানেত্রীকে থানায় তলবে করে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ আনে পুলিশ।
তৃণমূলের যুব সভানেত্রী সায়নী ঘোষকে গ্রেফতার করল ত্রিপুরা পুলিশ। তৃণমূলের যুব সভানেত্রীকে থানায় তলবে করে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ আনে পুলিশ। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

রবিবার সকালেই ত্রিপুরা পুলিশ তৃণমূল নেতা-নেত্রীরা যে হোটেলে ছিলেন, সেখানে হানা দেয়। যুব তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীকে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বঙ্গ তৃণমূলের সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বাধা দেন। তিনি নোটিশ দেখাতে বলেন। কোন অভিযোগে তাঁকে থানায় তলব করা হচ্ছে, তা জানতে চান। ত্রিপুরা পুলিশ কোনও নোটিশ দেখাতে পারেনি, তারপর সায়নী ঘোষকে অনুরোধ করা হয় থানায় আসার।
ত্রিপুরা পুলিশের সেই অনুরোধ মেনে সৌজন্যের খাতিরে সায়নী গিয়েছিলেন আগরতলা পূর্ব মহিলা থানায়। সেখানে দীর্ঘক্ষণ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে হোটেল থেকে ডেকে এনে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ত্রিপুরার পুলিশ বিজেপির দলদাসে পরিণত হয়েছে। যাঁরা হামলা চালাল তাঁরা গ্রেফতার হল না। আর যিনি গাড়িতে বসে খেলা হবে বললেন তিনি খুনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার। আজব কাণ্ড ত্রিপুরা পুলিশের।
কুণাল ঘোষ বলেন, সায়নী ঘোষকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ কোন অভিযোগে সায়নী ঘোষকে থানায় তলব করেছে, তা জানাতে পারেনি। তবু পুলিশের অনুরোধ মেনে সৌজন্যের খাতিরে সায়নী থানায় যান। ত্রিপুরার আগরতলায় মহিলা থানায় সায়নীকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করার পর বিকেলে তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
কেন তাঁকে তলব করা হয়েছে তা জানতে আগরতলা মহিলা থানায় পুলিশের সঙ্গে বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন কুণাল-সায়নীরা। পুলিশ জানিয়েছে সায়নীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কিন্তু কেন, তার কোনও উত্তর মেলেনি। শেষে খেলা হবে স্লোগান দেওয়ার জন্য খুনের চেষ্টার মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করা হল। কুণাল ঘোষ বলেন, বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা প্রকট হয়ে উঠছে।
কুণাল ঘোষ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উভয়েই সায়নীকে জানিয়েছেন তাঁরা তাঁর পাশে আছেন। ত্রিপুরা ও গোটা ভারতের গণতন্ত্রপরেমী মানুষ সায়নীর পাশে থাকবেন। বিজেপির কথায় পুলিশ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করেচে সায়নীকে, তার জন্য যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেবেন তাঁরা।
তৃণমূল অভিযোগ করছে, সোমবার আগরতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচি রয়েছে। সেই কারণেই সায়নীকে থানায় নিয়ে গিয়ে গ্রেফতার করে সভা বানচালের চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। সায়নীর বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে নাকি কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ করা হয়েছে, তা জানাতে পারেনি পুলিশ।
শনিবার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সভাস্থলের পাশ দিয়ে যখন যাচ্ছিল সায়নী ঘোষের গাড়ি, তখন বাইরে থেকে কেউ একজন বলেন দিদি খেলা হবে। সায়নী ঘোষের উদ্দেশে তা বলার পর সায়নীও বলেন, খেলা হবে। তারপর সায়নীর গাড়িতে হামলার চেষ্টা হয়। গাড়িতে ধাক্কা দিতে শুরু করেন কর্মী সমর্থকরা। এই ঘটনায় সায়নী বিজেপি কর্মীদের উত্তপ্ত করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগে তাঁকে শেষপর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়। যিনি গাড়ি থেকেই নামলেন না, গাড়িতে বসে শুধু খেলা হবে স্লোগান দিলেন, তাঁকে গ্রেফতার করা হল বিপ্লব দেবের জঙ্গলরাজ ত্রিপুরায়।












Click it and Unblock the Notifications