ত্রিপুরায় বিজেপির তালিবানি শাসন! আহত নেতার বাড়িতে গিয়ে বিপ্লব দেবকে নিশানা করে বিস্ফোরক সুজাতা-জয়া
ত্রিপুরায় বিজেপির তালিবানি শাসন! আহত নেতার বাড়িতে গিয়ে বিপ্লব দেবকে নিশানা করে বিস্ফোরক সুজাতা-জয়া
ত্রিপুরাকে (tripura) কার্যত আফগানিস্তানের (afghanistan) সঙ্গে তুলনা করলেন তৃণমূল (trinamool congress) নেত্রী সুজাতা মণ্ডল (sujata mondal)। রবিবার ত্রিপুরায় নেমেই তিনি এবং জয়া দত্ত প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা মুজিবর রহমানের বাড়িতে যান। শনিবার তৃণমূল যাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হামলায় হাত ভাঙে মুজিবর রহমানের। সেখানে গিয়েই বিজেপিকে (bjp) নিশানা করেন সুজাতা মণ্ডল।

ত্রিপুরায় তালিবানি শাসন
মুজিবর রহমারে বাড়িতে গিয়ে বিজেপিকে নিশানা করে সুজাতা মণ্ডল বলেন. ত্রিপুরায় তালিবানি শাসন চলছে। তৃণমূল কর্মীদের ওপরে নৃশংস হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি প্রাক্তন মন্ত্রী মুজিবর রহমানের পাশে বসে বলেন, ওইদিন মুজিবদার প্রাণ সংশয় হতে পারত। তবে এসব করেও তৃণমূলকে আটকানো যাবে না। কেননা তৃণমূল লড়াইয়ের মধ্যে থেকে উঠে এসেছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ত্রিপুরায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো বলতে কিছু নেই। তাই মুজিবর রহমানকে বিমানে করে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ত্রিপুরায় কি গণতন্ত্র আছে
শনিবার মুজিবর রহমানের বাড়িতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে যোগদান পর্ব চলার সময় হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। বাড়ি তছনছ করে সেখানে থাকা তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ব্যাপক মারধর করা হয়। হাত ভেঙে যায় মুজিবর রহমানের। এব্যাপারে তৃণমূল নেত্রী জয়া দত্ত বলেন, যে ভাবে হামলা চালানো হয়েছে, তা পুরো দেশ দেখেছে। তিনি ত্রিপুরায় মানুষের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, এটাই কি গণতন্ত্র। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ত্রিপুরার গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তাঁদের লড়াই আরও জোরদার হয়ে উঠবে। তিনি আরও বলেন, বিপ্লব দেব যত ধমকাবেন, চমকাবেন, তাঁদের লড়াই ততই শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

তৃণমূলের ওপরে আক্রমণ নিয়ে প্রশ্ন
সুজাতা মণ্ডল স্পষ্ট করে দেন, শুধু ভোটে লড়াইয়ের জন্য নয়, তাঁরা ত্রিপুরা দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যে ভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে, তাতে ভয় পেলে চলবে না। তাঁর প্রশ্ন যদি তৃণমূলচকে গুরুত্বই না দেওয়া হয়, তাহলে এত আক্রমণ করা হচ্ছে কেন? তিনি দাবি করেন, ত্রিপুরায় বিজেপি সংগঠন তৈরি হয়ে গিয়েছে। ২০২৩-এ ত্রিপুরায় তৃণমূলই সরকার গড়বে বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর আরও দাবি ত্রিপুরায় মা-বোনেদের আশীর্বাদ রয়েছে তৃণমূলের পিছনে।
এর আগে ত্রিপুরায় তৃণমূল কর্মীদের ওপরে হামলা প্রসঙ্গে সুজাতা বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ওপরে এইরতম হামলা অত্যাচার হয়নি। কটাক্ষ করে তিনি বলেছিলেন, বিরোধী দল মিছিল-মিটিং করলে তাদজের জেলে আটকে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিপ্লব দেবের সরকার।

বিপ্লব দেব সরকারকে উৎখাতের ডাক
বাংলায় থাকতেই সুজাতা অভিযোগ করেছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তৃণমূলের নেতা ও কর্মীদের ওপরে হামলা করা হচ্ছে। আর রবিবার ত্রিপুরায় পা রেখেই সুজাতা অভিযোগ করেন বিজেপি সাম্প্রদায়িক দল। একইসঙ্গে তিনি বিপ্লব দেব সরকারকে উৎখাতের ডাক দেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিপ্লব দেবের আমলে ত্রিপুরা মানুষ বঞ্চিত এবং অত্যাচারিত। তিনি বলেন. বাংলায় যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল সরকার রয়েছে, ঠিক সেইভাবেই ত্রিপুরাতেও মা-মাটি-মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। জয় বাংলার মতো সেখানে জয় ত্রিপুরায় স্লোগান উঠবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কেউ আটকাতে পারবেন না
দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহাদের সঙ্গে এর আগে ত্রিপুরায় যাওয়া জয়া দত্তের ওপরে হামলা হয়েছিল আমবাসায়। সেখানে তাঁদের জেলেও যেতে হয়েছিল। পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের কলকাতায় নিয়ে এসে এসএসকেএম-এ ভর্তি করেন। সুজাতা মণ্ডলের সঙ্গে তিনিও আবারও পা রেখেছেন ত্রিপুরায়। তিনি আগরতলায় পৌঁছেই জানিয়েছেন, বারবার তাঁরা ত্রিপুরায় যাবেন, কেউ তাঁদের আটকাতে পারবে না। তৃণমূলের সৈনিক হিসেবেই তাঁরা সেখানে যাবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সেখানকার সরকার ফের মামলা করতে পারে, কিন্তু তাতে তাঁদের কিছু যাবে-আসবে না। তাঁদের ওপরে হামলাকে পরিকল্পিত অ্যাখ্যা দিয়ে জয়া বলেছেন, ত্রিপুরায় তাঁদের আটকানো যাবে না। ত্রিপুরায় বিজেপির সরকারকে সরিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে তবেই তারা থাবেন বলে জানিয়েছেন জয়া।
ছবি সৌ:ফেসবুক












Click it and Unblock the Notifications