বাবা সন্তোষমোহনের পথেই মেয়েও, সুস্মিতা দেবকে নিয়ে তৃণমূলের 'মিশন ত্রিপুরা'র পরিকল্পনা চূড়ান্ত অভিষেকের
এদিন সকালে হঠাৎ সংবাদ মাধ্যমগুলিতে প্রথমে খবর প্রচারিত হয় মহিলা কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভানেত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি পাঠিয়েছেন সুস্মিতা দেব (sonia gandhi)। পরে দেখা যায় তিনি টুইটারের সব জায়গায় 'ফর্
এদিন সকালে হঠাৎ সংবাদ মাধ্যমগুলিতে প্রথমে খবর প্রচারিত হয় মহিলা কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভানেত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি পাঠিয়েছেন সুস্মিতা দেব (sonia gandhi)। পরে দেখা যায় তিনি টুইটারের সব জায়গায় 'ফর্মার' শব্দটি ব্যবহার করছে। পরে বেলা হতে দেখা যায় তিনি কলকাতায় অসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (abhishek banerjee) সঙ্গে দেখা করে তৃণমূলে (trinamool congress) যোগদান করলেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে অসমের দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ত্রিপুরাতেও ব্যবাহর করতে চান। কেননা ভৌগলিক দিক থেকে বাংলা থেকে অসমের শিলচরের কাছেই হল ত্রিপুরা।

দুই রাজ্যে রাজনীতি করেছেন সন্তোষমোহন দেব
অসমের রাজনীতিতে সন্তোষমোহন দেব বিশেষ একটি নাম। রাজীব গান্ধীর খুব কাছের হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। অসমের পাশাপাশি ত্রিপুরার রাজনীতিতে তিনি ছিলেন সাবলিল। পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসে ১৯৭৭ সালে। তার ঠিক পরের বছরেই ত্রিপুরায় ক্ষমতায় আসে বামফ্রন্ট। মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন প্রবাদপ্রতীম কমিউনিস্ট নেতা নৃপেন চক্রবর্তী। ১৯৮৮ সালে নৃপেন চক্রবর্তীকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সন্তোষমোহন দেবকেই বেছে নিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। সন্তোষমোহন দেব সেই সময় দেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। উপজাতি আন্দোলনের কারণে সেই সময় ত্রিপুরা ছিল অশান্ত। সন্তোষমোহন দেব দায়িত্ব পাওয়ার পরেই কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং সেনা নামিয়ে ভোট করান। যা নিয়ে সেই সময় বামের প্রবল প্রতিবাদ করেছিলেন। কংগ্রেসকে ক্ষমতায় এনে মুখ্যমন্ত্রী করেন সুধীররঞ্জন মজুমদারকে। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৯ ও ১৯৯১ সালের লোকসভা ভোটে সন্তোষমোহন দেব লোকসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পশ্চিম ত্রিপুরা আসন থেকে এবং জয়ী হন। তাঁর মতো খুব কম রাজনীতিক রয়েছেন, যাঁরা দুই রাজ্যে রাজনীতি করেছেন এবং জন প্রতিনিধি হয়েছে। প্রসঙ্গত সন্তোষমোহন দেব ১৯৮০ সালে প্রথমবার লোকসভায় যান শিলচার কেন্দ্র থেকে। তিনি সাতবার লোকসভায় গিয়েছেন, তার মধ্যে পাঁচবার শিলচর থেকে। সোনিয়া গান্ধীরও খুব কাছের বলেও পরিচিত ছিলেন তিনি। ২০০৪ সালে প্রথম ইউপিএ সরকারের শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন।

সুম্মিতা দেবও শিলচরের সাংসদ ছিলেন
অসমের শিলচর থেকে অসম বিধানসভায় কংগ্রেসের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন সুস্মিতা দেব। ২০১১-র মে থেকে ২০১৪-র মে মাসের মধ্যে তিনি অসম বিধানসভার সদস্য ছিলেন। পরে ১৬ তম লোকসভায় অর্থাৎ ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে শিলচর থেকে কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছিলেন। যদিও ২০১৯-এর নির্বাচনে হেরে যান তিনি। এদিন সুস্মিতা দেবের দলত্যাগ নিয়ে কংগ্রেস নেতা কপিল সিবাল শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করেন।

অসম তাঁর মেয়েকেই চায়
তৃণমূলের পাথির চোখ ২০২৩-এর ত্রিপুরা বিধানসভার নির্বাচন আর ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন। অসমে সংগঠন বাড়াতে তৃণমূল খোঁজ চালাচ্ছিল অভিজ্ঞ নেতার। তৃণমূলের তরফে বিজেপির বিরুদ্ধে সিএএ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া অখিল গিরিকেও প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু তাঁর আগেই সুস্মিতা দেব তৃণমূলে যোগ দিলেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঠিক যেভাবে তৃণমূল বাংলায় ভোটের আগে প্রচার করেছিল বাংলা তার মেয়েকে চায়, ঠিক সেইভাবেই অসমেও প্রচার করতে পারে। এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার পরে খুশি সুস্মিতা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতা বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।

সুস্মিতা দেবকে ব্যবহার করা হতে পারে ত্রিপুরাতেও
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পরে তৃণমূলের তরফে নিশানা করা হয়েছে ত্রিপুরাকে। জুলাইয়ে সেখানে আইপ্যাকের টিম যাওয়া নিয়ে খবরের শিরোনামে চলে আসে তৃণমূল। এর সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ভাঙচুর করার অভিযোগই হোক কিংবা দেবাংশু ভট্টাচার্য, জয়া দত্ত কিংবা সুদীপ রাহাদের ওপর হামলা বারে বারে বিজেপির নাম সামনে এসেছে। প্রতিসপ্তাহের বাংলা থেকে সাংসদ মন্ত্রীরা যাচ্ছেন ত্রিপুরায়। সেক্ষেত্রে সুস্মিতা দেব ত্রিপুরার ভৌগলিক দিকটি বাংলার নেতাদের থেকে ভাল জানের কিংবা বোঝেন। বাংলার থেকে সুস্মিতা দেবের রাজনীতির জায়গায় অসমের শিলচরের থেকে ত্রিপুরা অনেক কাছে। সেই পরিস্থিতিতে ২০২৩-এর ত্রিপুরা ভোটের দিকে লক্ষ্য রেখে সুস্মিতা দেবকে ত্রিপুরায় বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর। সেক্ষেত্রে বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে তৃণমূল অন্য রাজনৈতিক দলগুলির থেকে অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।












Click it and Unblock the Notifications