বাংলার ধাঁচেই গড়া হবে সরকার, গোয়ার ‘প্রতিধ্বনি’ মেঘালয়ের তৃণমূলের ইস্তেহারেও
তৃণমূলের ইস্তাহারেও স্থান পেয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী। এছাড়া মেঘালয়ের স্থানীয় বিষয়গুলিও জায়গা করে নিয়েছে অঙ্গীকার-পত্রে।
গোয়াতে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তৃণমূল। মেঘালয়ের ইস্তাহারেও সেই একই কথা। মেঘালয়ের সরকার হবে বাংলার অনুকরণেই। বাংলার মতো মেঘালয়ের মানুষও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন। একইরকমভাবে স্বাস্থ্যসাথী-সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক স্কিমগুলো চালু হবে মেঘালয়ে।

গোয়াতে যে অঙ্গীকারপত্র পেশ করা হয়েছিল, মেঘালয়ের সঙ্গে তার বিস্তর মিল। মঙ্গলবার মেঘালয়ে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ইস্তাহার প্রকাশ করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্যোভাপাধ্যায় বলেন, ক্ষমতায় এলে ১০০ দিনের মধ্যে আমরা প্রতিশ্রুতি পূরণ করে দেখাব।
এখানে উল্লেখ্য, মেঘালয়ে তৃণমূলের ইস্তাহারেও স্থান পেয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী। এছাড়া মেঘালয়ের স্থানীয় বিষয়গুলিও জায়গা করে নিয়েছে অঙ্গীকার-পত্রে। একইসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, মেঘালয়ের স্থানীয় ইস্যুগুলি সমাধান করতে সবার আগে সচেষ্ট হবেন তাঁরা। ক্ষমতায় এলে সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে সেগুলিই।
কৃষকদের আর্থিক সাহায্য দেওয়া থেকে শুরু করে কৃষিজাত পণ্য বিক্রিয় ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা, মেডিকেল কলেজ থেকে শুরু করে মহিলা ও শিশুদের জন্য হাসপাতালে বানানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ওষুধের দোকানে ছাড় দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে ইস্তাহারে।
তৃণমূল তাদের ইস্তাহারে শিক্ষাক্ষেত্রে জোর দেওয়ার কথাও বলেছে। প্রতি ব্লকে ব্লকে মডেল স্কুল, কোয়ালিটি এডুকেশন, ঘরে ঘরে জল, বিদ্যুৎ পরিষেবার পাশাপাশি চমক দিয়ে ডব্লুই কার্ড ও এমওয়াইই কার্ড পরিষেবার কথাও বলা হয়েছে ইস্তাহারে। এছাড়া রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, সড়ক পথ নির্মাণ, ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নয়নের কথাও বলা হয়েছে। বলা হয়েছে স্টেডিয়াম তৈরির কথাও।
মেঘালয় পর্যটনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ইস্তাহারে। ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানের যথাযথ সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রের আধুনিকীকরণের কথাও বলা হয়েছে। একইসঙ্গে বলা হয়েছে সীমান্ত সমস্যা মেটানোর কথা। আর এই ইস্তাহার প্রকাশ করে অভিষেক বলেছেন, এটা শুধু বই নয়। এখানে ১০টা অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে। আমরা তা পূরণ করতে চাই।
তৃণমূলযে মিশন মেঘালয়কে ত্রিপুরার তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে, তা স্পষ্ট। তাই তো ভোট ঘোষণার আগেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে। সবার আগে ইস্তাহার প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু ত্রিপুরায় ভোট ঘোষণার পর প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হয়নি। নির্বাচনী ইস্তাহার তো দূর অস্ত।
অভিষেক বলেছেন, আমরা যে মেঘালয়ে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে রয়েছি, তা প্রমাণ করে দিচ্ছে শাসক দল। শাসক দলের তরফে আমাদের বহিরাগত দল বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে। আমরা বারবার ধরে বলছি, আমরা মেঘালয় নিয়েয়ে ভিশন প্রকাশ করেছি, তা শাসকদল পারেনি। মেঘালয় শাসন করবে মেঘালয়ের মানুষই। আমরা শুধু পথ দেখাব। আমরাই একমাত্র দল, যারা মানুষের জন্য কাজ করে, কথা বলে থেমে থাকে না।












Click it and Unblock the Notifications