রাহুলকে মানতে নারাজ তৃণমূল, কংগ্রেসকে ছাড়া জোট-ভাবনায় মসৃণ হবে বিজেপির পথ
তৃণমূল কংগ্রেস কোর কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২০২৪-এর নির্বাচনে তারা কংগ্রেস ও বিজেপি থেকে সমদূরত্ব রেখে চলবে। অর্থাৎ কংগ্রেসের নেতৃত্বে জোটে তারা থাকবেন না। উল্টে কংগ্রেসকে বাইরে রেখে তারা বিজেপি বিরোধী জোট তৈরির চেষ্টা চালাবে। খুব শীঘ্রই তৃণমূল রাজ্য সফর শুরু করবে বলে জানিয়েছে।
শুক্রবারই উত্তরপ্রদেশের প্রধান বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব এসেছিলেন কলকাতায়। কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে এসে তিনি বৈঠক করে যান। এবং জোটের বার্তা দেন। আবার আগামী ২৩ মার্চ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওড়িশার মুখ্যমন্রীকা তথা বিজেডি সুপ্রিমো নবীন পট্টনায়কের সঙ্গে জোট-বৈঠক করবেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, তারা কংগ্রেস ও বিজেপি থেকে সমদূরত্ব রখে চলবে। বিজেপির বিরুদ্ধে তাদের লড়াই চলবে, তবে কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁরা দূরত্ব রেখেই এই লড়াই চালাবে। সে জন্য ভিনরাজ্যের বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের সঙ্গে তাঁরা জোট করবেন। এই জোট করলে স্বার্থ সংঘাতের কোনো সম্ভাবনা থাকবে না বলে তিনি মনে করছেন।
২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন আগে তৃণমূলের অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেসকে বাদ দিয়েই যে তারা আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলতে চায়, তা পরিষ্কার। যে দল যে রাজ্যে শক্তিশালী তাদের সঙ্গে কথা বলে জোট প্রস্তাব দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেশিরভাগ রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলিই বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছে তৃণমূল।
তৃণমূল চাইছে একে একে আঞ্চলিক দলগুলিকে সম্বলিত করে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলকে প্রধান বিরোধী মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরতে। বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলিকে এক ছাতার তলায় এনে কীভাবে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করা যায়, তা-ই দেখাবে তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেসকে ছাড়াই যে বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলি বিজেপিকে হারানোর জন্য যথেষ্ট।

তৃণমূল বলছে, রাজ্যে রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলি যদি বিজেপিকে হারাতে সম্ভবপর হয়, তাহলে নির্বাচনের পর পরিস্থিতি দেখে বিরোধী জোটের মুখ তৈরি করা হবে। নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজ্যে একলা চলো নীতিতে আঞ্চলিক দলগুলি বিজেপির বিরুদ্ধে জয় হাসিল করার জায়গায় আছে বলে বিশ্বাস তৃণমূলের।
এই মর্মে রাহুল গান্ধীকে বিরোধী মুখ হিসেবে একহাত নিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি রাহুল গান্ধীকে বিরোধী মুখ বানানোর চেষ্টা করছে। কেননা রাহুলকে বিরোধী মুখ করতে পারলে বিজেপিরই লাভ। সেই কারণে রাহুলের মন্তব্যকে এত গুরুত্ব দিয়ে তারা তাঁকে সংসদ থেকে বরখাস্ত করতে চাইছে। এটা আসলে তাঁকে প্রধান বিরোধী প্রতিপন্ন করার চেষ্টা।
কংগ্রেসকে কিছুতেই মানতে পারছে না তৃণূমূল। এই মর্মে তৃণমূল কংগ্রেসকে একহাত নিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিজেপি-বিরোধী জোটের বিগ বস হওয়ার চেষ্টা করছে কংগ্রেস। কিন্তু তা তারা মানবেন না, এনেক আঞ্চলিক দলই মানবে না কংগ্রেসকে। তাই তারা বিজেপি বিরোধী অবস্থানের পাশাপাশি কংগ্রেস বিরোধী অবস্থানও নিচ্ছে। তৃণমূলের মতেই সমাজবাদী পার্টি ও বিজেডির অবস্থান।
যদিও কংগ্রেস মনে করছে, তৃণমূলের এই চেষ্টা আসলে বিজেপির হাত শক্ত করতে। তারা মুখে বিজেপি বিরোধিতার কথা বললেও, আদতে তারা বিজেপির জয়ের পথ মসৃণ করতে চায়। বিভিন্ন রাজ্যে তাদের এই ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। এবার জাতীয় ক্ষেত্রেও তারা একই অবস্থান নিতে চাইছে। এসব আসলে মোদী-দিদির সেটিং।
তৃণমূলের মতো অনেক বিরোধী দল মানতে চাইছে না কংগ্রেসের দাদাগিরি। আবার অনেক বিরোধী দলই চাইছে, কংগ্রেসের নেতৃত্ব ছাড়া বিজেপি বিরোধী জোট অর্থহীন। কেননা এখনও যে বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসই প্রধান শক্তি তা অস্বীকার করা যায় না। সেখানে কোনো আঞ্চলিক দল নেই। আর সেখানে আঞ্চলিক দল প্রবেশ করা মানে বিজেপিরও পোয়াবারো।












Click it and Unblock the Notifications