বঙ্গভবনে পুলিশ মোতায়েন নিয়ে লোকসভায় প্রতিবাদ তৃণমূল সাংসদদের, বকেয়া পাওনা ইস্যুতে রাজ্যসভায় ওয়াকআউট
দিল্লির বঙ্গভবনের বাইরে পুলিশ মোতায়েনের প্রতিবাদে লোকসভায় সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসরা। ওয়েলে নেমে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন তাঁরা। যোগ দেয় সমাজবাদী পার্টিও।
বঙ্গভবন হলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সরকারি গেস্ট হাউস, যেখানে রাজ্যের নির্বাচনী তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছে।

স্পিকার ওম বিড়লা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অভিভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে কথা বলার আহ্বান জানালে বিক্ষোভকারীরা তাঁদের আসনে ফিরে যান। এর আগে, বিজেপি সদস্য তেজস্বী সূর্য ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর কথা বলছিলেন।
এদিন রাজধানীতে রাজ্য সরকারের অতিথি নিবাস বঙ্গভবন ও অন্যান্য সম্পত্তিতে ব্যাপক নিরাপত্তা মোতায়েনকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দিল্লি পুলিশের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়। টিএমসি নেতারাও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকের জন্য দিল্লিতে পৌঁছান। তিনি জানান, মূলত নির্বাচনী তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির ন্যায়বিচারের জন্য তিনি এসেছেন, কোনও আন্দোলনের জন্য নয়। প্রায় ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জাতীয় রাজধানীতে এনে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সম্পত্তিতে রাখা হয়েছে।
সোমবার বঙ্গভবনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিরাপত্তা কর্মীদের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার দাবি জানান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "বঙ্গভবনে বাংলার মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে। আমাদের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে আছে, আর নির্বাচন কমিশনে আমাদের বৈঠক রয়েছে। আমরা সরকারি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে এসেছি। মানুষ মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবার কি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে পারবে না?"
এদিনই তৃণমূল কংগ্রেস ফের কেন্দ্রের কাছে পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া পাওনার বিষয়টি রাজ্যসভায় উত্থাপন করে এবং অধিবেশন শুরুর কিছুক্ষণ পরেই ওয়াকআউট করে।
রাজ্যসভায় দলের উপনেতা সাগরিকা ঘোষ জানান, কেন্দ্রের কাছে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আজ রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেস ওয়াকআউট করেছে, কারণ বাজেটে বাংলার নাম পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়নি এবং আমাদের প্রাপ্য বকেয়া আটকে রাখা হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, মনরেগা, আবাস যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY) সহ বিভিন্ন খাতে বাংলার ২ লাখ কোটি টাকা বকেয়া। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে তিনি "ফেডারেল কাঠামোর লঙ্ঘন, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের লঙ্ঘন এবং সংবিধানের লঙ্ঘন" বলে অভিহিত করেন।
সাগরিকা আরও দাবি করেন যে, গতকাল পেশ করা কেন্দ্রীয় বাজেটে পশ্চিমবঙ্গকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি বলেন, "বাজেটে বাংলাকে উপেক্ষার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই আমরা আজ সংসদে এই বিষয়টি উত্থাপন করে ওয়াকআউট করেছি।"
রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ এনেছেন। তাঁর কথায়, গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি রাজ্যে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই এই বৈষম্য শুরু হয়েছে।
টিএমসি নেত্রী বলেন, "২০২১ সালে বাংলার মানুষ বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করার পর কেন্দ্র ফেডারেল দায়িত্ব পালনের বদলে প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণ শুরু করেছে। তারা মনরেগা মজুরি বন্ধ করেছে, রাস্তা ও গ্রামীণ অবকাঠামোর তহবিল আটকেছে এবং দরিদ্রদের কল্যাণমূলক বরাদ্দও বন্ধ রেখেছে।"
এই "সুপরিকল্পিত বৈষম্যকে" "অগ্রহণযোগ্য" আখ্যা দিয়ে মমতা ঠাকুর বলেন, "এই গুরুতর অন্যায়ের প্রতিবাদে টিএমসি রাজ্যসভার সংসদ সদস্যরা আজ সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন। বাংলা তার ন্যায্য বকেয়া না পাওয়া পর্যন্ত আমরা সংসদ ও সংসদের বাইরে সরব থাকব।"












Click it and Unblock the Notifications