Kalyan Banerjee: "অসভ্য মহিলা," কল্যাণের নিশানায় দলেরই সাংসদরা; চরমে কোন্দল তৃণমূলে! মৌচাকে ঢিল বিজেপির
Kalyan Banerjee: তৃণমূলের সংসদীয় দলের কোন্দল চরমে, এমনই অভিযোগ করে তৃণমূলের লোকসভার সাংসদদের হোয়াটসঅ্যার গ্রুপের চ্যাট ফাঁস করলেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। সেখানেই ধরা পড়েছে কীর্তি আজাদ ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লিখিত বাগযুদ্ধ। আর এনিয়েই সাংবাদিক বৈঠক করে দলেরই দুই সাংসদের নামে তুলোধনা কল্যাণের। নাম না নিয়ে মহিলা সাংসদকে আক্রমণ। বেনজির সংঘাত তৃণমূলে।
ঘটনার সূত্রপাত, এক্স হ্যান্ডেলে অমিত মালব্যর পোস্ট থেকে। ৪ এপ্রিল তৃণমূল সাংসদের মধ্যে বচসা হয় বলে খবর। নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিতে গিয়ে অশান্তি হয় বলে দাবি মালব্যর। তাঁর পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, প্রকাশ্যে দুই সাংসদের মধ্যে বিতর্ক হয়। পুলিশ কর্মীদের হস্তক্ষেপ চান সাংসদ। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সাংসদদের কথা কাটাকাটিতে নিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে অমিত মালব্যর প্রশ্ন, বহুমুখী আন্তর্জাতিক মহিলা আসলে কে?

সূত্রের খবর, সংসদ ভবনে একটি মিষ্টির দোকান খোলার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। কীর্তি আজাদ কিছু মহিলা সাংসদদের স্বাক্ষর নিয়ে সংসদে মিষ্টি দোকান খোলার উদ্যোগ নেন। চিঠিতে সই করানোর উদ্যোগ নেন তিনি। বিরোধিতা করে সই করেননি কল্যাণ। সকলকে সই না করার হুইপও জারি হয় বলে খবর। কীর্তি আজাদের কথার বিরোধিতা করাতেই দলেরই মহিলা সাংসদ কল্যাণকে কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ।
বিজেপি ভিডিও ফাঁস করতেই সাংবাদিক বৈঠক করেন কল্যাণ। তৃণমূলেরই একজন সাংসদ ভিডিও করে বাজারে ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ কল্যাণের। শুধু বেনজির নয়, সাংবাদিক বৈঠকে দলের সাংসদদের বিরুদ্ধে বেলাগাম আক্রমণ করেন কল্যাণ। শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ বলেন, "কীর্তি আজাদ মিষ্টি দোকান করার কথা বলেন। ব্যক্তিগত ব্যবসায় ইন্টারেস্ট নই। বিরোধিতা করায় আক্রমণ। মহিলা সাংসদ কটূক্তি করেন। আমাকে জেলে ঢোকানোর কথা বলেন।"
মহিলা সাংসদ সিআইএসএফকে ডেকে তাঁরে গ্রেফতার করতে বলেন বলেও দাবি কল্যাণের। নাম না করে মহিলা সাংসদকে নিয়ে কল্যাণের আরও দাবি, "এই মহিলা সাংসদ সংসদে আমায় ছোটলোক বলেছে। মেয়েকে নিয়ে কুকথা বলেছে। ওকে সবসময় সংসদে কথা বলার জন্য বেশি সময় দিতে হবে। মহিলা সাংসদ আমার নামে কটূক্তি করেছে। মহিলা এমপি বাইরের রাজ্য থেকে এসেছে, অন্য দল থেকে বিতাড়িত।"
কল্যাণের সাফ হুঁশিয়ারি, "দিদি বলুক ইস্তফা দিতে, দিয়ে দেব। রাজনীতি করতেই হবে এরম মানে নেই। কিন্তু এই অসভ্য মহিলা এমপিকে সহ্য করব না। আদানি-মোদীর বিরুদ্ধে বলেন। অমিত শাহ, রাজনাথের বিরুদ্ধে তো বলেন না। ইংরেজি ফটর ফটর করলেই আর মহিলা বলেই আক্রমণ করা যায় না। আমরা লোকালে, ন্যাশনাল, তিনি আবার ইন্টারন্যাশনাল। সাংবাদিকদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করেন, সবাই জানেন।"
কল্যাণের নিশানায় কীর্তি আজাদ ও সৌগত রায়ও। কল্যাণ বলেন, "নারদার টাকা খাওয়ায় সৌগত রায়ের জন্য ভাবমূর্তি নষ্ট হয়নি? ভিডিও এসেছে, মঞ্চে বিড়ি খাচ্ছে বসে। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। ২০০১ থেকে আমাকে পছন্দ করেননি সৌগত। সৌগত রায়ের স্বভাবই খোঁচা দেওয়া। প্রিয়রঞ্জনকে গালাগালি দিলে এদের গায়ে লাগবে, মমতাকে দিলে লাগবে না। এরা প্রিয়রঞ্জনের লোক। চোরগুলো সব এক জায়গায়। কেউ আবার লন্ডনে যাচ্ছে। ২ নম্বরি লোকেদের একসঙ্গে আসতে বেশি সময় লাগে না।"












Click it and Unblock the Notifications