ত্রিপুরায় ধীরে ধীরে বিজেপির সামনে চ্যালেঞ্জে পরিণত তৃণমূল, উত্তর-পূর্বের একাধিক রাজ্যে বড় পদক্ষেপ

পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয়বারের জন্য ভোটে জেতার পরেই ত্রিপুরা (tripura) দখলে ঝাঁপিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (trinamool congress)। প্রথম থেকেই সেখানে বিজেপি (BJP) নেতৃত্বাধীন বিপ্লব দেব (Biplab Deb) সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক মেজ

পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয়বারের জন্য ভোটে জেতার পরেই ত্রিপুরা (tripura) দখলে ঝাঁপিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (trinamool congress)। প্রথম থেকেই সেখানে বিজেপি (BJP) নেতৃত্বাধীন বিপ্লব দেব (Biplab Deb) সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক মেজাজে তৃণমূল কংগ্রেস। আইপ্যাকের টিম পাঠিয়ে শুরু করলেও, তারপরেই পশ্চিমবঙ্গ থেক একাধিক মন্ত্রী ও নেতা সেখানে গিয়েছেন। গিয়েছেন ছাত্র ও যুব নেতারাও। রাজনৈতিকভাবে আক্রমণের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল।

প্রতিশ্রুতি রাখেনি বিজেপি

প্রতিশ্রুতি রাখেনি বিজেপি

তৃণমূল ত্রিপুরায় বিজেপির বিরুদ্ধে প্রথমেই যে অভিযোগ করেছে, তা হল প্রতিশ্রুতি না রাখা। ২০১৮-তে ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপির তরফে একের পর এক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল ত্রিপুরার মানুষকে। কিন্তু তার অনেক কিছুই পূরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছে ঘাসফুল শিবির।
ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজ্যের মানুষকে বোকা বানানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তৃণমূল। প্রত্যের মহকুমায় একটি করে ব্লাড ব্যাঙ্ক স্থাপনের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে তৃণমূল বলেছে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থের প্রতি নজর দেয়নি ত্রিপুরার সরকার।

আক্রমণ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে

আক্রমণ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে

তৃণমূল বিজেপিকে আক্রমণ করতে বেছে নিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াকে। গত কয়েকদিনে মাইক্রোব্লগিং সাইট কু-তে তৃণমূলের ত্রিপুরা শাখার তরফে বিপ্লব দেব সরকারের প্রতি আক্রমণ করা হয়েছে। সেখানে বিজেপির ২০১৮-র ভোটের প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানেই #TripuraDeservesBetter দিয়ে বলা হয়েছে, ত্রিপুরায় ডাবল ইঞ্জিন সরকার ব্যর্থ হয়েছে। ত্রিপুরার মানুষ এখন পরিবর্তন চাইছেন, তাঁরা বিপ্লব দেবের নির্যাতন থেকে মুক্ত হতে চাইছেন বলেও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করা হয়েছে।

রাজ্যে বেকারত্বের হার নিয়ে কটাক্ষ

রাজ্যে বেকারত্বের হার নিয়ে কটাক্ষ

উল্লেখ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিধানসভা ভোটের প্রচারে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কথা বলে ভোট ভিক্ষা করেছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন, যদি কেন্দ্র এবং রাজ্যে একই দল অর্থাৎ বিজেপি সরকার হয়, তাহলে রাজ্যের মানুষ সেখান থেকে উপকৃত হবে।
ত্রিপুরার বেকারত্বের কথা তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলা হয়েছে, একদিকে যখন সারা দেশে বেকারত্বের হার ৮.৩২ শতাংশ সেখানে ত্রিপুরায় বেকারদের কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকারের অধীনে বেকারত্বের হার ১৫.৬ শতাংশ।
তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছে ২০১৮-তে ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি তথা বিপ্লব দেব বলেছিলেন, ত্রিপুরার প্রত্যেক পরিবারের একজন করে চাকরি পাবেন। তা তো হয়নি, অন্যদিকে জাতীয় গড়ের থেকে ত্রিপুরায় বেকারত্বের হার বেড়ে গিয়েছে।

ত্রিপুরা পিছিয়েছে অনেক জায়গায়

ত্রিপুরা পিছিয়েছে অনেক জায়গায়

উচ্চশিক্ষার কথা তুলে ধরে বলা হয়েছে, ত্রিপুরায় বর্তমানে কলেজে শিক্ষার যা পরিস্থিতি, তার জন্য সরকারই দায়ী। কিন্তু ত্রিপুরার শিক্ষামন্ত্রী এব্যাপারে আগ্রহী নন। পাশাপাশি আরও অভিযোগ করে বলা হয়েছে, ত্রিপুরায় কলেজ শিক্ষাকে অবহেলা করেছে বিপ্লব দেবের সরকার। সেখানে ২৭৪ টি ফাঁকা পদের মধ্যে কেবল মাত্র ৪০ টি পূরণ করা হয়েছে। রাজ্যের কলেজগুলিতে বিজ্ঞানের ওপরে কর্মসূচি কিংবা পলিটেকনিক গড়ে তোলার জন্য কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
করোনা মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ নিয়েও কটাক্ষ করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। বলা হয়েছে, সরকার করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, যে সময় একজনও করোনায় মারা যাননি, সেই সময় বলা হয়েছিল মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। আর যখন মৃতের সংখ্যা চারশোর কাছাকাছি সেই সময় সরকারের ঘোষণা করে ক্ষতিপূরণ তুলে নেওয়া হচ্ছে

উত্তর-পূর্বে টার্গেটের রাজ্য সংখ্যা বাড়ছে

উত্তর-পূর্বে টার্গেটের রাজ্য সংখ্যা বাড়ছে

পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয়বার জয়ের পরে তৃণমূল সারা দেশে সংগঠন বাড়ানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে। উত্তর-পূর্বের ত্রিপুরা ও অসম টার্গেটে সবার ওপরে। অগাস্টে তৃণমূলে যোগ দেন শিলচরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেব। তারপর তাঁকে তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় পাঠায়। সুস্মিতা দেবও ত্রিপুরায় সক্রিয় রয়েছেন। সুস্মিতা দেব মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ত্রিপুরায় তৃণমূলের যথেষ্টই সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা বাম ও কংগ্রেস সেখানে দুর্বল আর বিজেপি তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
মেঘালয়েও প্রাক্তন কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা চলছে তৃণমূলের। তিনি ছাড়াও অন্তত একডজন কংগ্রেস বিধায়ক তৃণমূলে যোগদান করতে চলেছেন বলে জানা গিয়েছে।
তবে ত্রিপুরা নিয়ে চ্যালেঞ্জের জন্য সব থেকে আগে যাঁর কথা বলা ভাল, তিনি হলেন, তৃণমূলে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরই মধ্যে তিনি একাধিকবার ত্রিপুরায় গিয়েছেন, পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, যেদিন ত্রিপুরা থেকে ১৪৪ ধারা উঠবে, সেদিনই তিনি সেখানে পা রাখবেন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+