তৃণমূলকে ব্যাকফুটে ফেলে দিল কংগ্রেস, উপনির্বাচনে বিজেপির ‘মানিক’ সরকারের চ্যালেঞ্জ প্রাক্তনীরাই
তৃণমূলকে ব্যাকফুটে ফেলে দিল কংগ্রেস, উপনির্বাচনে বিজেপির ‘মানিক’ সরকারের চ্যালেঞ্জ প্রাক্তনীরাই
অনেক আশা নিয়ে ত্রিপুরায় পা রেখেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলায় বিজেপিকে গোহারা হারিয়ে ত্রিপুরা দখলের স্বপ্ন বুনেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই কংগ্রেসকে ভেঙে ফের ত্রিপুরায় নতুন ইউনিট তৈরি করেন তাঁরা। আশায় ছিলেন, বিজেপি ছেড়ে প্রাক্তন তৃণমূলীদের ঘরওয়াপসি হবে। কিন্তু ঘর ওয়াপসি হয়েছে তাঁদের। ঘর ওয়াপসি হয়েছে কংগ্রেসে।

সিপিএমের লাল দুর্গের অবসানে
আসলে কংগ্রেস ছেড়েই ২০১৭ সালে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন সুদীপ রায় বর্মনরা। তারপর তাঁরা যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। বিজেপি এরপর ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জিতে সিপিএমের লাল দুর্গের অবসান ঘটিয়েছিলেন ত্রিপুরায়। কিন্তু ২০১৮ সালে ত্রিপুরা-জয়ের পর থেকেই বিজেপির অন্দরে শুরু হয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।

তৃণমূলকে ব্যাকফুটে ফেলেল কংগ্রেস
কংগ্রেস থেকে তৃণমূল হয়ে বিজেপিতে যাওয়া নেতারা একদিকে হয়ে গিয়েছিলেন। সুদীপ রায় বর্মনের নেতৃত্বে তাঁদের একাংশ বিজেপি ছেড়ে আর তৃণমূলে ফিরে যাননি, তাঁরা একেবারে ফিরে এসেছেন কংগ্রেসে। ফলে মুষড়ে পড়া কংগ্রেস ফের জেগে উঠেছে ত্রিপুরায়। ত্রিপুরায় হঠাৎই তৃণমূলকে ব্যাকফুটে ফেলে উত্থান ঘটতে চলেছে কংগ্রেসের।

তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফেরার হিড়িক
আসন্ন ২০২৩ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস চেষ্টা নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে বিজেপির চ্যালেঞ্জার হয়ে ওঠার। মিশন তেইশে নামার আগে কংগ্রেস আসন্ন উপনির্বাচনের প্রাক্কালে দলের শক্তি বাড়াতে তৈরি হয়েছে। তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফেরার হিড়িক পড়েছে। গোটা নির্বাচনের আগে যেমন তৃণমূলে নাম লেখানো নেতারা ফিরে আসতে শুরু করেছিলেন কংগ্রেসে, ঠিক তেমনই ঘটতে চলেছে ত্রিপুরাতেও।

ফের প্রাণ ফিরে পেতে চলেছে কংগ্রেস
একদিকে তৃণমূল ছেড়ে নেতা-নেত্রী-কর্মীরা ফিরে আসছেন কংগ্রেসের দিকে, অন্যদিকে কংগ্রেস ছেড়ে অন্য দল গড়া নেতাদের সঙ্গেও গড়ে তুলছে সখ্য। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি টিপ্রা সুপ্রিমো প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মনের সঙ্গে অলিখিত জোট গড়ার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ফলে ত্রিপুরা রাজনীতি ফের প্রাণ ফিরে পেতে চলেছে কংগ্রেস।

কংগ্রেস-জোটই হয়ে উঠছে প্রধান প্রতিপক্ষ
ত্রিপুরায় ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক হতে বসা কংগ্রেসের কৌশলী সিদ্ধান্ত আবার ত্রিপুরার রাজ্য রাজনীতিকে আন্দোলিত করে দিল। শুধু বিজেপির কপালেই নয় কংগ্রেস চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিল তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএমকেও। ত্রিপুরার আসন্ন উপনির্বাচনে কংগ্রেস-জোটই হয়ে উঠছে প্রধান প্রতিপক্ষ। তৃণমূল ক্রমশ ব্যাকফুটে চলে যাচ্ছে।

ত্রিপুরায় তৃণমূলের কোনও ভবিষ্যৎ নেই
আগামী ২৩ জুন ত্রিপুরার উপনির্বাচন, তার আগে ত্রিপুরায় খেলা জমিয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। তৃণমূলক পাল্টা ঝটকা দিয়েছে। প্রথমত তৃণমূল ভেবেছিল সুদীপ রায় বর্মনরা তাঁদের দলেই ফিরে আসবেন, তা হয়নি। তাঁরা ফিরেছে কংগ্রেসে। তারপর সুদীপ রায় বর্মের হাত ধরে তৃণমূল ছেড়ে অনেকেই আসছে কংগ্রেসে। তাঁরা স্পষ্ট বলছে ত্রিপুরায় তৃণমূলের কোনও ভবিষ্যৎ নেই।

কংগ্রেস অক্সিজেন পেয়েছে ত্রিপুরায়
আর কংগ্রেস অক্সিজেন পেয়েই চার কেন্দ্রের উপনির্বাচনে দুটি কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। আগরতলা থেকে প্রার্থী হচ্ছেন সুদীপ রায় বর্মন আর বরদোয়ালি টাউন থেকে প্রার্থী বিজেপি ত্যাগী আশিস সাহা। এই বরদোয়ালি থেকেই ভোটে লড়বেন ত্রিপুরার নতুন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। দুই সাহার লড়াই এবার এই কেন্দ্রে। গতবার এই কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জিতেছিলেন আশিস সাহা। এবার তিনি কংগ্রেস প্রার্থী। কংগ্রেস যুবরাজনগরেও প্রার্থী দেবে। কিন্তু সুরমা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী দেবে না। তারা এই কেন্দ্রটি টিপ্রার জন্য ছেড়ে রাখছে।

বিজেপির জন্য অশনি সংকেত কংগ্রেস-জোট
কংগ্রেসের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট ২০২৩-এ কংগ্রেস নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। বিজেপির জন্য অশনি সংকেত বয়ে আনছে তারা। কংগ্রেসের এই উত্থান দেখে অঙ্ক কষা শুরু করে দিয়েছে সিপিএম ও সদ্য ত্রিপুরায় পা দেওয়া তৃণমূল। বিজেপিও চিন্তিত। কারণ টিপ্রার সঙ্গে কংগ্রেসের জোট হওয়ার অর্থ সিংহভাগ জনজাতি ভোট তাদের দিকে চলে যাবে, যা আগেরবার বিজেপির দিকে এসেছিল আইপিএফটির সৌজন্যে। এবার আইপিএফটির অস্তিত্ব নেই।












Click it and Unblock the Notifications