গোয়ায় 'খেলা হবে' শুরু করল তৃণমূল, মমতার বাংলার মতোই মূল 'টার্গেটে' কংগ্রেস
যেসব রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে, সেইসব রাজ্যে লড়াই করবে তৃণমূল, ঘোষণা করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মতো তৃণমূলের নিশানায় ছোট রাজ্য। ত্রিপুরা, অসম, কেরলের পরে এবার তৃণমূলের (trinamool congress) লক্ষ্য গোয়া
যেসব রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে, সেইসব রাজ্যে লড়াই করবে তৃণমূল, ঘোষণা করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মতো তৃণমূলের নিশানায় ছোট রাজ্য। ত্রিপুরা, অসম, কেরলের পরে এবার তৃণমূলের (trinamool congress) লক্ষ্য গোয়া (goa)। সেখানে এই সময়ে রয়েছে রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং হাওড়ার তৃণমূল সাংদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়।

গোয়াও তৃণমূলের 'খেলা হবে'
২০২২-এর ফেব্রুয়ারিতে গোয়ায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে তৃণমূলের তরফে সেখানকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছে। সেখানে গিয়েছেন রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং লোকসভার সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার তাঁরা সেখানে গিয়েছেন। তাঁরা ফিরে রিপোর্ট দিলেই পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে তৃণমূল।

গোয়ার দুই অংশের দায়িত্ব দুই সাংসদকে
তৃণমূলের দুই সাংসদ গোয়ায় যাওয়ার আগে প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাক সেখানে সমীক্ষার কাজ শেষ করেছে। আইপ্যাকের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতেই দুই সাংসদের গোয়ায় যাওয়া। ইতিমধ্যেই গোয়ায় তৃণমূলের পতাকা নিয়ে দরজায় দরজায় প্রচার শুরু হয়েছে। প্রায় সাতদিনেরও বেশি সময় গোয়ায় থাকবেন ডেরেক ও'ব্রায়েন এবং প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডেরেককে দক্ষিণ গোয়া এবং প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে উত্তর-পশ্চিম গোয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন। তাঁরা ইতিমধ্যেই গ্রামেও গিয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন।

মূল নিশানায় কংগ্রেস
১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙেই রাজ্যে তৃণমূল তৈরি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল যাদের ভাঙিয়ে নিজেদের দল ভারী করেছে, তাদের মধ্যে সব থেকে বেশি রয়েছেন কংগ্রেসিরাই। গোয়াও তাই হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই অনেক কংগ্রেস নেতা তৃণমূলের সঙ্গে সংযোগ রেখে চলছেন বলে জানা গিয়েছে। বাংলায় ক্ষমতায় আসার পরের বছরে অর্থাৎ ২০১২ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উইলফ্রেড ডিসুজার নেতৃত্বে ৪০ আসনের মধ্যে ২০ আসনে লড়াই করে ২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। আর এবার তৃণমূলের তরফে গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেসের বিধায়ক লুইজিনো ফেলেইরোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আর গোয়ায় তৃণমূলের দুই সাংসদের যাওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন বর্তমানে বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাবন্ত। যদি কংগ্রেসের তরফে ইতিমধ্যেই অভিযোগ করা হয়েছে, কংগ্রেস ভাঙিয়ে তৃণমূল কার্যত বিরোধী জোটে ভাঙন ধরাচ্ছে এবং বিজেপিকেই সুবিধা করে দিচ্ছে।

ভিত্তি সেই মাছ আর ফুটবল
গোয়া আর বাংলার মধ্যে যে দুটি বিষয়ে সব থেকে বেশি মিল রয়েছে, তা হল মাছ আর ফুটবল। দেশের ফুটবলে যে সময়ে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান আর মহামেডানের রমরমা ছিল সেই সময় কলকাতার ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছিল গোয়ার নামও। গোয়ায় ফুটবল প্রতিযোগিতা হোক কিংবা সেখানকার ফুটবলারকে কলকাতার দলে দেখালো, প্রতিযোগিতা থাকত তিন প্রধানের মধ্যে। সেই ফুটবলকেই তৃণমূল বেছে নিয়েছে তাদের পরবর্তী রাজ্য-সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে। সঙ্গে রাখা হয়েছে মাছও।

কেরলেও খেলা হবে দিবস পালন
১৬ অগাস্ট তৃণমূল বাংলায় খেলা হবে দিবস পালন করেছিল। সেই খেলা হবে দিবস তৃণমূল পালন করেছিল ত্রিপুরা এবং কেরলেও। ওই দিনের আগে থেকেই কেরলের বিভিন্ন জায়গায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্লাস্টার করা পায়ের ছবি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দিয়ে ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। তারপর জয়ীদের মধ্যে পুরস্কারও তুলে দেওয়া হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications