এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ, স্বাগত জানাল তৃণমূল
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিবাদ তীব্র হলো। নির্বাচন কমিশন এবং "গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত" তৃণমূল সরকারের মধ্যে এক গভীর "আস্থার ঘাটতি" চিহ্নিত করে সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে।
শীর্ষ আদালত এই প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে, যাকে শাসক তৃণমূল "জনগণের বিশাল জয়" বলে অভিহিত করছে।

এই "আস্থার ঘাটতি" এবং "দোষারোপের খেলা"য় হতাশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিপুল এম পাঞ্চোলির একটি বেঞ্চ একাধিক নির্দেশনা জারি করেছে। এর মাধ্যমে রাজ্যের বিতর্কিত 'এসআইআর' প্রক্রিয়া নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করার জন্য কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা বিচারকদের নিয়োগের কথা বলা হয়েছে।
আদালতের এই নির্দেশের প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল দাবি করেছে যে, এটি সংশোধন প্রক্রিয়ায় তাদের করা অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগগুলিকে সমর্থন করে। দল তাদের এক সামাজিক মাধ্যম পোস্টে জোর দিয়ে বলেছে, "বাংলার মানুষের জন্য এ এক বিশাল জয়! আজ নির্বাচন কমিশনের দাম্ভিক অহংকারের ঐতিহাসিক পতন ঘটল।"
তৃণমূল অভিযোগ করে, নির্বাচন কমিশনের রোল পর্যবেক্ষকরা "বৈধ দাবিগুলি আটকে রেখে" এবং প্রকৃত ভোটারদের নাম মুছে ফেলার চেষ্টা চালাচ্ছিল। তৃণমূলের বক্তব্য, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দ্বারা নিযুক্ত নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের হাতে সমস্ত দাবি, আপত্তি ও অসঙ্গতির মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়ে শীর্ষ আদালত "নকআউট পাঞ্চ" দিয়েছে। যা "নির্বাচন কমিশনের ওপর একটি আঘাত, কারণ তারা তার পবিত্র সাংবিধানিক কর্তব্য থেকে সরে এসেছে"।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার এই অচলাবস্থার জন্য সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকেই দায়ী করেছেন। সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ, তৃণমূল সরকার "মাঠপর্যায়ে লাগাতার বিভ্রান্তি তৈরি করছে" এবং 'এসআইআর' প্রক্রিয়ার বিরোধিতা অব্যহত রেখেছে। তাঁর কথায়, "রাজ্য প্রশাসনই এই প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্ত করছে।"
সুকান্ত মজুমদার আরও বলেন, "নির্বাচন কমিশন কেবল ভোটার তালিকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু সংশোধন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু রাজ্য শুরু থেকেই কমিশনের সঙ্গে অসহযোগিতা করেছে।" বিজেপি 'এসআইআর' প্রক্রিয়াকে ভুয়ো ভোটার বাদ দিতে অপরিহার্য মনে করে সমর্থন করে।
তবে তৃণমূলের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়াটি প্রকৃত ভোটারদের লক্ষ্যবস্তু করছে। এই রাজনৈতিক বিভাজন রাজ্যের নির্বাচনী উত্তাপ বাড়িয়েছে। উভয় দল একে অপরের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা কারচুপির চেষ্টার অভিযোগ করছে, যা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, যৌক্তিক অসঙ্গতির তালিকায় থাকা এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় থাকা ব্যক্তিদের দাবি ও আপত্তি বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা নিষ্পত্তি করবেন। যৌক্তিক অসঙ্গতিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে বংশানুক্রমিক যুক্তিতে পিতা-মাতার নামের অমিল, অথবা ভোটার ও পিতা-মাতার বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম বা ৫০ বছরের বেশি হওয়া।
শীর্ষ আদালত কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিক ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে, যাতে 'এসআইআর' প্রক্রিয়া সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়। এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দিয়েছে, যেখানে শাসক তৃণমূল ও বিরোধী বিজেপি উভয়ই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা কারচুপির অভিযোগ করছে।












Click it and Unblock the Notifications