ফের 'একলা চলো রে''! দিল্লিতে বিরোধী বিক্ষোভে না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে মোদী-শাহকে নিশানা তৃণমূলের
ফের 'একলা চলো রে''! দিল্লিতে বিরোধী বিক্ষোভে না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে মোদী-শাহকে নিশানা তৃণমূলের
সংসদের বাইরে বিরোধীদের (opposition) কর্মসূচিতে ফের গরহাজির তৃণমূল (trinamool congress) । গত সাতদিনে এনিয়ে দ্বিতীয় ঘটনা। যা নিয়ে অবশ্য ব্যাখ্যা দিয়েছে তৃণমূল। যদিও সরকারপক্ষের কটাক্ষ ঐক্য গড়ে ওঠার আগেই ফাটল। অন্যদিকে এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে তৃণমূল মোদী-শাহকে আক্রমণ করেছে।

সময়ের আগে অধিবেশন শেষ করায় প্রতিবাদ
বুধবারই লোকসভার অধিবেশন শুরুর পরেই অধ্যক্ষ ওম বিড়লা লোকসভার অভিবেশন অনির্দিষ্ট কালের জন্য মুলতুবি করে দেন। লোকসভার অধিবেশন চলার কথা ছিল শুক্রবার পর্যন্ত। এদিন তা নিয়ে সংসদের বাইরে বিক্ষোভ দেখান বিরোধী সাংসদরা। পাশাপাশি সংসদে মহিলা সাংসদদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। এর মধ্যমনি ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। এই বিক্ষোভে সামিল কংগ্রেস ছাড়াও সামিল হয়েছিল এনসিপির শারদ পাওয়ার এবং শিবসেনার সঞ্জয় রাউত। এছাড়াও ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি, সিপিআই, সিপিএম, আরএসপি, মুসলিম লিগ এবং কেরল কংগ্রেস। তবে এদিনের বিক্ষোভে দেখা যায়নি তৃণমূল কংগ্রেসকে। যা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। এদিনের কর্মসূচিতে তৃণমূলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলেই জানা গিয়েছে।

একইমাসে দ্বিতীয় ঘটনা
তবে বিরোধী ঐক্য জোরদার করার ডাক দেওয়া তৃণমূলের বিরোধী কর্মসূচিতে না থাকার ঘটনা এ মাসেই দ্বিতীয়বার। গত ৭ অগাস্ট যন্তর মন্তরে কিসান সংসদে গিয়েছিলেন বিরোধী দলের নেতারা। সেথানে আরজেডি, আপ, অকালি, শিবসেনা, ডিএমকে-সহ ১৩ টি দল থাকলেও, তৃণমূলের কোনও সদস্যকে দেখা যায়নি। তবে এটা যে দলেরই নির্দেশ ছিল, তা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছিল তৃণমূলের তরফ থেকে। যেমনটি করা হয়েছে এদিন।

একলা চলো রে-র ব্যাখ্যা তৃণমূলের
এদিন দুপুরে দিল্লিতে তৃণমূলের তরফে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়। সেখানে তাদের এদিনের অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তারা বলেছে, এদিনের কর্মসূচি ছিল কংগ্রেস ও তাদের সহযোগীদলগুলির। তৃণমূলের দাবি এদিন কংগ্রেসের সঙ্গে যেসব দল ছিল তারা কোনও না কোনও রাজ্যে তাদের শরিকদল। অব্যাপারে তারা তামিলনাড়ু এবং মহারাষ্ট্রের উদাহরণ টেনেছে। তৃণমূল বলেছে, মহারাষ্ট্রে কংগ্রেসের জোট শরিক এনসিপি এবং শিবসেনা এদিনের কর্মসূচিতে হাজির ছিল। অন্যদিকে তামিলনাড়ুতে ডিএমকে সরকাকের শরিক কংগ্রেস ছাড়াও, সিপিএম এবং সিপিআই।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে একাই মোকাবিলা করেছে তৃণমূল
এদিন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপিকে একাই মোকাবিলা করেছে এবং জয়ী হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস তৃণমূলের বিরোধিতা করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। সৌগত রায় বলেন, নীতিগতভাবেই এদিনের কর্মসূচিতে না থাকার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল বিরোধী ঐক্যের পক্ষে। তাঁর আরও দাবি বিরোধী ঐক্য অটুট রয়েছে।

রাহুলেই অ্যালার্জি তৃণমূলের!
আগেকার বিভিন্ন বিরোধী কর্মসূচিতে তৃণমূলের না থাকার সময় দেখা গিয়েছে, সেইসব কর্মসূচিতে মধ্যমনি রাহুল গান্ধী। সে ৭ অগাস্টে যন্তরমন্তরের কর্মসূচি হোক কিংবা খারগের ডাকা বিরোধী দলগুলির বৈঠক। কোথাও কোনও সদস্যের উপস্থিত না থাকা আবার কোথাও লোকসভা কিংবা রাজ্যসভার নেতাদের উপস্থিত না থাকা। তেমনই একটি উদাহরণ হল কনস্টিটিউশন ক্লাবে ডাকা রাহুলের প্রাতরাশ বৈঠকেও তৃণমূলের লোকসভা কিংবা রাজ্যসভার নেতা কিংবা মুখ্যসচেতকরা উপস্থিত ছিলেন না। অথচ রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খারগে তৃণমূলের ৬ সাংসদের সাসপেন্ড হওয়ার ঘটনায় সংসদের বাইরে ও ভিতরে তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। অন্যদিকে গতমাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি সফরে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করার সময় সেখানে রাহুল গান্ধীও উপস্থিত ছিলেন। ফলে কোনও কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে তৃণমূলের সমস্যা কেন, সেই প্রশ্নের হিসেব মিলাতে পারছেন না অনেক বিরোধী নেতাই।

ফের মোদী-শাহকে নিশানা
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে মোদী-শাহকে নিশানা করেন তৃণমূলের সৌগর রায় এবং ডেরেক ও'ব্রায়েনরা। তাঁরা বলেন, সংসদে প্রতি ১০ টি বিলে ৪ টি করে অর্ডন্যান্স করেছে কেন্দ্র। সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা না করেই বিল পাশ করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। মোদী-শাহকে তৃণমূল ৭ টি প্রশ্ন করেছে। কিন্তু কোনও প্রশ্নের উত্তর তারা পায়নি। কেন তাঁরা সংসদে ছিলেন না, তা নিয়েও প্রশ্ন করেন সৌগত রায় এবং ডেরেক ও'ব্রায়েন। তাঁরা অভিযোগ করেন, সংসদে রীতিমতো গুণ্ডামি করেছে কেন্দ্র। পাশাপাশি বিজেপি সংসদকে অপমান করেছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।












Click it and Unblock the Notifications