তৃণমূলও গড়ল ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি, জাঙাঙ্গিরপুরীর ঘটনার সত্যানুসন্ধানে দিল্লি পাড়ি
বিজেপির ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি রামপুরহাটের বগটুইকাণ্ড ও হাঁসখালির ধর্ষণ-কাণ্ডের অনুসন্ধানে গিয়েছিল। এবার তৃণমূলও তাদের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিকে পাঠাচ্ছে দিল্লিতে।
বিজেপির ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি রামপুরহাটের বগটুইকাণ্ড ও হাঁসখালির ধর্ষণ-কাণ্ডের অনুসন্ধানে গিয়েছিল। এবার তৃণমূলও তাদের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিকে পাঠাচ্ছে দিল্লিতে। দিল্লিতে বুলডোজার কাণ্ডের তদন্তে যাচ্ছেন তৃণমূলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির সদস্যরা। সেই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিতে রয়েছে তৃণমূলের সাংসদ-বিধায়করা।

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা যেভাবে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গড়ে পাঠিয়েছিলেন রামপুরহাট ও হাঁসখালিতে, তেমনই তৃণমূল সুপ্রিমোও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করলেন। সেই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিতে রয়েছেন সাসংদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মানস ভুঁইয়া, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, প্রাক্তন সাংসদ অর্পিতা ঘোষ এবং বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের পর সাসংদ কাকলি ঘোষ দস্তিাদার বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও যেভাবে জুলুম করা হয়েছে, অত্যাচার করা হয়েছে, তা নিয়ে নিন্দার ভাষা নেই। আমরা সেখানে যাচ্ছে, কথা বলব। পাল্টা দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ তথা সর্বভারতীয় সহ সভপাতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, দিল্লিতে যোগ্য লোক আছে, সেখানে সঙ্গে সঙ্গেই পদক্ষেপ হয়, কিন্তু এ রাজ্যে হয় না।
উল্লেখ্য, রবিবার হনুমান জয়ন্তীকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গিরপুরীতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হয়েছিল। তারপর বুধবার বুলডোজার দিয়ে নর্থ দিল্লিতে অবৈধ নির্মাণ ভাঙা হয়। অভিযোগ, শুধু সংখ্যালঘুদের বাড়ি ঘরই নয়, বুলডোজার চালানো হয় তাঁদের ধর্মীয় উপাসনালয় বা মসজিদেও। সুপ্রিমে কোর্টের নির্দেশ অমান্য করেই বুলডোজার চালানো হয় বলে অভিযোগ।
সুপ্রিম কোর্ট সকালেই রায় দিয়েছিল, বুলডোজার থামাতে হবে। কিন্তু তারপরেও তামেনি বুলডোজার। এরপর কোর্টের অর্ডার হাতে ঘটনাস্থলে পঁছে বুলডোজার থামান সিপিএমের পলিটব্যুরোর সদস্য বৃন্দা কারাত। তিনি সটান দিয়ে কোর্টের অর্ডার হাতে দাঁড়িয়ে পড়েন বুলডোজারের সামনে। বুলডোজার আপাতত থামে। সুপ্রিম কোর্ট এই ভাঙচুরের উপর দু-সপ্তাহের স্থগিতাদেশ জারি করেছে।
উল্লেখ্য, জাহাঙ্গিরপুরীতে মূলত বাঙালি মুসলিমরা বসবাস করেন। দিল্লির ওই অঞ্চলে হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের মানুষেরা থাকেন। এদিন সেখানে গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে তুলে ধরবেন। তারপর তাঁরা রিপোর্ট তৈরি করে জানাবেন তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছে। তার পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ মনে করছে, বিজেপি বাংলায় এসে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কররা পর তৃণমূল তার পাল্টা দিল্লিতে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে। বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁরা এই ঘটনাকে ইস্যু করতে চাইছে। সংখ্যালঘুদের উপর যেভাবে বুলডোজার চালানো হয়েছে, তার প্রতিকার চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস।












Click it and Unblock the Notifications